ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মাদক দেখার জেরে যুবদল নেতার পরিবারকে নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 18, 2026 ইং
মাদক দেখার জেরে যুবদল নেতার পরিবারকে নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে মাদকের চালান দেখে ফেলা ও তাতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক যুবদল নেতার পরিবারের সদস্যদের নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে মো. জাহাঙ্গীর (৫০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম দুর্গাপুর উপজেলার শিমুলতলী গ্রামের বাসিন্দা এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

শনিবার ১৭ অক্টোবর দুর্গাপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন ইমান আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা। ইমান আলী দুর্গাপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও মিনকিফান্দা গ্রামের বাসিন্দা। জাহাঙ্গীরের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।

লিখিত বক্তব্যে ইমান আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জাহাঙ্গীর আলম এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, সীমান্তে মাদক পাচার, জমি দখল ও সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন। তার অভিযোগ, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে তার ছোট ছেলে মো. রায়হানকে মোবাইলে ময়মনসিহের চরপাড়া এলাকায় ডেকে নিয়ে অপহরণ করে সাড়ে তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে এ ঘটনায় ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

তার দাবি, মুক্তিপণ দাবিতে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশি পদক্ষেপ শুরু হলে অপহরণকারীরা রায়হানকে চোখ ও হাত-পা বেঁধে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। উদ্ধার করার পর ছেলেকে মারধরের কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে এবং দুই ছেলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

ইমান আলী বলেন, ভারত থেকে আনা একটি বস্তুকে প্রসাধনী পণ্য বলা হলেও তারা বস্তাটি খুলে ফেনসিডিল দেখতে পান। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় জাহাঙ্গীর আলম ক্ষুব্ধ হন এবং রাতে লোকজন নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। জাহাঙ্গীর আলম এলাকায় নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং নিরীহ মানুষের বাড়িতে গোপনে মাদক রেখে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ইমান আলীর পুত্রবধূ আফরোজা সুলতানা বলেন, তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে থাকতে না পারায় নারীরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। পরিবারের সদস্যরা সব সময় আতঙ্কে রয়েছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জাহাঙ্গীর বলেন, আমি কোনো ধরনের চোরাচালান, মাদক কারবার কিংবা অন্যের জমি দখল করিনি। এসব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ। ইমান আলীর পরিবারের কাছে আমি বেশ কয়েক লাখ টাকা পাই এবং পাওনা টাকা চাওয়ার জেরেই আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমদ খান বলেন, অপহরণের বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলে শুনেছি। দুর্গাপুর থানায় এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সংসদ ভবন এলাকায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, আজ এমপি ও মন্ত্রি

সংসদ ভবন এলাকায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, আজ এমপি ও মন্ত্রি