ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নাটোর মহাসড়কে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে শরীয়তপুরের পাঁচ ব্যবসায়ী নিহ??

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 20, 2026 ইং
নাটোর মহাসড়কে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে শরীয়তপুরের পাঁচ ব্যবসায়ী নিহ?? ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরে কৃষিপণ্য ক্রয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সাতজন ব্যবসায়ী। মৌসুমের শুরুতেই স্থানীয় বাজারে বিক্রির জন্য বীজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য সংগ্রহ করতে গত সোমবার সন্ধ্যায় তাঁরা জাজিরার কাজীরহাট বাজার এলাকা থেকে একসঙ্গে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই তাঁদের বহনকারী যাত্রীবাহী বাসটির সঙ্গে একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে এবং এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ওই পাঁচ ব্যবসায়ী, পাশাপাশি আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও দুজন।

আজ মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সংলগ্ন নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এই ভয়ংকর দুর্ঘটনাটি ঘটে। বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি এই সংঘর্ষের ফলে সামগ্রিকভাবে মোট ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং অন্তত ৩২ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনায় নিহত হওয়া পাঁচ ব্যবসায়ী হলেন জাজিরার বড়কান্দি ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দি এলাকার ৪০ বছর বয়সী জুয়েল মাদবর, ৪৫ বছর বয়সী সালাল মোল্যা, ৩০ বছর বয়সী সোহাগ শিকদার, ৭০ বছর বয়সী আব্দুস সামাদ ফকির এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার ২৫ বছর বয়সী শাহিন ব্যাপারী। এ ছাড়া ওই একই বাসে থাকা কাজীরহাট বাজারের অপর দুই ব্যবসায়ী আলমগীর মাদবর ও ফয়সল হোসেন আহত হয়ে বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়, তাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে জাজিরার কাজীরহাট বাজার ও সংলগ্ন অঞ্চলে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। বর্তমানে কৃষিপণ্যের বীজ ও রবিশস্যের ভরা মৌসুম চলায় প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের জন্যই তাঁরা মূলত রাজশাহীর দিকে যাচ্ছিলেন।

স্বজনেরা জানান, গত সোমবার সন্ধ্যায় ওই সাত ব্যবসায়ী জাজিরার নাওডোবা থেকে বাসে চেপে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পৌঁছান। পরবর্তীতে রাতে তাঁরা বরগুনা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। বাসটি নাটোরের বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে ধেয়ে আসা একটি বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে এর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও পাঁচজন মারা যান।

নিহত ব্যবসায়ীদের মধ্যে জুয়েল মাদবর রবিশস্য কেনাবেচার পাশাপাশি কাজীরহাট বাজারে রড ও সিমেন্টের ব্যবসাও পরিচালনা করতেন। সামাদ ফকির মূলত রবিশস্যের ব্যবসা করতেন, শাহিন ব্যাপারী হলুদ কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সালাল মোল্যা ও সোহাগ শিকদার পেঁয়াজ ও রসুনের বীজ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

নিহত জুয়েল মাদবরের ভগ্নিপতি বাদল জমাদ্দার জানান, জুয়েলের বাবা-মা কেউ জীবিত নেই এবং তাঁরা তিন ভাই মিলে কাজীরহাট বাজারে ব্যবসা করেন। ভুট্টার বীজ ও ভুট্টা সংগ্রহের জন্যই জুয়েল রাজশাহী যাচ্ছিলেন।

বাদল জমাদ্দার আরও বলেন, ছোট দুই সন্তান ও স্ত্রীকে বাড়িতে রেখেই গতকাল বিকেলে রাজশাহী যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন জুয়েল। অথচ আজ সকালেই তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পেতে হলো, যা তাঁরা কোনোভাবেই কল্পনা করতে পারেননি।

কাজীরহাট বণিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জানান, নিহত ব্যবসায়ীদের মরদেহ নিজ এলাকায় ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁরা ইতোমধ্যে নাটোরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। অন্যদিকে, আহত ব্যবসায়ীদের স্বজনেরা তাঁদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে রাজশাহী গেছেন।

এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় সমগ্র এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে বলে জানান বড়কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর খলিফা। তিনি উল্লেখ করেন, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ সন্ধ্যা কিংবা রাতের মধ্যেই মরদেহগুলো নিয়ে আসা সম্ভব হবে। এরপর মরদেহগুলো কাজীরহাট বাজারে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানে একসঙ্গে তাঁদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে, পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দাফনকার্য সম্পন্ন করা হবে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করেছেন জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
প্রধানমন্ত্রীর রংপুর সফর ঘিরে জেলা পুলিশের বিশেষ ব্রিফিং প্য

প্রধানমন্ত্রীর রংপুর সফর ঘিরে জেলা পুলিশের বিশেষ ব্রিফিং প্য