নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
১৯৯০ সালে দুই ইয়েমেন একত্রিত হওয়ার পর থেকেই রিয়াদের নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল। শক্তিশালী এক প্রতিবেশীর এমন একত্রীকরণকে তারা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বিরাট বিপদের কারণ হিসেবে ধরে নিয়েছিল। তাদের এই ভীতি আরও ঘনীভূত হয় যখন ওই বছরের আগস্ট মাসে কুয়েতে ইরাকি আগ্রাসনের সময় ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ প্রকাশ্যে সাদ্দাম হোসেনের পক্ষ নেন। এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরব তাদের দেশ থেকে দশ লাখের বেশি ইয়েমেনি শ্রমিককে একসঙ্গে বহিষ্কার করে, যার ফলে ইয়েমেনে যে মারাত্মক অর্থনৈতিক ধস নামে, সেখান থেকে দেশটি আজও সম্পূর্ণভাবে বেরিয়ে আসতে পারেনি।
ইয়েমেনের একত্রীকরণ নিয়ে রিয়াদের এই মানসিক আতঙ্ক কোনোভাবেই কাটছিল না। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৪ সালে সৌদি আরবের গোপন মদদে দক্ষিণ ইয়েমেনে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে সালেহ প্রশাসন এবং দক্ষিণাঞ্চলের সমাজতন্ত্রীদের মধ্যে এক ভয়ংকর রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে পরিণত হয়। এই যুদ্ধে দক্ষিণের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে দমনের উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট সালেহ অস্ত্রধারী চরমপন্থী ও ইসলামপন্থীদের ময়দানে নামান। তবে সরকারের এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত ইয়েমেনের নানা উপজাতি ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পারস্পরিক বিরোধকে উসকে দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হুতি আন্দোলন বা আনসারুল্লাহ গড়ে ওঠার পথকে পরিষ্কার করে দেয়।
পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি ঘটতে থাকায় ২০০৩ সালে দুই রাষ্ট্রের উন্মুক্ত সীমানা পাহারা দিতে একটি নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করে সৌদি আরব। রিয়াদের সেই আশঙ্কাকেই বাস্তবে রূপ দিয়ে ২০০৪ সালে ইয়েমেন সরকার এবং দেশটির উত্তর প্রান্তের এই উদীয়মান বিদ্রোহী দলের মাঝে প্রথম দফার সশস্ত্র লড়াই বেজে ওঠে। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে এই সংঘাতের পঞ্চম পর্যায় যখন সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়, তখন সৌদি সামরিক বাহিনী সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে এবং হুতি মিলিশিয়াদের প্রথম আক্রমণের মুখে সামরিক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর