নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের জাস্টিস কোর্ট ইতিপূর্বে রুলিং জারি করে জানিয়েছিল যে, পিআইএস সরকার নানা ধরনের অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে নিজেদের পছন্দের বিচারক নিয়োগের মাধ্যমে সাংবিধানিক আদালতের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করেছে। আন্তর্জাতিক এই বিচারালয়গুলোর রায়ের ওপর ভিত্তি করেই ডোনাল্ড টুস্কের বর্তমান প্রশাসন সাংবিধানিক আদালতের কোনো রায় প্রকাশ করা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।
আগামী বছরই পূর্ব ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডে একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এমন এক সময়ে টুস্কের রাজনৈতিক বিরোধীরা তীব্র অভিযোগ করে বলেছেন যে, সাধারণ ভোটারদের মাঝে নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী টুস্ক আদালত সংস্কারের এই অত্যন্ত বিতর্কিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজস্ব মন্ত্রিসভার সাবেক মন্ত্রী ও বিশিষ্ট আইনজীবী মাচেই বেরেককে সাংবিধানিক আদালতের বিচারক হিসেবে মনোনীত করেছেন। এই মনোনয়নের পরেই বর্তমান সরকারের নিরপেক্ষতা ও সদিচ্ছা নিয়ে চারদিকে নানা ধরনের গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
দেশের খ্যাতনামা আইনজীবী ও বিশিষ্ট আইনি বিশ্লেষক অধ্যাপক মার্সিন মাতচাক সরকারের এমন কঠোর পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, অস্ত্রধারী পুলিশের উপস্থিতি এবং বিচারমন্ত্রীর জারি করা নির্দেশনার মাধ্যমে সাংবিধানিক আদালতের প্রধানকে অপসারণের এই ঘটনা পোল্যান্ডে আইনের শাসনের ভবিষ্যৎ ওপর আগামী বহু বছরের জন্য একটি অত্যন্ত নেতিবাচক ও বিপজ্জনক প্রভাব বিস্তার করবে।
এই গভীর সংকট নিরসনে বিবদমান উভয় পক্ষই নিজেদের নিজ নিজ অবস্থানে সম্পূর্ণ অনড় রয়েছে। এর ফলে পোল্যান্ডের বিচার বিভাগীয় ও সাংবিধানিক অচলাবস্থা আগামী দিনে আরও মারাত্মক ও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে বলে রাজনৈতিক ও আইন বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর