ঢাকা | বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হতে চলেছেন হাকিম জেফ্রিস

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 4, 2026 ইং
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হতে চলেছেন হাকিম জেফ্রিস ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে, যেখানে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস। বড় ধরনের কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটলে আগামী জানুয়ারি মাসেই তিনি দেশটির ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। মার্কিন সংবিধান ও আইন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্টের উত্তরাধিকারের ক্রম তালিকায় ভাইস প্রেসিডেন্টের ঠিক পরেই স্পিকারের পদটি অবস্হান করে। এর ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের শেষ দুই বছরে ডেমোক্রেটিক পার্টির পুনরুজ্জীবিত ও নতুন শক্তি পাওয়া রাজনৈতিক নেতৃত্বের পুরো নিয়ন্ত্রণ কার্যত হাকিম জেফ্রিসের শক্তিশালী হাতের মুঠোতেই ন্যস্ত থাকবে।

২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে যোগ দেন হাকিম জেফ্রিস। এই যাত্রার শুরুর দিকেই তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বগুণ দেখে তাঁর রাজনৈতিক মুরব্বি হিসেবে পরিচিত কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ ডেমোক্র্যাট নেতা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছিলেন। সাবেক কংগ্রেস সদস্য এডি বার্নিস জনসন প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশনকক্ষে নিজের চিরচেনা আসনে বসে সেদিন সহকর্মী ইমানুয়েল ক্লিভারের কাছে মন্তব্য করেছিলেন যে, ও-ই সেই মানুষ যাকে দিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ সম্ভব। এরপর থেকেই ওই কৃষ্ণাঙ্গ ডেমোক্র্যাট নেতারা নিয়মিত নৈশভোজে মিলিত হতে শুরু করেন এবং ন্যান্সি পেলোসি অবসর নিলে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে জেফ্রিসকে স্পিকার পদে দেখতে চাওয়ার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা আঁটেন।

স্পিকার হিসেবে জেফ্রিসের সম্ভাব্য আগমনকে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ হিসেবে দেখছেন। ইমানুয়েল ক্লিভার এক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমান প্রশাসনের অনেকেরই রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমানো উচিত হবে না কারণ জেফ্রিস ও তাঁর দল ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনকে চরম ও কঠিন চাপের মুখে ফেলে দেবেন। তবে এই স্পিকার পদ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয় এবং দলের অন্দরেও কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। ডেমোক্রেটিক সমাজতন্ত্রীদের একটি নতুন দল প্রতিনিধি পরিষদে প্রবেশ করছে যাদের মূল অভিযোগ হলো বর্তমান নেতৃত্ব জনগণের সময়ের সঠিক দাবি মেটাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। একসময় হাকিম জেফ্রিস নিজেও দলের প্রতিষ্ঠিত ও প্রথাগত নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে উঠে আসা একজন প্রতিবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

বর্তমানে অবশ্য ইসরায়েল ও সবার জন্য মেডিকেয়ারের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান দলের প্রচলিত ও মধ্যপন্থী ধারার বেশ কাছাকাছি চলে এসেছে। এ কারণে ডেমোক্রেটিক পার্টির বামপন্থী ও আন্দোলনপন্থী অংশ তাঁকে নিয়ে কিছুটা সন্দিহান রয়েছে। পেশাগত জীবনে করপোরেট আইনজীবী থাকা জেফ্রিস যেকোনো বড় সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ভেবেচিন্তে ও নিখুঁতভাবে গ্রহণ করেন। দলের কিছু সদস্য ব্যক্তিগত আলাপে অতীতে এই মর্মে অভিযোগ করেছেন যে তিনি বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সময় অতিরিক্ত দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও কালক্ষেপণ করেন। তবে তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজনেরা দৃঢ়তার সঙ্গে বিশ্বাস করেন যে তিনি একবার স্পিকারের মসনদে বসলে অত্যন্ত সুদৃঢ়ভাবে নিজের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রয়োগ করবেন।

