ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জীবনযাত্রার ত্রুটি ও পুষ্টিহীনতায় অসময়ে পাকে চুল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 30, 2026 ইং
জীবনযাত্রার ত্রুটি ও পুষ্টিহীনতায় অসময়ে পাকে চুল ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

পরিবারের কারও এই সমস্যা ছিল মানেই যে কেবল জিনগত কারণে চুল ঝরছে বা পাকছে, এমন ধারণা সবসময় সঠিক নয়। বংশগত ধারা ছাড়াও মানবদেহের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্য এবং প্রাত্যহিক জীবনযাপনের নানা ত্রুটি চুল ঝরে যাওয়া বা দ্রুত সাদা হয়ে যাওয়ার পেছনে জোরালো ভূমিকা পালন করে থাকে।

খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় উপাদানের ঘাটতি দেখা দিলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। রক্তে বা শরীরে আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন ডি কিংবা ভিটামিন বি১২-এর পরিমাণ কমে গেলে চুল খুব দ্রুত তার স্বাভাবিক রঙিন সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলতে পারে।

বিভিন্ন শারীরিক জটিলতাও এর জন্য সমানভাবে দায়ী। থাইরয়েডের নানা জটিলতা, অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটার মতো রোগ বা হঠাৎ গুরুতর কোনো শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে চুল ঝরার প্রবণতা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

অতিরিক্ত মানসিক উদ্বেগ বা টেনশন চুলের গোড়ায় অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে চুল অতি দ্রুত পেকে যায়। অন্যদিকে, ধূমপানের বদঅভ্যাস রক্তনালিগুলোকে সংকুচিত করে ফেলে এবং এর ফলে চুলের শেকড়ে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পৌঁছাতে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় বংশপরম্পরায় চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার এই অবস্থাকে অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া বা প্যাটার্ন বল্ডনেস বলা হয়ে থাকে। পুরুষদের ক্ষেত্রে মাথার সামনের দিকে কিংবা তালুতে নির্দিষ্ট ছকে টাক পড়ার সমস্যা দেখা দেয়, আর নারীদের ক্ষেত্রে সাধারণত পুরো মাথার চুলই ক্রমান্বয়ে পাতলা হয়ে পড়তে দেখা যায়।

অনেকেই জিনগত এই ত্রুটি প্রতিকার করতে নিজের ইচ্ছায় কোলাজেন বা বায়োটিন জাতীয় নানা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে শুরু করেন, যা প্রায়শই কোনো সুফল বয়ে আনে না। মূল সমস্যা যদি জিনগত সংবেদনশীলতার কারণে হয়ে থাকে, তবে সাধারণ ভিটামিন দিয়ে তা কখনো সমাধান করা সম্ভব নয়।

হঠাৎ করে চুল ঝরে যাওয়া কিংবা পাকার হার অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলে নিজে নিজে কোনো চিকিৎসা শুরু না করে একজন দক্ষ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। চিকিৎসকদের মতে, প্যাটার্ন হেয়ার লসের ক্ষেত্রে ডিএইচটি ব্লকার কিংবা মিনোক্সিডিল ব্যবহারের মাধ্যমে বেশ ভালো সুফল পাওয়া যায়।

পরিস্থিতি চরম পর্যায়ে পৌঁছালে অস্ত্রোপচার বা হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করানোর বিকল্প থাকে, যদিও এই পদ্ধতি মানুষের বংশগত প্রবণতাকে পুরোপুরি মুছে ফেলতে পারে না, কেবল হারিয়ে যাওয়া চুল ফিরিয়ে আনে। শরীরে কোনো ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক পরিপূরক গ্রহণ করলে চুল পাকার গতি কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব।

তাৎক্ষণিকভাবে চুল ঢেকে ফেলার প্রয়োজন হলে ভালো মানের হেয়ার কালার বা ডাই ব্যবহার করা যেতে পারে। জিনের প্রভাবে চুল পাকা বা পাতলা হয়ে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করা না গেলেও, উপযুক্ত সময়ে মূল কারণ নির্ণয় করে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সঠিক চিকিৎসা নিলে চুলের সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য অনেক দিন টিকিয়ে রাখা যায়।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সিন্ডিকেটের কারণেই নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন: আসিফ মাহমুদ

সিন্ডিকেটের কারণেই নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন: আসিফ মাহমুদ