ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সহিংস বিক্ষোভে জড়িতদের সরকারি চাকরিতে নিষিদ্ধ করল উত্তর প্রদেশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 30, 2026 ইং
সহিংস বিক্ষোভে জড়িতদের সরকারি চাকরিতে নিষিদ্ধ করল উত্তর প্রদেশ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

বিপক্ষ শিবিরের বিভিন্ন সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে নৈরাজ্য বলে অভিহিত করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বলপ্রয়োগ করে সরকার হটানোর জন্যই এই ধরনের অরাজকতা তৈরি করা হচ্ছে এবং এর বিরুদ্ধে প্রচারও শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে উত্তর প্রদেশ সরকার একটি নতুন প্রশাসনিক বিধি কার্যকর করেছে।

বিজেপিশাসিত এই ভূখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই নতুন নীতিমালা অনুমোদন করে জানিয়েছেন, হিংসার পথ বেছে নিয়ে যারা সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনে অংশ নেবে, তাদের আর সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হবে না।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চাকরিপ্রার্থীদের চরিত্র মূল্যায়নের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হয়েছে। এলাহাবাদ উচ্চ আদালতের নির্দেশকে সামনে রেখে গত বৃহস্পতিবার রাজ্য প্রশাসন এই নতুন পরিপত্রটি প্রকাশ করে।

প্রকাশিত নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাদেশিক সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ছাড়াও স্থানীয় পৌরসভা, পৌর পরিষদ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানে লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রে এই কঠোর শর্ত প্রযোজ্য হবে।

এই সরকারি আদেশ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই গোটা রাজ্যে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে যে বর্তমান প্রশাসন ঔপনিবেশিক আমলের মতো আচরণ শুরু করেছে।

ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি এসআইআর পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি ও বিরোধী জোট ইন্ডিয়া দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু করেছে।

চলমান এসব বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কোনো কোনো ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন যে তারা বাংলাদেশের গণআন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। আবার কেউ কেউ একে সরাসরি সরকার বদলের আন্দোলন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

শাসক দল বিজেপি আন্দোলনকারীদের এই ধরনের বক্তব্যগুলোকে হাতিয়ার করে বলছে যে তারা হিংসাত্মক পন্থার মাধ্যমেই মূলত রাষ্ট্রক্ষমতার পতন ঘটাতে উদগ্রীব হয়ে আছে।

নতুন সরকারি আদেশেও এই আশঙ্কার বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রচলিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সহিংসতার মাধ্যমে যারা বদলে ফেলতে চায়, এমন কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত প্রার্থীরা সরকারি পদের জন্য সম্পূর্ণ অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হবেন।

রাজ্য প্রশাসনের নিয়োগ ও কর্মীবর্গ বিভাগের প্রধান সচিব এম দেবরাজ এই নির্দেশিকাটি জারি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বয়স একুশ বছর পূর্ণ হওয়ার পর এবং চরিত্র যাচাইয়ের নির্ধারিত তারিখের আগের তিন বছরের মধ্যে কেউ যদি এই ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন, তবে তাকে ওই কাজের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত বলে গণ্য করা হবে।

এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর সরকারি চাকরি পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না এবং তিনি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে ওই তিন বছরের সময়সীমায় যদি কোনো ব্যক্তির মানসিকতা ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে এবং তার পক্ষে যদি অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করা যায়, তবে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে দেখা হতে পারে।

উত্তর প্রদেশ প্রশাসন অবশ্য স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে নিছক রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে অযোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে না। এছাড়া কারো বিরুদ্ধে প্রাথমিক থানায় মামলা বা এফআইআর থাকলে কিংবা কোনো তদন্ত চলমান থাকলেও তাকে বাদ দেওয়া হবে না।

যে প্রার্থীরা আদালত থেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন কিংবা আপসের মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তি ঘটিয়েছেন অথবা যাদের বিরুদ্ধে জুভেনাইল জাস্টিস আইনে বিচার চলছে, তাদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য তালিকায় যুক্ত হবে না।