ট্রাম্প প্রশাসন এবং দেশের বড় বড় মার্কিন কর্পোরেট কোম্পানি—এই উভয় পক্ষের সঙ্গেই বড় ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছেন। জেফ্রিসের ঘনিষ্ঠ সহকর্মীরা জানিয়েছেন যে তিনি দেশের সাধারণ পরিশ্রমী মানুষের অর্থনৈতিক ও মৌলিক দাবিগুলোকে দলের সমগ্র রাজনৈতিক কর্মসূচির একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসতে বদ্ধপরিকর। তিনি দেশের অতিধনীদের ওপর করের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে চান এবং বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সরাসরি প্রতিনিধি পরিষদে তলব করার পরিকল্পনা করেছেন। বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যেকোনো ধরনের বিরোধ বা ঝামেলা এড়িয়ে চলার যে নীতি ডেমোক্র্যাট দল বিগত কয়েক দশক ধরে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে অনুসরণ করে আসছে, জেফ্রিসের এই পদক্ষেপে সেই পুরনো নীতি পুরোপুরি বদলে যাবে।

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও জেফ্রিস আগের ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে অনেক বেশি সাহসী পদক্ষেপ নিতে চান, এমনকি ২০১৯ সালে ডেমোক্র্যাটরা ন্যূনতম মজুরি যতটা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল তিনি তার চেয়েও অনেক বেশি বৃদ্ধি করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের জন্য কঠোর ও নিরপেক্ষ নৈতিক আচরণবিধি বাধ্যতামূলকভাবে চালু করার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবাধ ব্যবহারেও আইনি লাগাম টানতে চান তিনি। ট্রাম্পের দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদের শেষ দুই বছর জুড়ে সরকারি প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কড়া নজরদারি বজায় রাখার ক্ষেত্রেও তিনি দলের সমগ্র নেতৃত্বকে সামনের সারি থেকে পরিচালনা করবেন। সম্প্রতি সিএনএনের মানু রাজুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেমোক্র্যাট নেতা জেফ্রিস স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে সাধারণ মার্কিন জনগণের মনে গভীর হতাশা থাকার যথেষ্ট ও যৌক্তিক কারণ রয়েছে।

আমেরিকার সাধারণ মানুষ বর্তমান প্রচলিত ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন চায় এবং তারা চায় যে দেশের এই দীর্ঘদিনের চলতি ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে যাক। জেফ্রিসের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মতে, তিনি যদি শেষ পর্যন্ত স্পিকার পদে নির্বাচিত হন তবে তাঁর সামনে প্রধানত দুটি বড় ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করার চ্যালেঞ্জ থাকবে। সাধারণ ভোটার ও সমর্থকেরা স্পষ্টতই চান যে ডেমোক্রেটিক পার্টি অত্যন্ত সাহসী সব পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাস্তবে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনুক এবং জেফ্রিসকে অবশ্যই সেই জনগণের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই বিষয়টির দিকেও কড়া নজর রাখতে হবে যেন তাঁর কোনো হঠকারী বা অপরিপক্ব পদক্ষেপের কারণে ঠিক দুই বছর পর দলকে আবার বড় ধরনের আসন হারানোর বিপর্যয়ের মুখে পড়তে না হয়।

এই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য দলের বামপন্থী বা উগ্রপন্থী অংশের কিছু অতি-উদারনৈতিক দাবির ক্ষেত্রে জেফ্রিসকে অবশ্যই শক্ত হাতে রাশ টেনে ধরতে হবে ও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, অভিবাসন ও কঠোর শুল্ক প্রয়োগকারী সরকারি সংস্থা আইসিই বা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বিলুপ্ত করার পক্ষে সাধারণ ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। সবার জন্য সর্বজনীন মেডিকেয়ার বা স্বাস্থ্যসেবা চালুর অত্যন্ত জনবহুল দাবির ক্ষেত্রেও সম্পূর্ণ একই কথা প্রযোজ্য বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। জেফ্রিসের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্ররা জোর দিয়ে বলছেন যে ইসরায়েল-সংক্রান্ত যেকোনো আন্তর্জাতিক নীতি বা ভোটাভুটি যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার কৌশল তিনি গ্রহণ করবেন।

সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাট নেতা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে জেফ্রিস সবসময় অত্যন্ত সাহসী অথচ অত্যন্ত বিচক্ষণ ও পরিপক্ব পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, তিনি কখনোই কোনো অবস্থাতেই বেপরোয়া বা হঠকারী হবেন না। যেসব অত্যন্ত সংবেদনশীল ভোটাভুটির কারণে দলের ভেতর বা বাইরে বড় ধরনের বড় ধরনের মতানৈক্য ও বিভাজন তৈরি হতে পারে, তিনি সবসময় সেইসব বিতর্কিত বিষয় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কমানো এবং নিয়ন্ত্রণ করাটাই হবে তাঁর প্রধান ও একমাত্র মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু। সংস্কৃতি নিয়ে মার্কিন সমাজে যেসব অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘাত বা সংস্কৃতি যুদ্ধ চলে, সেইসবে তিনি অযথা জড়াবেন না বলে তাঁর মিত্ররা নিশ্চিত করেছেন।

