নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গাইবান্ধার নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলগুলোতে বর্তমানে পুরোদমে চলছে ভুট্টা চাষের প্রস্তুতি। সাম্প্রতিক সময়ে চর এলাকা পরিদর্শন করে দেখা গেছে, স্থানীয় কৃষকরা অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ কেউ নতুন ফসল ফলানোর জন্য জমি প্রস্তুত করার কাজে নেমে পড়েছেন, আবার অনেকে ইতিমধ্যেই বীজ রোপণ করে ফেলেছেন। এর পাশাপাশি এমন অনেক কৃষকও রয়েছেন, যারা মাটি প্রস্তুত করার কাজ শেষ করে শুধুমাত্র সারের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন। কিছু জমিতে আবার একটু আগেভাগেই, অর্থাৎ বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভুট্টা গাছ লাগিয়েছেন চাষিরা।
তবে এই ভরা মৌসুমেও কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে প্রয়োজনীয় সারের চরম সংকট। চাষিদের ভাষ্যমতে, ভুট্টা উৎপাদনের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তারা বাজারের ডিলারদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে সার হাতে পাচ্ছেন না। যতটুকু সার তারা সংগ্রহ করতে সক্ষম হচ্ছেন, তা তাদের মোট চাহিদার তুলনায় একেবারেই নগণ্য। এর ওপর পরিবহন সংক্রান্ত আরেকটি বড় সমস্যা তাদের ভোগাচ্ছে। চরাঞ্চলের দূরবর্তী এলাকা থেকে মূল ভূখণ্ডের ডিলার পয়েন্ট পর্যন্ত গিয়ে সার সংগ্রহ করতে গেলে অতিরিক্ত সময় নষ্ট হয়। সেই সঙ্গে যাতায়াত ও নৌকাভাড়া বাবদ তাদেরকে অতিরিক্ত তিন থেকে চারশ টাকা বেশি খরচ করতে হচ্ছে।
ফুলছড়ি উপজেলার অন্তর্গত উজলডাঙা গ্রামের একজন সাধারণ কৃষক মো. আল আমিন তার এলাকার কৃষকদের এই কষ্টের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ভুট্টা আবাদের এই পুরো ভরা মৌসুমে তাদের প্রয়োজনীয় ইউরিয়া সার পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে। অনুমোদিত ডিলারের কাছে সার চাইতে গেলে তারা চাহিদার বিপরীতে অত্যন্ত সামান্য পরিমাণ সার দিচ্ছে। বাধ্য হয়ে এই কৃষকদের তখন বিকল্প পথ ধরতে হচ্ছে। তারা অন্য উৎস বা খোলা বাজার থেকে প্রতি বস্তা সারে অতিরিক্ত চারশ থেকে পাঁচশ টাকা বেশি মূল্য পরিশোধ করে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন এবং তা সংগ্রহ করে জমিতে প্রয়োগ করছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর