নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের ষষ্ঠ অধ্যায়ের ওপর প্রস্তুত করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিস্তরিত প্রশ্ন ও উত্তর। আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মো. আবু সুফিয়ান এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো প্রণয়ন করেছেন, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তা করবে।
প্রথম প্রশ্নে ‘সূর্য শক্তির প্রধান উৎস’—এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পৃথিবীতে দৃশ্যমান প্রায় সব শক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ উৎস হিসেবে কাজ করে সূর্য। উদ্ভিদ সূর্যের আলোকশক্তি কাজে লাগিয়ে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন করে এবং তা রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে জমা রাখে।
মানুষ বা অন্য কোনো প্রাণী যখন ওই উদ্ভিদ খাদ্য হিসেবে খায়, তখন সেই রাসায়নিক শক্তি তাদের শরীরে চলে যায়। এই শক্তি ব্যবহার করেই তারা বিভিন্ন শারীরিক কাজকর্ম ও গতিশক্তি অর্জন করে থাকে।
আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে সূর্যের আলোকশক্তিকে সরাসরি বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব হচ্ছে। তা ছাড়া কয়লা ও পেট্রোলিয়ামের মতো জীবাশ্ম জ্বালানিও মূলত দূর অতীতের উদ্ভিদের মধ্যে সঞ্চিত থাকা সৌরশক্তিরই রূপান্তর।
খাদ্যের ভেতরের রাসায়নিক শক্তি থেকে শুরু করে বর্তমানের বিদ্যুৎশক্তি পর্যন্ত সবকিছুর মূলে রয়েছে সূর্যের অবদান। এসব কারণেই সূর্যকে সব ধরনের শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে।
দ্বিতীয় প্রশ্নে পরীক্ষার মাধ্যমে ‘আলো সোজা পথে চলে’—এই সত্যটি প্রমাণ করা হয়েছে। আলোর অন্যতম একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো এটি সবসময় সরলরেখায় বা সোজা পথে চলাচল করে থাকে।
এই বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য একটি সহজ পরীক্ষা করা যায়, যেখানে সমান উচ্চতার তিনটি শক্ত কাগজের মাঝখানে ছিদ্র করা হয়। এরপর কাগজগুলোকে একটি জাজ্জ্বল্যমান মোমবাতির সামনে এমনভাবে স্থাপন করা হয় যেন ছিদ্রগুলো ঠিক একই সরলরেখায় অবস্থান করে।
মোমবাতিটি জ্বালানোর পর কাগজের অপর পাশ থেকে এর আলো খুব পরিষ্কারভাবে দেখতে পাওয়া যায়। তবে মাঝখানের কাগজগুলোর মধ্যে যেকোনো একটিকে একটু সরিয়ে দিলেই এই দৃশ্য বদলে যায়।
যখন ছিদ্রগুলো আর একই সরলরেখায় থাকে না, তখন আর মোমবাতির আলো দেখা যায় না। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে কাগজটি তখন আলোর গতিপথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এবং আলো কখনোই বাঁকা পথে গিয়ে ছিদ্র অতিক্রম করতে পারে না।
এই চমৎকার পরীক্ষাটি খুব স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে আলো সবসময় সরলরেখা বরাবর সোজা পথেই চলাচল করে।
তৃতীয় প্রশ্নে বাড়ির নানা কাজে ব্যবহার করা বিভিন্ন শক্তির বিবরণ একটি ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে মানুষ নানা ধরনের শক্তির ওপর নির্ভরশীল।
অন্ধকার ঘর আলোকিত করতে আলোকশক্তি ব্যবহৃত হয়, যা বৈদ্যুতিক বাল্ব বা মোমবাতি জ্বালানোর মাধ্যমে পাওয়া যায়। আবার টেলিভিশন দেখা কিংবা কম্পিউটার চালানোর কাজে তারের মাধ্যমে সরবরাহ করা বিদ্যুৎশক্তি ব্যবহার করা হয়।
রান্না করার কাজ অথবা কাপড় ইস্ত্রি করার জন্য তাপশক্তির প্রয়োজন হয়, যা চুলা বা ইস্ত্রি থেকে তাপ হিসেবে পেয়ে থাকি। পোশাক পরিপাটি ও খাবার তৈরির ক্ষেত্রে এই তাপশক্তির ভূমিকা রয়েছে।
শরীর গঠন করা এবং চলাফেরা করার পেছনে কাজ করে রাসায়নিক শক্তি। খাবার গ্রহণের মাধ্যমে মানবদেহে এই শক্তি সঞ্চিত হয়, যা পরবর্তীতে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে থাকে।
রেডিও কিংবা স্পিকারে গান শোনার ক্ষেত্রে বিদ্যুৎশক্তি রূপান্তরিত হয়ে শব্দশক্তিতে পরিণত হয়। এভাবে বিভিন্ন গৃহস্থালি কাজে বিভিন্ন শক্তির সফল ব্যবহার হয়ে থাকে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর