ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ভারত-নিউজির সিরিজে প্রথমবার আসছে নতুন সনিক প্রযুক্তি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 22, 2026 ইং
ভারত-নিউজির সিরিজে প্রথমবার আসছে নতুন সনিক প্রযুক্তি ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

মাঠের খেলায় ব্যাটে বলের স্পর্শ ঘটেছে কি না, তা নিয়ে আম্পায়ারদের দেওয়া সিদ্ধান্ত ঘিরে অতীতে বহুবার নানা ধরনের বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। যদিও আধুনিক যুগে বিভিন্ন প্রযুক্তির প্রবেশ ঘটেছে, তবুও এই ধরনের সমস্যার পুরোপুরি অবসান ঘটানো সম্ভব হয়নি। ঠিক এমন একটি প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে যুক্ত হতে চলেছে সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রযুক্তি, যার নাম রাখা হয়েছে সনিক।

বর্তমান সময়ে চলমান ভারত ও নিউজিল্যান্ডের পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় সিরিজে একদম প্রথমবার এই বিশেষ প্রযুক্তিটি মাঠে প্রয়োগ করা হচ্ছে। মূলত শব্দ তরঙ্গ নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে ব্যাটের সঙ্গে বলের সঠিক সংযোগ ঘটেছে কি না, সেই বিষয়টি নির্ধারণ করতে তৃতীয় আম্পায়ারকে সহায়তা করবে এই নতুন সনিক প্রযুক্তি।

উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তিটির জন্ম হয়েছে নিউজিল্যান্ডের মাটিতেই এবং এর সফল পরীক্ষা-নিরীক্ষা তথা কার্যকারিতা যাচাইয়ের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সাপেক্ষে এই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে, যেখানে আবার উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা প্রদান করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।

আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচের উত্তেজনাপূর্ণ টি-টোয়েন্টি সিরিজ মাঠে গড়িয়েছে। এর পরপরই উভয় দলের মধ্যে পাঁচটি ওয়ানডে এবং দুটি টেস্ট ম্যাচের দীর্ঘ লড়াই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আর মূলত এই পূর্ণাঙ্গ সিরিজটিতেই প্রথমবারের মতো সনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মিলেছে।

কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্তে যখন ব্যাটে বলের আঘাত লাগে, তখন যে বিশেষ শব্দের সৃষ্টি হয়, তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য সংযোগের বিষয়টি চিহ্নিত করবে সনিক। বিশেষ করে বল ব্যাটে স্পর্শ করার পর যদি উইকেটকিপার কিংবা কোনো ফিল্ডারের গ্লাভসে চলে যায় এবং তা যদি খালি চোখে মাঠের আম্পায়ারের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়, তবে সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার সময় এই প্রযুক্তিটি দারুণভাবে কাজে লাগবে।

রিভিউ সিস্টেম বা ডিআরএসের মাধ্যমে যখন কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে, তখন এই সনিকের বিশ্লেষণ থেকে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট তথ্যগুলো আমলে নিতে পারবেন থার্ড আম্পায়ার। তবে এটি খেয়াল রাখা জরুরি যে, এই আধুনিক প্রযুক্তিটি কোনোভাবেই আম্পায়ারের নিজস্ব চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে না; বরং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে তাঁদেরকে অতিরিক্ত তথ্য দিয়ে সাহায্য করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

উল্লেখ্য যে, ভার্চ্যুয়াল আই নামক যে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে ডিআরএস ব্যবস্থা সরবরাহ করে আসছে, মূলত তাদের সঙ্গেই যুক্ত হচ্ছে এই সনিক প্রযুক্তি। উল্লেখ্য, নিখুঁত বল ট্র্যাকিং প্রযুক্তির সফল ব্যবহারের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের অনুমোদন লাভ করেছিল এই সুপরিচিত প্রতিষ্ঠানটি।

অবশ্য বর্তমানের প্রেক্ষাপটে কেবল ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার চলমান দ্বিপক্ষীয় সিরিজেই এই প্রযুক্তিটি ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়েছে আইসিসি। ফলে আগামী দিনে অন্য কোনো দেশের সিরিজে এই সনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হলে আয়োজকদের পুনরায় নতুন করে আইসিসির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
ভারতের সঙ্গে কথা হবে চোখে চোখ রেখে

ভারতের সঙ্গে কথা হবে চোখে চোখ রেখে