কলোরাডোর বিশিষ্ট কংগ্রেস সদস্য জেসন ক্রো সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে হাকিম জেফ্রিস অত্যন্ত পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে ডেমোক্র্যাট দল সাধারণ আমেরিকান পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব সমস্যাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই নির্বাচনে জয়ী হবে। এমনকি নির্বাচনের পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গিয়েও তারা সেই জনকল্যাণমূলক বিষয়গুলোকেই তাদের প্রশাসনিক অগ্রাধিকার তালিকায় প্রথমে রাখবে। কংগ্রেস সদস্য ক্রোর সুদৃঢ় অভিমত হলো যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসাসুবিধার পরিধি ও সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হলে তা সাধারণ মানুষের পকেট থেকে চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হওয়া অর্থ ও খরচ অনেকখানি কমিয়ে দিতে সক্ষম হবে।

কংগ্রেস সদস্য ক্রো আরও বলেছেন যে তাঁর নিজের জোরালো মনে হয় মার্কিন জনগণ এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সর্বজনীন ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে। সেই কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে বা লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য বাস্তবসম্মত একাধিক ভিন্ন ভিন্ন পথ ও পদ্ধতি খোলা রয়েছে। উল্লেখ্য যে, ৬০ বছর বা তার বেশি বয়স্ক বয়োবৃদ্ধ মার্কিন নাগরিকদের সবাইকে রাষ্ট্রীয় মেডিকেয়ার স্বাস্থ্যবিমার সার্বিক আওতাভুক্ত করার লক্ষ্যে একটি নতুন বিলের যৌথ প্রস্তাবক হিসেবেও তিনি কাজ করছেন। জেফ্রিসের সামনে বর্তমানে একটি অত্যন্ত জটিল ও সুদূরপ্রসারী প্রজন্মগত রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও অত্যন্ত প্রকটভাবে বিদ্যমান রয়েছে।

এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন যে প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা সুনির্দিষ্টভাবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতি পদে নিয়োজিত ব্যক্তিদের কার্যকালের মেয়াদের ওপর নতুন ও কঠোর সীমা আরোপ করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। মার্কিন কংগ্রেসে এতদিন ধরে দলীয় জ্যেষ্ঠতা বা সিনিয়ারity-কে অন্ধের মতো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসার যে সুদীর্ঘ সংস্কৃতি ছিল, ঐতিহ্যবাহী দলটির জন্য এই সম্ভাব্য পরিকল্পনাটি এক বিরাট বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দেবে। সাম্প্রতিক এই দলীয় নির্বাচনে প্রতিষ্ঠিত ও পুরনো নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে যে স্পষ্ট অসন্তোষ ও পরিবর্তনের মনোভাব দেখা গেছে, মূলত এই নতুন পরিকল্পনাটিতে তারই বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে। অবশ্য বর্তমান কমিটির সভাপতিরা এই নিয়মের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে স্বল্প সময়ের জন্য কিছু বিশেষ ছাড় বা সুবিধা পেতে পারেন বলে জানা গেছে।

সাধারণ ভোটার ও সমর্থকদের অন্য আরেকটি অত্যন্ত জোরালো ও প্রধান অগ্রাধিকারের বিষয় হলো কংগ্রেসের নির্বাচিত আইনপ্রণেতাদের নিজেদের পক্ষ থেকে শেয়ার বাজার বা স্টক মার্কেটে শেয়ার কেনাবেচা করা চিরতরে নিষিদ্ধ করা। আগামী জানুয়ারি মাসে প্রতিনিধি পরিষদের নতুন সংসদীয় আচরণবিধিতে সুনির্দিষ্টভাবে এই শেয়ার ব্যবসা নিষিদ্ধকরণের নিয়মটি সরাসরি যুক্ত করা আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে খোদ দলের ভেতরেই এখনো যথেষ্ট সন্দেহ ও সংশয় রয়েছে। এই কারণে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কিছু সদস্য চাচ্ছেন যে আগামী বছর সম্পূর্ণ আলাদা ও স্বতন্ত্র একটি নতুন বিল পাস করানো হোক। সেই সম্ভাব্য বিলে দেশের সাধারণ আইনপ্রণেতাদের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের শেয়ার কেনাবেচার ওপরও অত্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলা হয়েছে।

তবে এই স্পর্শকাতর শেয়ার কেনাবেচা ও ব্যবসা সংক্রান্ত পুরো বিষয়টির আইনি বৈধতা পাওয়ার এবং বিলটির চূড়ান্তভাবে আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা খুব একটা বেশি নয় বলেই প্রতীয়মান হয়। শেয়ার বাজার ও স্টক ব্যবসা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের এই অভ্যন্তরীণ মতভেদ ও দূরত্ব আগামী বছরের সংসদীয় রাজনীতিতে একটি বড় ও কঠিন চ্যালেঞ্জের স্পষ্ট আভাস প্রদান করে। কংগ্রেসে দীর্ঘদিন ধরে আসন দখল করে থাকা অনেক জ্যেষ্ঠ সদস্যই মূলত ধীরগতিতে পরিবর্তন আসার দীর্ঘস্থায়ী প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত অভ্যস্ত। ঐতিহ্যগতভাবে অভ্যস্ত এই রক্ষণশীল প্রবীণ সদস্যদের প্রবল প্রতিরোধ ও ক্ষোভ যেকোনো মূল্যে রাজনৈতিকভাবে সামাল দিতে হবে হবু স্পিকার হাকিম জেফ্রিসকে।

আসন্ন দিনগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে একসঙ্গে কাজ করাও হাকিম জেফ্রিসের জন্য অত্যন্ত কঠিন ও বন্ধুর একটি কাজ হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে নিজেকে ‘মিস্টার ভেটো’ বা ভেটো দানকারী ব্যক্তি হিসেবে প্রকাশ্যে অভিহিত করেছেন। ফলে তাঁর দিক থেকে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ভবিষ্যতে খুব সামান্য পরিমাণ সহযোগিতাও মিলবে বলে ডেমোক্র্যাট নেতারা মনে করছেন না, বরং তাঁরা আশঙ্কা করছেন যে সেখান থেকে বিন্দুমাত্র রাজনৈতিক সহযোগিতা না-ও পাওয়া যেতে পারে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা অন্য পক্ষের লোকজনের সঙ্গে আলোচনা ও সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টাতেও জেফ্রিসকে অতীতে নানা ধরনের রাজনৈতিক সমস্যায় পড়তে হয়েছে।

বিশেষ করে গত গ্রীষ্মকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রভাবশালী জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত ও গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন হাকিম জেফ্রিস। এই বৈঠকের খবর প্রকাশ পাওয়ার পর ডেমোক্র্যাট দলের কট্টর উদারপন্থী অংশ থেকে জেফ্রিসের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের ঝড় উঠেছিল। উল্লেখ্য যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের প্রেসিডেনশিয়াল মেয়াদের সময় মার্কিন ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা সংস্কারসংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আইন প্রণয়নের কাজে হাকিম জেফ্রিস ও জ্যারেড কুশনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন।

পরবর্তী সময়ে এই সমস্ত রাজনৈতিক সমীকরণ ও সমালোচনার জবাবে জেফ্রিস সিএনএনের কাছে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে যেকোনো জটিল সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান বের করা তাঁদের পবিত্র রাজনৈতিক দায়িত্ব। সেই অতিপ্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালনের স্বার্থেই কখনো কখনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ শিবিরের অন্য পক্ষের লোকজনের সঙ্গেও টেবিলে বসে আলোচনা করতে হয়। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট দলের সর্বময় শীর্ষ নেতা বা মাইনরিটি লিডার হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে হাকিম জেফ্রিসের বিশ্বস্ত সমর্থকেরা তাঁকে দলের ভেতর ও বাইরে বিভিন্ন উচ্চ ও গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। সেই সময়কার রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং বিভিন্ন প্রাথমিক উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচারণ আজও একাধিক ওয়াকিবহাল ব্যক্তি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে থাকেন।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
পিরোজপুরে নাপিতখালী খালের সেতু নির্মাণে ধীরগতির অভিযোগ

পিরোজপুরে নাপিতখালী খালের সেতু নির্মাণে ধীরগতির অভিযোগ