গাইবান্ধায় জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভারপ্রাপ্ত সদস্য-সচিব রাহাত ইবনে শহীদের বিরুদ্ধে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বেকার যুবকদের বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ভালো চাকরির আশ্বাস দিয়ে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার পর তাদের কম্বোডিয়ায় পাঠিয়ে একটি দালাল চক্রের কাছে বিক্রি করা হয়।
ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, রাহাত ইবনে শহীদ ও তার বাবা শহিদুল ইসলাম প্রভাব খাটিয়ে একটি শক্তিশালী চক্রের মাধ্যমে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের হিসাবে, গাইবান্ধার আটজনসহ সারাদেশে প্রায় ৭৫ জন যুবক প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের কৃষক ছকু মিয়ার ছেলে সাদা মিয়াকে (২৭) কম্বোডিয়ায় ভালো চাকরির প্রলোভন দেওয়া হয়। ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে ছকু মিয়া প্রায় ৬ লাখ টাকা দেন। একইভাবে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ইয়াসিন আলি (২৭), সাগর (২৭), কিশোর শাওন আহমেদ, আবু হানিফ (২৭), সৈকত (২৭) ও বাদিয়াখালি এলাকার রাশেদ (২৪)-এর কাছ থেকেও বিপুল পরিমাণ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীদের দাবি, কম্বোডিয়ায় নেওয়ার পর তাদের একাধিক দালাল ও কোম্পানির কাছে বিক্রি করা হয়। পরে পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অনেক পরিবার ভিটেমাটি বিক্রি করে টাকা পাঠিয়ে সন্তানদের দেশে ফিরিয়ে আনেন। ছয়জন দেশে ফিরলেও বাকিরা এখনও ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।
সাদা মিয়ার বাবা ছকু মিয়া বলেন, “আটটি গরু বিক্রি ও ঋণ করে রাহাতকে টাকা দিয়েছিলাম। সে আমার ছেলের সঙ্গে প্রতারণা করে তাকে দালালের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে।”
কম্বোডিয়া ফেরত যুবক ইয়াসিন জানান, সেখানে তাদের দিয়ে অবৈধ কাজ করানোর চেষ্টা করা হতো। রাজি না হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। তিনি বলেন, পালিয়ে থেকে এবং পরিবারের দেওয়া মুক্তিপণের মাধ্যমে পাসপোর্ট ফিরে পেয়ে তারা দেশে ফেরেন।
ইয়াসিনের অভিযোগ, তিনি ফুলছড়ি থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে রাহাত ইবনে শহীদ বলেন, “বায়ারদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক রয়েছে। কাউকে বিদেশ পাঠানোর ব্যবসায় আমি জড়িত নই।”
এ বিষয়ে এনসিপির জেলা আহ্বায়ক খাদেমুল ইসলাম খুদির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল হুদা বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনা জানা নেই। কেউ অভিযোগও করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর