নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গত বুধবার প্রকাশিত আল-জাজিরার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, বিগত বছর প্রায় ৯০টি দেশের বিভিন্ন পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসিয়েছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর যুক্তি দেখিয়ে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক বাজারগুলোতে বেশ বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল।
যদিও গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের সেই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তটি অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করে দেয়, তবুও থেমে থাকেনি প্রশাসন। বিকল্প বিভিন্ন আইনি পথ ও ব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে তারা পুনরায় নতুন করে শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া চালু করে।
পরবর্তীতে ওই শুল্কের হার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়। তবে এই ধরনের শুল্কের মেয়াদ নির্দিষ্ট থাকে মাত্র ১৫০ দিন এবং এর মেয়াদকাল আরও বাড়াতে হলে মার্কিন কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের একান্ত প্রয়োজন হয়।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট দলীয় আইনপ্রণেতা ও রাজনীতিবিদদের পক্ষ থেকে জোরালো অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, এই অযৌক্তিক শুল্কনীতির কারণে পণ্যের আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে শেষ পর্যন্ত সমস্ত অর্থনৈতিক চাপ গিয়ে পড়ছে সাধারণ মার্কিন ক্রেতা ও ভোক্তাদের ওপরই।
এমন পরিস্থিতিতে সদ্য নির্বাচিত নতুন কংগ্রেস দেশের রপ্তানিকারকদের সাময়িক স্বস্তি ও স্বস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক ছাড় দেওয়ার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক ও মূল বাণিজ্যনীতিতে কোনো সুদূরপ্রসারী বা বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হলে ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া গত্যন্তর নেই।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর