নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ঠাকুরগাঁও জেলার একটি ব্যতিক্রমী জাদুঘরে কাতার ও তুরস্কসহ মোট দশটি ভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নানা নিদর্শন প্রদর্শিত হচ্ছে। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো দর্শনার্থীদের সামনে বিভিন্ন রাষ্ট্রের লোকশিল্প ও ঐতিহ্য তুলে ধরা, যাতে তারা সহজেই সেসব দেশের জীবনযাত্রা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারেন।
জাদুঘরটির এমআইএস কাম অ্যাকাউন্ট্যান্ট জীবন চন্দ্র রায় এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে, এখানে যে পুতুলগুলো প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেগুলোকে কেবল সাধারণ কোনো খেলনা হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এই পুতুলগুলো হলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজস্ব শিল্পকলা ও সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের অনন্য প্রতীক।
কচুবাড়ি উচ্চবিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান তার প্রতিকৃতি প্রকাশ করে বলেছে যে, এর আগে তারা কেবল বইয়ের পাতাতেই বিভিন্ন দেশের নাম সম্পর্কে পড়েছিল। কিন্তু সেই সব দেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাকগুলো এভাবে সরাসরি নিজের চোখে দেখার সুযোগ তাদের জীবনে এই প্রথম হলো।
এই প্রদর্শনশালার আরেকটি ভিন্ন অংশে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী গ্রামবাংলার অতীত সামাজিক জীবনের নানা জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। সেখানে থাকা নারী-পুরুষের প্রতিকৃতিগুলো মুখোমুখি গোল হয়ে বসে থাকার দৃশ্য ফুটিয়ে তোলে।
এই দৃশ্যগুলো দর্শকদের মনে করিয়ে দেয় সেই সোনালী সময়ের কথা, যখন গ্রামের খোলা উঠানে কিংবা বাড়ির বারান্দায় বসে মানুষ একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাত। সেকালে সবাই একসঙ্গে মিলে গল্প করার পাশাপাশি নিজেদের সুখ ও দুঃখের কথা ভাগ করে নিত।
বর্তমান যুগের মতো তখন কোনো ডিজিটাল প্রযুক্তির অস্তিত্ব ছিল না, তবুও মানুষের মধ্যকার পারস্পরিক যোগাযোগ এবং আন্তরিকতার মাধ্যমেই গড়ে উঠত সুদৃঢ় এক সামাজিক বন্ধন।
ঠাকুরগাঁও শহরের বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইসরাত ফারজানা এই বিষয়ে তার অনুভূতির কথা জানিয়ে বলে যে, আজকের এই স্মার্টফোনের যুগে যেখানে তারা প্রত্যেকেই ক্রমশ একা হয়ে পড়ছে, সেখানে এই ধরনের প্রতিকৃতিগুলো তাদের বড়দের মুখে শোনা পুরোনো দিনের যৌথ পরিবারের জীবনযাত্রার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর