ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে আগাম শীতের সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে চাদ দামে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 21, 2026 ইং
ঠাকুরগাঁওয়ে আগাম শীতের সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে চাদ দামে ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

সকালে কুয়াশাচ্ছন্ন আবেশের মাঝেও বেগুনি ফুলের চাদরে ঢাকা খেতগুলোতে চলছে আগাম শিমের ফলন তোলার কর্মযজ্ঞ। শীত নামার আগেই বাজারে চলে আসা এই সবজি বিক্রি করে উৎপাদনকারীরা শুরুতে দেড়শ টাকা পর্যন্ত দর পেলেও বাজারে জোগান বাড়ার সাথে সাথে দাম কমতে শুরু করেছে।

জেলার সদর উপজেলার জামালপুর ও পীরগঞ্জ উপজেলার খনগাঁও এলাকার মাঠগুলোতে এখন আগাম শিমের ব্যাপক চাষ দেখা যাচ্ছে। গত রোববার সকালে সদর উপজেলার বালিয়াখুড়ি ও পীরগঞ্জের চানগাঁও প্রান্তর ঘুরে দেখা মেলে কচি শিমের থোকা এবং কৃষকদের ব্যস্ততা। অধিক জোগান তৈরির আগেই ভালো মূল্যে ফসল বিক্রি করে মুনাফা ঘরে তোলার তাগিদ রয়েছে চাষিদের মাঝে।

কৃষকদের ভাষ্যমতে, অন্যান্য কৃষিপণ্যের তুলনায় এই সবজির চাষাবাদে খরচ কম এবং ফলন দ্রুত আসে বিধায় মৌসুমের প্রারম্ভে বাজারে পাঠাতে পারলে ভালো মূল্য নিশ্চিত করা যায়। তবে বাজারে একই সময়ে প্রচুর পরিমাণ শিম চলে আসলে দ্রুত দরপতন ঘটে, যা লাভের যেমন সম্ভাবনা তৈরি করে তেমনি লোকসানের শঙ্কাও বাড়িয়ে দেয়।

বর্তমানে মাঠপর্যায়ে পাইকাররা এই সবজি কিনছেন প্রতি কেজি পঁচাশি টাকায় এবং তা পাইকারি আড়তে পৌঁছে বিক্রি হচ্ছে একশো দশ টাকায়। অন্যদিকে জেলা শহরের কালীবাড়ি বাজারে সাধারণ ক্রেতাদের একই পণ্য কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রতি কেজি একশো চল্লিশ টাকা।

সদরের বালিয়াখুড়ির চাষি দেলোয়ার হোসেন পঁচিশ শতক জমিতে এই আবাদ করে চার ধাপে ফসল তুলেছেন। প্রথম ধাপে দশ কেজি দেড়শ টাকায়, দ্বিতীয় ধাপে আঠারো কেজি একশ বিশ টাকায়, তৃতীয় ধাপে ত্রিশ কেজি একশ টাকায় এবং সর্বশেষ একশো কেজি পঁচাশি টাকা দরে বিক্রি করে মোট পনেরো হাজার টাকা পেয়েছেন।

উক্ত কৃষকের উৎপাদনে বীজ, সার, কীটনাশক ও মাচা বাবদ কুড়ি থেকে বাইশ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে এবং জমিতে আরও ফসল থাকায় ভালো দাম পেলে লাভ আসবে বলে তিনি আশাবাদী। পীরগঞ্জের চানগাঁও নিবাসী হামিদুল ইসলাম আটচল্লিশ বছর বয়সে তেত্রিশ শতক জমিতে চাষ করে ইতোমধ্যে দুই মণ সবজি বিক্রি করেছেন, যার সূচনা মূল্য ছিল একশ চল্লিশ টাকা এবং গত শনিবারে তা নব্বই টাকায় নামে।

একই উপজেলার শিমুলপুর নিবাসী পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী সাদেকুল ইসলাম ছয় বছর ধরে পঁচিশ শতক জমিতে এই চাষ করে আসছেন এবং এবার তাঁর প্রায় তেইশ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গত বছর একই ভূমি থেকে নব্বই মণ ফসল পেলেও শুরুর দেড়শ টাকা দাম দ্রুত কমে একপর্যায়ে দশ টাকা কেজিও বিক্রি করতে হয়েছিল তাঁকে বলে জানান তিনি।

বালিয়াখুড়ির পরিমল রায় পঞ্চাশ শতক জমিতে চাষ করে দুই দিন আগে পঞ্চান্ন কেজি একশ দশ টাকায় এবং শনিবার সকালে পঁচিশ কেজি পঁচাশি টাকা দরে বিক্রি করেছেন। তাঁর পাশের জমিতেই দশ বছর ধরে চাষ করা আশরাফুল ইসলামের বারো হাজার টাকা ব্যয়ে ইতিমধ্যে প্রায় দশ হাজার টাকার ফসল বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে।

তবে এই চাষাবাদে নানা ঝুঁকিও রয়েছে বলে জানান চানগাঁও গ্রামের বাষট্টি বছর বয়সী শরিফুল ইসলাম। তাঁর মতে, অতিবর্ষণ, অকাল বৃষ্টি ও অতিরিক্ত গরমে ফুল ঝরে পড়া, শিকড় পচে যাওয়া এবং ফল ছিদ্রকারী কিংবা জাব পোকার আক্রমণের মতো সমস্যায় বাড়তি বালাইনাশক ব্যবহার করতে হয় এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় খরচ বেড়ে যায়।

উৎপাদনস্থল থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে দামের বড় ফারাক দেখা যায়, যার নেপথ্যে থাকা পীরগঞ্জের লোহাগাড়া নিবাসী পাইকারি সরবরাহকারী জহিরুল ইসলাম জানান যে সংগ্রহের পর বাছাই প্রক্রিয়ায় কিছু বাদ পড়ে এবং শ্রমিক ও পরিবহন খরচ যোগ করে বিক্রিমূল্য নির্ধারণ করতে হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি শীতকালীন মৌসুমে আবাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা এখনো ঠিক না হলেও গত বছর জেলায় পাঁচশ পঁয়তাল্লিশ হেক্টর জমিতে আগাম শিম চাষ হয়েছিল যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়।

জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান যে অঞ্চলটি সবজি চাষের উপযোগী এবং সাধারণত মার্চ-এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত বীজ বপন করা হয়। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবার ফলন ভালো হয়েছে এবং কৃষকদের মানসম্মত বীজের পাশাপাশি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তবে সরবরাহ বৃদ্ধির সাথে বাজার দরের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সরিষাবাড়ীতে ঝিনাই নদীর ওপর ৪০ কোটি টাকার সেতুর উদ্বোধন

সরিষাবাড়ীতে ঝিনাই নদীর ওপর ৪০ কোটি টাকার সেতুর উদ্বোধন