অনেক সময় চরিত্র যাচাইয়ের প্রতিবেদন পেতে বিলম্ব হতে পারে, সেক্ষেত্রে কোনো প্রার্থীর নিয়োগপত্র আটকে রাখা হবে না। তারা নিজেদের দেওয়া ঘোষণাপত্র বা সেলফ ডিক্লারেশনের ভিত্তিতে সাময়িক বা প্রভিশনাল নিয়োগপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন।

তবে পরবর্তী সময়ে চরিত্র যাচাইয়ের রিপোর্ট যদি নেতিবাচক হয় কিংবা মিথ্যা ঘোষণাপত্র দিয়ে চাকরি নেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তবে সেই নিয়োগপত্র বাতিল করা হবে এবং প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

এই নতুন নির্দেশিকা জারির আগে যারা বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি পেয়েছেন, তাদের চরিত্র নতুন করে যাচাই করা হবে না। তবে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বা সরকারি কর্মকর্তারা চাইলে প্রয়োজনীয় তথ্য নিজেরা সংগ্রহ করতে পারেন।

নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো সফল প্রার্থীর বিরুদ্ধে যদি কোনো বিরূপ প্রতিবেদন আসে, তবে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য যথাযথ সুযোগ দেওয়া হবে।

বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের আগামী ১ নভেম্বর প্রস্তাবিত রামলীলা ময়দান অভিযান সফল করার প্রস্তুতি চলাকালীন এই নির্দেশিকাটি প্রকাশ করা হয়েছে। বিরোধীরা মনে করছে, এই সমাবেশে উত্তর প্রদেশের যুবসমাজ যাতে অংশ না নেয়, তাদের নিরুৎসাহিত করাই এই বিধি জারির অন্যতম একটি কারণ।

এই নির্দেশ জারির মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর প্রদেশের এগারোটি বিধান পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা গেছে, বিরোধী সমাজবাদী পার্টি বা এসপি বিগত সময়ের তুলনায় দুটি আসন বেশি অর্জন করেছে।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা বারানসিতে যে দুটি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল, তার দুটিতেই বিজেপি প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। আর এই দুটি আসনেই জয়লাভ করেছেন এসপি প্রার্থীরা।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ যাত্রায় দেশের মোট চার রাজ্যের ২৮টি বিধান পরিষদ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এর ভোটার ছিলেন মূলত শিক্ষিত সমাজ ও স্নাতকরা।

নির্বাচনের এই ফলাফল থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে উত্তর প্রদেশের শিক্ষিত মানুষের মধ্যে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের প্রতি সমর্থন হ্রাস পেয়েছে এবং বিরোধীদের পাল্লা ভারী হয়েছে।

এই বাস্তবতায় সরকারি চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে এমন কঠোর বিধিমালা শাসক দলের জন্য শেষ পর্যন্ত হিতে বিপরীত হবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানামুখী আলোচনা শুরু হয়েছে।

সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেস উভয় দলই এই সরকারি ফরমানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এই দুই রাজনৈতিক দল এই নতুন নিয়মকে একটি ‘কালা বিধি’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে ব্রিটিশ শাসকরা যখন দেশ চালাত, তখন এ ধরনের দমনমূলক ফরমান জারি করা হতো এবং আন্দোলনকারীদের দেশদ্রোহী বলে আখ্যায়িত করা হতো।

স্বাধীন ভারতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার সাংবিধানিক অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে। যুবসমাজকে চাকরির ভয় দেখিয়ে বর্তমান সরকার সেই মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে বলে তারা অভিযোগ করেছে।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে শাসক দল বর্তমানে মারাত্মকভাবে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে এবং সেই ভীতি থেকেই এমন কালা কানুন প্রণয়ন করা হয়েছে। তারা মূলত জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নস্যাৎ করতে চায়।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
পুরুষের প্রবেশ নিষেধ থাকা ব্যতিক্রমী বউ মেলায় নারীদের উপচে প

পুরুষের প্রবেশ নিষেধ থাকা ব্যতিক্রমী বউ মেলায় নারীদের উপচে প