নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ম্যাগাজিন কনডে নাস্ট ট্রাভেলার সম্প্রতি এশিয়ার সেরা বিশটি সমুদ্রসৈকতের একটি বিশেষ তালিকা জনসমক্ষে এনেছে। পাঠকদের সরাসরি মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত রিডার্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬ সালের এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় মহাদেশের শীর্ষ সমুদ্র উপকূলগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত এই বিবরণীতে এশিয়ার সেরা সৈকতগুলোর মধ্য থেকে প্রথম স্থানটি অর্জন করে নিয়েছে শ্রীলঙ্কার জনপ্রিয় আরুগাম বে।
ম্যাগাজিন কর্তৃপক্ষের উন্মুক্ত করা এই র্যাংকিংয়ে এশিয়ার শীর্ষ কুড়িটি সৈকতের মধ্যে শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড এবং ভারতের প্রতিটি দেশ থেকে চারটি করে উপকূল স্থান পেয়েছে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার তিনিপাড় করে এবং ফিলিপাইনের দুটি উপকূল এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পেরেছে। তবে অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এত আয়োজনের পরও এই তালিকায় কোনো জায়গা বা স্থান পায়নি বাংলাদেশের প্রখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত।
তালিকাটির একেবারে শীর্ষে অবস্থান করা শ্রীলঙ্কার আরুগাম বে বিচ একশো নম্বরের মধ্যে অভাবনীয়ভাবে অর্জন করেছে আটানব্বই দশমিক আট চার স্কোর। অন্যদিকে, দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থান অর্জনকারী থাইল্যান্ডের রাইলে বিচ নামের উপকূলটি অর্জন করেছে চুরানব্বই দশমিক চার চার স্কোর। আর তৃতীয় অবস্থানে নিজেদের নাম লিখিয়েছে মালয়েশিয়ার পেরাক রাজ্যের অন্তর্গত পাংকর দ্বীপের কোরাল বিচ, যার প্রাপ্ত স্কোর তেরানব্বই দশমিক তিন তিন।
কনডে নাস্ট ট্রাভেলার ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা হয়েছে যে, পৃথিবীর নানা প্রান্তের বিভিন্ন সমুদ্রসৈকত সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে থাকা ভ্রমণপিপাসু পাঠকদের কাছে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল। তাদের দেওয়া সেই সুনির্দিষ্ট পছন্দ এবং মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করেই এবারের রিডার্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডসের এই সুদীর্ঘ তালিকাটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
১০০ নম্বরের স্কেলে কোন সৈকত কেমন পয়েন্ট পেয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব অনুযায়ী প্রথম স্থানে থাকা শ্রীলঙ্কার আরুগাম বে বিচ পেয়েছে ৯৮.৮৪। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা থাইল্যান্ডের রাইলে বিচ পেয়েছে ৯৪.৪৪ এবং তৃতীয় স্থানে থাকা মালয়েশিয়ার কোরাল বিচ পেয়েছে ৯৩.৩৩ স্কোর।
এই ক্রমানুসারে তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে ফিলিপাইনের বোরাকে যার স্কোর ৯৩.০১ এবং পঞ্চম স্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়ার নুসা দুয়া বিচ অর্জন করেছে ৯২.৯৩ স্কোর। এছাড়া ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা মালয়েশিয়ার পেরহেনতিয়ান দ্বীপপুঞ্জের স্কোর ৯২.৭৮ এবং সপ্তম স্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়ার পান্তাই পাদাং পাদাংয়ের স্কোর ৯১.৬৭।
অষ্টম স্থানে অবস্থান করা মালয়েশিয়ার লাংকাউই দ্বীপের প্রাপ্ত স্কোর ৮৮.৬৭, নবম স্থানে থাকা শ্রীলঙ্কার বেনটোটা বিচ পেয়েছে ৮৮.৩৩ এবং দশম স্থানে থাকা থাইল্যান্ডের আও নাং বিচ অর্জন করেছে ৮৫.৫৬ স্কোর।
তালিকার বাকি অংশ অনুযায়ী একাদশ স্থানে ভারতের রাধানগর বিচ পেয়েছে ৮৫.০০, দ্বাদশ স্থানে ফিলিপাইনের এল নিডো পেয়েছে ৮৪.৮৪ এবং ত্রয়োদশ স্থানে ভারতের আগোন্ডা বিচ অর্জন করেছে ৮৪.১২ স্কোর।
চতুর্দশ অবস্থানে থাকা শ্রীলঙ্কার তাঙ্গালে বিচ পেয়েছে ৮৩.৩৩, পঞ্চদশ স্থানে থাকা ভারতের আনজুনা বিচ ৮২.৬৭ এবং ষোড়শ অবস্থানে থাকা থাইল্যান্ডের পাতায়া বিচ ৮১.৬৭ স্কোর লাভ করেছে।
সর্বশেষ পর্যায়গুলোতে সপ্তদশ স্থানে ইন্দোনেশিয়ার গিলি ত্রাওয়ানগান বিচ পেয়েছে ৮০.০০, অষ্টাদশ স্থানে থাইল্যান্ডের মায়া বে পেয়েছে ৭৯.৭৪, উনবিংশ স্থানে শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো বিচ ৭৮.৯২ এবং বিংশ বা সর্বশেষ অবস্থানে থাকা ভারতের গোকর্ণ বিচ ৭৭.৫৭ স্কোর অর্জন করেছে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর