নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ভুল তথ্য বা মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানির প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নথিপত্র ঘেঁটে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
আমদানির ক্ষেত্রে সাধারণত ভুল ট্যারিফ ক্ল্যাসিফিকেশন দেখানো হয়। এছাড়া পণ্যের প্রকৃত পরিমাণ কিংবা দাম কম দেখানোর প্রবণতাও রয়েছে।
কম শুল্কের পণ্যের আড়ালে অন্য অবৈধ বা উচ্চ শুল্কের পণ্য লুকিয়ে আনা হয়। কাস্টমস বিভাগ সম্প্রতি এমন বেশ কিছু সন্দেহজনক অনিয়ম সফলভাবে চিহ্নিত করেছে।
চিহ্নিত অনিয়মগুলোর মধ্যে রয়েছে স্ক্র্যাপ বা ভাঙাচোরা মাল ঘোষণা দিয়ে ভারী যন্ত্রপাতি ও বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি করা।
মডেলিং ক্লে বা পুতুল খেলার মাটি ঘোষণার মাধ্যমে দেশের বাজারে প্রসাধনী আমদানির ঘটনাও ধরা পড়েছে।
বিভিন্ন সাধারণ পণ্যের গভীর আড়ালে কৌশলে মোবাইল ফোন লুকিয়ে আনার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া ভুল ও ভুয়া ঘোষণায় কাপড় আমদানির ঘটনাও নতুন নয়।
এই বিষয়ে চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক এবং চট্টগ্রাম কাস্টম অ্যাসোসিয়েশনের সম্মানিত সদস্য মো. ইসমাইল খান মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেছেন যে এই ধরনের মিথ্যা ঘোষণার পেছনে প্রায় সময়ই একটি শক্তিশালী সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকে।
ইচ্ছাকৃতভাবে যারা এই মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আসছে, সেইসব অসাধু আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তবে তিনি এই সময় একটি বিশেষ সতর্কবার্তাও উচ্চারণ করেছেন। অতিরিক্ত কড়াকড়ির কারণে যেন কোনোভাবেই সাধারণ বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে নজর রাখতে বলেছেন।
বন্দর এলাকায় অনিয়ম রোধে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। একই বিষয়ে শরীফ আল আমিন এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান যে ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে কাস্টমস বিভাগ তাদের সার্বিক নজরদারি আরও জোরদার করেছে।
অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গেও নিয়মিত সমন্বয় রক্ষা করে কাজ চলছে।
বন্দরে এআইআর ছাড়াও শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ইউনিট মিথ্যা ঘোষণায় আনা এসব চালান ধরতে কাজ করে যাচ্ছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর