ঢাকা | বঙ্গাব্দ

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথম ২০০ উইকেটের মালিক রশিদ খান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 30, 2026 ইং
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথম ২০০ উইকেটের মালিক রশিদ খান ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম বোলার হিসেবে অনন্য এক নজির গড়েছেন আফগানিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খান। পাকিস্তানের সাবেক অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি ২০১০ সালে যখন এই ফরম্যাটে প্রথম বোলার হিসেবে ৫০ উইকেট শিকার করেছিলেন, ক্রিকইনফোর হিসাব অনুযায়ী তখন রশিদের বয়স ছিল মাত্র বারো বছর।

টেলিভিশনের পর্দায় শহীদ আফ্রিদির বোলিং শৈলী ছোটবেলায় ভীষণ আকৃষ্ট করেছিল কিশোর রশিদকে। সেই সময় ব্যাটিংয়ে বেশ পারদর্শী থাকলেও আফ্রিদির মতো করেই ধীরে ধীরে লেগ স্পিন বোলিংয়ে নিজের দক্ষতা অর্জন করেন তিনি। ১৬ বছর দীর্ঘ যাত্রার পর আজ এমন এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন রশিদ, যা দেখে কেবল আফ্রিদি নন, মুগ্ধ হবেন বিশ্বের সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীরাও।

বহু আগে থেকেই আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে ইতিহাসের অন্যতম সেরা বোলার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন এই আফগান তারকা। সেই ধারাবাহিকতায় শারজায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টি–টুয়েন্টি ম্যাচে ১৯ রানের জয় পাওয়ার দিনে ঐতিহাসিক মাইলফলকটি স্পর্শ করেন তিনি। প্রতিপক্ষ ব্যাটার তাদিনাওয়াশে মারুমানিকে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলে আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে প্রথম বোলার হিসেবে ২০০ উইকেটের মাইলফলক অর্জন করেন ২৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

পুরুষ ও নারী উভয় ক্রিকেটের সামগ্রিক পরিসংখ্যান বিবেচনায় প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এই চূড়ায় পৌঁছালেন আফগান স্পিনার। এর আগে ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে প্রথম বোলার হিসেবে ১০০ উইকেট শিকার করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী দলের স্পিনার আনিসা মোহাম্মদ। পরবর্তীতে দুই বছর আগে ১৫০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়ে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি পেসার টিম সাউদি।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নিউজিল্যান্ডের সেই সাউদিকে পেছনে ফেলে আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি ফরম্যাটের সর্বকালের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন রশিদ খান। আর এবার কোনো বোলার হিসেবে প্রথমবারের মতো ২০০ উইকেটের জাদুকরি সংখ্যা স্পর্শ করার অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়লেন তিনি।

দীর্ঘ ১১ বছরের আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি ক্যারিয়ারে মাত্র ১২০টি ইনিংস খেলে এই দুই শ উইকেটের কোটা পূরণ করেছেন রশিদ। এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় তাঁর বোলিং গড় ১৪.৬ এবং ইকোনমি রেট ৬.১৪। পরিসংখ্যান অনুযায়ী তাঁর বল থেকে প্রতি ১৩.৭টি ডেলিভারি পরপর একটি করে উইকেট এসেছে।

রশিদ খানের অসাধারণ বোলিং দক্ষতার প্রকৃত চিত্র ফুটে ওঠে এই তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইংল্যান্ডের লেগ স্পিনার আদিল রশিদের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি ক্যারিয়ারে আদিল ১৪৬ ইনিংসে বল করে শিকার করেছেন ১৭১টি উইকেট। ২৩.৪২ গড়ে তাঁর ইকোনমি রেট ৭.৫৬ এবং প্রতি ১৬.৫ ডেলিভারি পর তিনি একটি করে উইকেট লাভ করেছেন।

আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকার প্রথম চারজন বোলারই স্পিনার। বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, এই শীর্ষ চার বোলারের মধ্যে তিনজনই হলেন লেগ স্পিনার। এই তালিকায় ১১৬ ইনিংসে ১৬৫ উইকেট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন হংকংয়ের অফ স্পিনার এহসান খান। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের লেগ স্পিনার ইশ সোধি ১৩৫ ইনিংসে বোলিং করে এহসানের সমান ১৬৫ উইকেট নিয়ে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছেন।

রশিদ খানের শিকার করা মোট দুই শ উইকেটের মধ্যে দেড় শ উইকেটই এসেছে এশিয়ার মাটিতে, যা এই মহাদেশের উইকেটে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড। এর মধ্যে কেবল সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতেই তিনি পঁচাত্তরটি উইকেট লাভ করেছেন। নির্দিষ্ট কোনো একটি দেশে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের এই তালিকায় এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ।

নির্দিষ্ট দেশের মাঠে সর্বোচ্চ উইকেটের তালিকায় নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ৬৬ ইনিংসে ৯১ উইকেট নিয়ে সবার ওপরে রয়েছেন টিম সাউদি। এ ছাড়া মালয়েশিয়ার স্পিনার বিরানদীপ সিং নিজের দেশের মাটিতে ৬৭ ইনিংসে ৮৯ উইকেট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন এবং ঠিক তারপরেই অবস্থান করছে আরব আমিরাতে রশিদের অর্জিত উইকেটসংখ্যা।

আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি ফরম্যাটে রশিদ খানের দুই শ উইকেটের সিংহভাগ অর্থাৎ ১৪২টি উইকেট এসেছে ইনিংসের মাঝের ওভারগুলোতে অর্থাৎ ৭ থেকে ১৬ ওভারের মধ্যে। এ ছাড়া ডেথ ওভারে অর্থাৎ ১৭ থেকে ২০ ওভারের মধ্যে তিনি শিকার করেছেন ৫৬টি উইকেট। ইনিংসের প্রথম ছয় ওভার বা পাওয়ার প্লের সময় মাত্র দুটি উইকেট পেয়েছেন তিনি, যদিও এই সময়ে তিনি তুলনামূলক কম বোলিং করায় মাত্র ১০২টি বল করেছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পাশাপাশি স্বীকৃত টি–টুয়েন্টি ক্রিকেটেও সর্বাধিক উইকেট শিকারের দিক থেকে সবার শীর্ষে অবস্থান করছেন রশিদ খান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্বের প্রথম বোলার হিসেবে স্বীকৃত টি–টুয়েন্টিতে সাত শ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন তিনি।

গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা ক্রিকেটার ডোয়াইন ব্রাভুকে পেছনে ফেলে স্বীকৃত টি–টুয়েন্টি সংস্করণে সর্বকালের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়ার পর থেকেই অপ্রতিরোধ্য গতিতে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছেন রশিদ।

নিজের ১১ বছরের টি–টুয়েন্টি ক্যারিয়ারে মোট ৫৪৬টি ইনিংস খেলে রশিদ খানের বর্তমান শিকারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪২টিতে। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা সুনীল নারাইনের ১৫ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ার রয়েছে। দীর্ঘ ৬০৭ ইনিংসে বল করে ক্যারিবীয় এই স্পিনারের শিকার ৬৫৮টি উইকেট। এ ছাড়া ডোয়াইন ব্রাভু ৫৪৬ ইনিংসে ৬৩১ উইকেট সংগ্রহ করে এই তালিকার তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আকাশে ধোঁয়ার কুণ্

ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আকাশে ধোঁয়ার কুণ্