ঢাকা | বঙ্গাব্দ

শৃঙ্খলাভঙ্গ ও কামাভিঙ্গাকে আঘাত, সমর্থকদের নিষিদ্ধ করল বার্সা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 31, 2026 ইং
শৃঙ্খলাভঙ্গ ও কামাভিঙ্গাকে আঘাত, সমর্থকদের নিষিদ্ধ করল বার্সা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ফুটবল ভুবনে গ্যালারির অনুসারীরা প্রায়ই দলের দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকা পালন করেন। স্টেডিয়াম থেকে আসা তাঁদের গর্জনের গর্জন প্রতিপক্ষ দলকে কোণঠাসা করে ফেলে এবং নিজেদের দলের খেলোয়াড়দের মনে নতুন উদ্দীপনা জোগায়। তবে সেই অনুসারীরাই যখন নির্ধারিত সীমার বাইরে চলে যান, তখন দল ও ক্লাব কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়ে।

স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার ক্ষেত্রে বর্তমানে অবিকল এই পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে সাম্প্রতিক এল ক্লাসিকো ম্যাচের পরাজয়ের বেদনা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি কাতালানরা। ঠিক এমন একটি সময়ে নিজেদের নিবন্ধিত সমর্থকদের বিরুদ্ধেই সরাসরি কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে ক্লাবটি।

গত রোববার অনুষ্ঠিত রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচের রেশ ধরেই অনুসারীদের উদ্ধত আচরণের অভিযোগে ‘গোল ১৯৫৭’ নামের সংগঠিত সমর্থকগোষ্ঠীগুলোকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে বার্সেলোনা। এই শাস্তির ফলে আগামী রোববার স্প্যানিশ লা লিগায় আলাভেসের বিপক্ষে নিজেদের ঘরের মাঠের খেলায় ক্যাম্প ন্যুর ‘গ্রাদা দ’আনিমাসিওন’ গ্যালারির নির্ধারিত অংশটি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

এই ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। রোববারের সেই জমজমাট এল ক্লাসিকোয় বার্সেলোনার সমর্থকদের বিরুদ্ধে মোট ১০টি গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে লা লিগার কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক ঘটনাটি ঘটেছে রিয়ালের ফরাসি মিডফিল্ডার এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে কেন্দ্র করে।

ম্যাচটিতে রিয়াল মাদ্রিদের জয়সূচক গোল অর্জিত হওয়ার পর গ্যালারির নির্দিষ্ট ওই এলাকার একজন সমর্থক পতাকা দিয়ে কামাভিঙ্গাকে আঘাত করেছেন বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। কেবল এই শারীরিক আঘাতের ঘটনাই নয়, এর পাশাপাশি রিয়ালের তৎকালীন কোচ জোসে মরিনিও এবং দলটির বাঁ প্রান্তের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় মার্ক কুকুরেয়াকে লক্ষ্য করেও অবমাননাকর মন্তব্য ছুড়ে দিয়েছেন বার্সেলোনা সমর্থকেরা। উল্লেখ্য যে, মার্ক কুকুরেয়া অতীতে বার্সেলোনার যুব একাডেমিতে নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারের পাঠ নিয়েছেন।

এই সমস্ত অপ্রীতিকর ঘটনার বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে লা লিগার শৃঙ্খলা কমিটির গোচরিভূত করা হয়েছে। বার্সেলোনা পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে যে, খেলাধুলার মৌলিক মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী কার্যকলাপের কারণে ক্লাব এবং তাদের বেশ কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে একাধিক অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে এবং এসবের ফলাফল হিসেবেই এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উক্ত বিবৃতিতে আরও পরিষ্কার করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সমর্থকদের এহেন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে ক্লাবকে বড় অংকের আর্থিক জরিমানা গুনতে হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে পুরো স্টেডিয়াম বন্ধ করে দেওয়ার মতো গুরুতর ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে এবং এর ফলে বিশ্বমঞ্চে ক্লাবের সুনামের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

অবশ্য বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ সমর্থকদের জন্য স্টেডিয়ামের দরজা চিরতরে বন্ধ করে দিচ্ছে না। ক্লাব প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উদ্ভূত সমস্যার সন্তোষজনক সমাধানের লক্ষ্যে খুব শীঘ্রই ‘গোল ১৯৫৭’ সমর্থকগোষ্ঠীর দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে বসা হবে।

এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো, আগামী ৩ নভেম্বর ইউরোপিয়ান টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়নস লিগে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে নিজেদের ঘরের মাঠের ম্যাচেই যেন ওই সমর্থকেরা পুনরায় স্বমহিমায় গ্যালারিতে ফিরে আসতে পারেন, তার সুব্যবস্থা করা।

উল্লেখ্য যে, ‘গোল ১৯৫৭’ নামটির সঙ্গে অত্যন্ত গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী বার্সেলোনা ক্লাবের সুদীর্ঘ ইতিহাস। সুদূর ১৯৫৭ সালে সর্বপ্রথম উদ্বোধন করা হয়েছিল বিখ্যাত ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়াম। সেই ঐতিহাসিক বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই সমর্থকদের এই নির্দিষ্ট অংশের এমন নামকরণ করা হয়েছিল।

বর্তমানে স্টেডিয়ামটির দক্ষিণ গ্যালারির একদম নিচের অংশটি এই ধরনের সংগঠিত সমর্থকগোষ্ঠীগুলোর বসার জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসের দিকে প্রথমবার এই অভিনব ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, যেখানে শুরুর দিকে মাত্র ৮০০ জন সমর্থকের বসার জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

অবশ্য সমর্থকদের শৃঙ্খলাহীন আচরণের কারণে গ্যালারি বন্ধ করে দেওয়ার এমন ঘটনা বার্সেলোনার ইতিহাসে একেবারেই নতুন কোনো বিষয় নয়। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে যখন ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামের বড় ধরনের সংস্কারকাজ চলমান ছিল, তখন বার্সেলোনার অস্থায়ী ঘরের মাঠ ছিল এস্তাদি অলিম্পিক লুইস কোম্পানিস।

সেবার সমর্থকদের বিভিন্ন অসদাচরণের কারণে সৃষ্ট জরিমানার জেরে ওই ভেন্যুর ‘এসপাই দ’আনিমাসিও’ নামের নির্ধারিত অংশটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ক্লাব কর্তৃপক্ষ। সে সময় বার্সেলোনা স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে, ক্লাবের সঙ্গে বিভিন্ন সমর্থকগোষ্ঠীর যে চুক্তি রয়েছে, তার শর্ত যথাযথভাবে পূরণ না করার কারণেই তারা ওই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

বর্তমান এই নতুন ঘটনাটি ঠিক এমন একটি সংকটপূর্ণ সময়ে সংঘটিত হলো, যখন মাঠের ভেতরের পারফরম্যান্স নিয়েও যথেষ্ট চাপের মুখে রয়েছে বার্সেলোনা দল। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে শোচনীয় পরাজয়ের পর সর্বশেষ এল ক্লাসিকোয় রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষেও হেরে বসেছে হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। তবে মাঠের অন্যান্য পরিসংখ্যানে স্প্যানিশ লা লিগার পয়েন্ট তালিকায় তারা এখনো শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ঐতিহ্যবাহী নিবারণ কবিরাজ বাড়ির দিঘিতে জমে উঠল দশমিনার নৌকাব

ঐতিহ্যবাহী নিবারণ কবিরাজ বাড়ির দিঘিতে জমে উঠল দশমিনার নৌকাব