নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বাংলাদেশ ফুটবল লিগের প্রতিযোগিতায় নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে এসে অপ্রত্যাশিতভাবে পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে ঐতিহ্যবাহী দল আবাহনী লিমিটেড। গোপালগঞ্জ স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে আকাশি-নীল জার্সিধারীদের দুই এক গোলের ব্যবধানে পরাজিত করেছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন।
ম্যাচটিতে ব্রাদার্সের জয়ের নেপথ্য নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড সৈয়দ আলী রেজা। দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে তিনি একাই বল জড়িয়েছেন প্রতিপক্ষের জালে, যা নিশ্চিত করেছে তাঁর দলের অমূল্য তিন পয়েন্ট।
ম্যাচের প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের বড় ধরনের ভুলকে কাজে লাগিয়ে প্রথম গোলের দেখা পায় ব্রাদার্স। নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে লম্বা দূরত্বে বাড়ানো বল প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয় আবাহনীর ডিফেন্ডাররা।
সেই সুযোগে ডি-বক্সের কাছাকাছি বল পেয়ে যান ফরোয়ার্ড আলী রেজা এবং নিখুঁত এক পায়ের টোকায় বল সহজেই গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে জালে পাঠান তিনি। প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত এই এক গোলের ব্যবধানেই এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ব্রাদার্স।
বিরতির বাঁশি বাজার পর মাঠের খেলায় দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আকাশি-নীলেরা এবং ম্যাচে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে। একটি নিখুঁত ও পরিকল্পিত ফ্রি-কিক থেকে বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন মিডফিল্ডার রবিউল হাসান।
তাঁর জাদুকরী বাঁ পায়ের নিচু ও গড়ানো শটে পরাস্ত হয় গোলরক্ষক, যার ফলে স্কোরলাইন এক এক সমতায় আসে। এই গোলের সুবাদে ম্যাচে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় মারুফুল হকের শিষ্যরা।
প্রতিপক্ষকে ধরে ফেলার পর পূর্ণ পয়েন্ট অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে আক্রমণাত্মক কৌশল বেছে নেয় মারুফুল হকের দল। তবে কাঙ্ক্ষিত জয়সূচক গোলের সন্ধানে রক্ষণভাগ ফাঁকা করে অতিরিক্ত আক্রমণ চালাতে গিয়ে উল্টো বিপদ ডেকে আনে তারা।
জাতীয় দলের অভিজ্ঞ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার বাড়ানো একটি লম্বা বল বুক দিয়ে নামিয়ে দ্রুত গতিতে ডি-বক্সে প্রবেশ করেন আলী রেজা। আবাহনীর ডিফেন্ডার বাবলু সেই আক্রমণ প্রতিহত করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন এবং সুযোগসন্ধানী পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড ঠান্ডা মাথায় বল জালে ঠেলে দেন।
ম্যাচের একষট্টিতম মিনিটে মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একটি অনাকাঙ্ক্ষিত অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়। আবাহনীর নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড ওকাচি মেজাজ হারিয়ে ব্রাদার্সের ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার সান্তানাকে সজোরে ধাক্কা দেন।
তার জবাবে সান্তানাও ক্ষিপ্ত হয়ে ওকাচিকে পাল্টা ধাক্কা দেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে ম্যাচ রেফারি সঙ্গে সঙ্গে দুজনকেই সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন।
এই ম্যাচে আবাহনীর গোলপোস্টের নিচে প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন মাহফুজ হাসান। প্রথম গোল হজম করার ক্ষেত্রে তাঁর কিছু ব্যক্তিগত দায় ও ভুল অবস্থান ছিল।
তবে গোলরক্ষক মিতুল মারমার অনুপস্থিতিতে সুযোগ পেয়ে তিনি ম্যাচে চমৎকার দুটি সেভও করে নিজের উপযোগিতা প্রমাণ করেন। তা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত দলের পরাজয় এড়াতে পারেননি এই তরুণ গোলকিপার।
এবারের ঘরোয়া বাংলাদেশ লিগে চার ম্যাচ মাঠে নেমে এটিই হলো আবাহনীর প্রথম কোনো পরাজয়ের লজ্জা। একটি ড্রয়ের মাধ্যমে চলতি লিগ অভিযান শুরু করার পর তারা টানা দুই ম্যাচে দারুণ জয় তুলে নিয়েছিল।
অন্যদিকে, নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচের দুটিতে ড্র এবং একটিতে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল ব্রাদার্স। অবশেষে চতুর্থ ম্যাচে এসে চলতি মৌসুমে তাদের প্রথম জয়ের মধুর স্বাদ পেল ব্রাদার্স ইউনিয়ন।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর