নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
নতুন প্রণীত নীতিমালা অনুযায়ী দেশের সড়কে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট আর্থিক ফি ও নানা শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এই নির্দেশনার লক্ষ্য তিন চাকার এই যানগুলোর চলাচল একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা।
নীতিমালা অনুযায়ী, মাত্র দুই জন যাত্রী বহন করতে সক্ষম এমন একটি ই-রিকশার প্রথমবার নিবন্ধনের জন্য এককালীন আট হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া যানটির লাইসেন্স প্রতি বছর সচল রাখতে চার হাজার টাকা হারে বার্ষিক নবায়ন ফি ধার্য করা হয়েছে।
অন্যদিকে, একটু বড় আকৃতির এবং চার জন যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ই-রিকশার ক্ষেত্রে নিবন্ধনের খরচ কিছুটা বেশি রাখা হয়েছে। এই ধরনের চার আসনের প্রতিটি অটোরিকশার প্রাথমিক নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে দশ হাজার টাকা এবং এর বার্ষিক নবায়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা।
নিবন্ধন ও নবায়নের আর্থিক ব্যয়ের বাইরে যানগুলোর যান্ত্রিক সক্ষমতা যাচাইয়ের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। সেই উদ্দেশ্যে প্রতিটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ফিটনেস বা উপযুক্ততা সনদ প্রাপ্তির জন্য বাধ্যতামূলকভাবে এক হাজার টাকা ফি জমা দিতে হবে।
কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যথাযথ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন নিবন্ধন কিংবা হালনাগাদ নবায়ন ব্যতিরেকে কোনো ই-রিকশা বা অটোরিকশা রাজপথ কিংবা গলিতে চলাচল করতে পারবে না। অবৈধ যান চলাচল রোধে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়েও সুনির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। একজন নাগরিক তাঁর নিজ নামীয় একটি মাত্র জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সবোর্চ্চ পাঁচটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মালিকানা ও নিবন্ধন করতে পারবেন।
নিবন্ধনের পর প্রতিটি অটোরিকশার সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিবন্ধিত প্রতিটি যানে আবশ্যিকভাবে আধুনিক কিউআর কোডযুক্ত একটি স্বতন্ত্র নম্বর প্লেট লাগিয়ে দিতে হবে।
এই বিশেষ নম্বর প্লেটটি যানের এমন একটি উন্মুক্ত ও স্পষ্ট স্থানে প্রদর্শন করতে হবে, যেখান থেকে ট্রাফিক পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খুব সহজেই গাড়িটি দূর থেকে শনাক্ত করতে পারে।
যানবাহনটির স্থায়ী কার্যকাল বা অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল সম্পর্কেও নীতিমালায় সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। প্রতিটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সর্বোচ্চ আয়ুষ্কাল বা ইকোনমিক লাইফটাইম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ বছর।
নির্ধারিত এই ১২ বছরের সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অটোরিকশার নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে এবং সেটির চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর