নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
অভিভাবক তথা শ্বশুর-শাশুড়ির জীবনযাত্রার খরচ বহন এবং তাঁদের প্রাথমিক পরিচর্যা নিশ্চিত করার প্রধান দায়দায়িত্ব তাঁদের নিজ রক্তের সম্পর্কের সন্তান অর্থাৎ পুত্রের ওপর বর্তায়। ফলে, পুত্রবধূকে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ কোনো ধরনের বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সেবাযত্নে বাধ্য করা কিংবা এ বিষয়কে কেন্দ্র করে তাঁর মানসিক টেনশন বা চাপ সৃষ্টি করা কোনো অবস্থাতেই আইনগত বা নীতিগতভাবে যুক্তিসংগত নয়।
পক্ষান্তরে, শ্বশুর ও শাশুড়ির দিক থেকেও পুত্রবধূকে পরিবারের কোনো বহিরাগত অতিথি কিংবা সাধারণ সেবিকা হিসেবে বিবেচনা করা অনুচিত। বরং তাঁকে নিজেদের জন্মদাত্রী মেয়ের মতো স্নেহের চাদরে আবৃত করা, তাঁর দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো ভুলত্রুটিগুলোকে উদার মনে ক্ষমা করা এবং যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা মুরব্বিদের অবশ্যকর্তব্য।
মূলত, বয়োবৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির খেদমত করা ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো অবশ্যপালনীয় বা ফরজ বিধানের অন্তর্ভুক্ত নয়। তা সত্ত্বেও, মানবতাবাদের খাতিরে, নৈতিক মূল্যবোধের তাড়নায় এবং স্বামীর প্রতি সুগভীর অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নিজের শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী হাসিমুখে তাঁদের সেবায় এগিয়ে আসা একধরনের মহৎ গুণ ও চরিত্রের পরিচায়ক।
ইসলামবিষয়ক গবেষক মুফতি খালিদ কাসেমির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক জীবনে টেকসই শান্তি ও সুখ বজায় রাখতে হলে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, পারস্পরিক ছাড় দেওয়ার মানসিকতা এবং আন্তরিক সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিটি সদস্যের নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই সহাবস্থানের মনোভাবই একটি আদর্শ পরিবার গঠন করতে পারে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর