ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মির্জাপুরের অন্তরঙ্গ দৃশ্যের অভিজ্ঞতা বললেন মোহিত ও রসিকা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 6, 2026 ইং
মির্জাপুরের অন্তরঙ্গ দৃশ্যের অভিজ্ঞতা বললেন মোহিত ও রসিকা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

চলচ্চিত্রের যেকোনো রোমান্টিক বা অন্তরঙ্গ দৃশ্যের চিত্রায়ণের ক্ষেত্রে শিল্পীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, পেশাদার সম্মান এবং সম্মতির বিষয়টি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। চলচ্চিত্রে এই ধরনের দৃশ্য ধারণের সময় অভিনয়শিল্পীদের পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং মানসিক স্বস্তি বজায় রাখতে সাহায্য করেন বিশেষ প্রশিক্ষিত ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর। সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়া এবং প্রেক্ষাগৃহে দারুণ দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করা ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সময়কার অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ের পেছনের গল্প ও নিজেদের অভিজ্ঞতা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন অভিনেতা মোহিত মালিক ও অভিনেত্রী রসিকা দুগাল। তাঁদের মতে, সেটে একজন পেশাদার ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর উপস্থিত থাকায় তাঁদের পুরো কাজটি অত্যন্ত সহজ, সাবলীল ও পেশাদার মানের হয়ে উঠেছিল।

ভারতের খ্যাতিমান সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে অভিনেতা মোহিত মালিক জানিয়েছেন যে, তাঁর অভিনয়জীবনে এর আগে কখনো বড় পর্দায় বা ক্যামেরার সামনে কোনো অন্তরঙ্গ দৃশ্যে কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। এই কারণে স্বাভাবিকভাবেই ক্যামেরা চালু হওয়ার আগেই তাঁর মনে কিছুটা দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ কাজ করছিল। তবে তাঁর সহ-অভিনেত্রী রসিকা দুগাল তাঁকে মানসিকভাবে শান্ত হতে এবং শুটিংয়ের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে দারুণভাবে সহযোগিতা করেছেন। একই সঙ্গে পুরো কাজের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত পেশাদারভাবে পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান করেছেন দক্ষ ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর অঙ্কিতা পোদ্দার।

চিত্রগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই মোহিত ও রসিকা একে অপরের সঙ্গে বসে তাঁদের ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য এবং সংকোচ বা অস্বস্তির সীমানাগুলো নিয়ে খোলামেলা ও দীর্ঘ আলোচনা করেছিলেন। কোন কোন জায়গায় স্পর্শ করা যাবে আর কোন কোন সীমা অতিক্রম করা যাবে না, সেই বিষয়গুলো তাঁরা ক্যামেরা ওপেন করার আগেই সুনির্দিষ্টভাবে ঠিক করে নিয়েছিলেন। এমনকি ক্যামেরার সামনে চূড়ান্ত দৃশ্য ধারণের সময় কোনো নতুন অঙ্গভঙ্গি বা পদক্ষেপ নেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে সহ-অভিনেত্রীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও তারা কঠোরভাবে নিশ্চিত করেছিলেন।

নিজের এই অভিনব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে মোহিত মালিক বলেন যে, পেশাদার জীবনে এই প্রথম তিনি কোনো ডেডিকেটেড ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটরের সরাসরি নির্দেশনায় কাজ করার সুযোগ পেলেন। সহ-অভিনেত্রী ঠিক কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে স্বচ্ছন্দবোধ করেন, শরীরের কোথায় স্পর্শ করা যাবে এবং কোথায় যাবে না, তা আগে থেকেই পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য দারুণ ও ইতিবাচক ছিল। তাঁরা দুজন নিজেদের সব ধরনের অস্বস্তির বিষয় একে অপরকে জানিয়েছিলেন এবং তিনি নিজেও সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করে নিশ্চিত হয়েছিলেন যে কাজটি করা যাবে কি না। তাছাড়া পুরো কর্মপদ্ধতি সুন্দরভাবে দেখভালের জন্য সেখানে একজন বিশেষজ্ঞ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অভিনেত্রী রসিকা দুগালও শুটিংয়ের সময় ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁর মূল্যায়ন অনুযায়ী, যেহেতু চিত্রগ্রহণের অনেক আগেই সমস্ত নিয়মকানুন, সীমা ও কৌশল সুনির্দিষ্ট করে ঠিক করা ছিল, তাই তাঁদের অভিনয়শিল্পীদের মূল মনোযোগ কেবল চরিত্রের অভিনয় ও রূপায়ণের ওপর নিবদ্ধ রাখতে অনেক বেশি সুবিধা হয়েছিল।

রসিকা দুগাল আরও যোগ করে বলেন যে, তাঁদের অভিনয়শিল্পীদের কেবল অভিনয়ের শৈল্পিক দিকটাতেই পুরোপুরি নিজেদের মনঃসংযোগ বজায় রাখার সুযোগ মিলেছে। কে কোন বিষয়ে মানসিকভাবে আরামদায়ক বোধ করছেন কিংবা পরিচালক মহোদয় পর্দার জন্য ঠিক কী চাচ্ছেন, সেই বিষয়গুলো নিয়ে তাঁদের আলাদা করে কোনো মানসিক দুশ্চিন্তা বা জল্পনা-কল্পনা করতে হয়নি। পুরো জটিল বিষয়টি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং পেশাদার উপায়ে নিখুঁতভাবে পরিচালনা ও সম্পন্ন করা হয়েছিল।

ছবির অন্তরঙ্গ দৃশ্যগুলোতে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মোহিত মালিক তাঁর ঘরের মানুষ, অর্থাৎ স্ত্রী ও অভিনেত্রী অদিতি মালিকের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন। তিনি তাঁর স্ত্রীকে এসব দৃশ্যগুলোর অন্তর্নিহিত বিষয়বস্তু এবং গল্পের প্রেক্ষাপট বুঝিয়ে বলেছিলেন। এমনকি সিনেমাটি পুরো দেখার পরেও তাঁর সহধর্মিণী তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে তিনি এই ধরনের দৃশ্যগুলোতে অভিনয় করার সময় মানসিকভাবে স্বস্তিতে ছিলেন কি না।

এই প্রসঙ্গের টানে মোহিত মালিক মন্তব্য করেন যে, একজন বিবাহিত পুরুষের পরিচয়ের আগে তিনি মূলত পেশাদার একজন অভিনেতা। তাঁর স্ত্রীও এই বিষয়টিকে অত্যন্ত পরিপক্ব ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে গ্রহণ করেছিলেন। অদিতি তাঁকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে বলেছিলেন যে, গল্পের চরিত্রের স্বাভাবিক অগ্রগতির স্বার্থে যদি এই ধরনের দৃশ্যগুলো অপরিহার্য হয়, তবে তা সিনেমার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই পর্দায় থাকা উচিত। মোহিতের দৃঢ় বিশ্বাস, অন্তরঙ্গ দৃশ্যের মতো সংবেদনশীল বিষয়ের ক্ষেত্রে অভিনয়শিল্পীদের শুধু নিজেদের পারস্পরিক বোঝাপড়ার ওপর সব দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়, বরং প্রতিটি সেটে এ ধরনের দৃশ্যের শুটিংয়ে ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর রাখা বাধ্যতামূলকভাবে প্রয়োজন।

চলচ্চিত্র বা সিরিজে ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটরের মূল দায়িত্ব হলো অন্তরঙ্গ দৃশ্যগুলোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা, অভিনয়শিল্পীদের ব্যক্তিগত সীমারেখা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহায়তা করা এবং শুটিংয়ের পুরো কর্মপর্যায়ে প্রতিটি শিল্পীর পূর্ণ সম্মতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এর ফলে পর্দার দৃশ্যের শৈল্পিক প্রয়োজনীয়তা যথাযথভাবে বজায় রাখার পাশাপাশি অভিনয়শিল্পীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সম্মান ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা পুরোপুরি সম্ভব হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে জনপ্রিয় ‘মির্জাপুর’ ওয়েব সিরিজে সফলভাবে অভিনয় করার সুবাদেই মূলত দর্শকদের কাছে পরিচিতি লাভ করেছিলেন অভিনেতা মোহিত মালিক। অন্যদিকে, মেধাবী অভিনেত্রী রসিকা দুগাল এই জনপ্রিয় ‘মির্জাপুর’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে কালজয়ী ‘বিনা ত্রিপাঠী’ চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে দেশজুড়ে দর্শকদের কাছে অত্যন্ত বিশেষ পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। এবার এই নতুন চলচ্চিত্রেও তাঁদের দুজনকে একসঙ্গে পর্দায় কাজ করতে দেখতে পাবেন দর্শক।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
ডিজিটাল যোগাযোগ সুরক্ষায় এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের কার্যকারিত

ডিজিটাল যোগাযোগ সুরক্ষায় এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের কার্যকারিত