নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বাংলাদেশ দলই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের কোচ নওশাদ মুসাও। ঢাকায় পা রেখে তিনি নিজের এই অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরে জানান যে, খেতাব জয়ের দৌড়ে ফেবারিট হিসেবে প্রথমে রয়েছে বাংলাদেশ, এর পরেই ভারত এবং তারপরে অবস্থান করছে পাকিস্তান।
প্রতিপক্ষের এমন সম্মানজনক স্বীকৃতি লাল-সবুজ দলের জন্য বড় প্রেরণা হলেও মাঠের খেলায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে ফুটবলারদেরই। কোচ টমাস ডুলি তার দলের খেলোয়াড়দের মনে এই আত্মবিশ্বাস শক্তভাবে গেঁথে দিতে সচেষ্ট রয়েছেন।
দীর্ঘ ২৩ বছরের ট্রফি খরা মনে করিয়ে দিয়ে কোচ বলেন, সমর্থকদের এবং দলের জন্য এবারের টুর্নামেন্টে জয় তুলে নিতে হবে। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে শিরোপা অধরা থাকার পর যখন ঘরের মাঠে খেলার এমন সুবর্ণ সুযোগ এসেছে, তখন স্কোয়াডের ভেতরে এক অন্যরকম উদ্দীপনা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।
খেলোয়াড়দের নিজের সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, এবার সত্যি কিছু করে দেখানোর মোক্ষম সময় হাজির হয়েছে এবং তা বাস্তবায়ন করার এখনই উপযুক্ত মুহূর্ত।
ভুটানের বিপক্ষে আসন্ন লড়াইয়ে নামার আগে কাগজ-কলমে ও পরিসংখ্যানের বিচারে সব দিক থেকেই এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের তালিকায় স্বাগতিকদের বর্তমান অবস্থান ১৮২ নম্বরে, যেখানে ভুটান পিছিয়ে থেকে অবস্থান করছে ১৯২তম স্থানে।
অতীতে দুই দলের পারস্পরিক লড়াইয়ের পরিসংখ্যানেও বাংলাদেশের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রয়েছে। এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত মোট ১৭টি ম্যাচের মধ্যে দীর্ঘ ১৩টিতেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বাংলার ছেলেরা।
তবে কেবল ভুটান ম্যাচের দিকে সীমাবদ্ধ না থেকে সার্বিক বিচারে আকর্ষণীয় ও প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল উপহার দেওয়াই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য।
কোচ টমাস ডুলি তার বক্তব্যে সর্বদা ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে বলেন, যদি মনে করা হয় কাজটি অসম্ভব, তবে তা কখনো অর্জন করা সম্ভব হবে না।
মাঠে লড়াই করার ক্ষমতা এবং সুন্দর ফুটবল খেলার মানসিকতা রাখতে হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, সবার মনে এই দৃঢ় বিশ্বাস ধারণ করতে হবে যে আমরা লড়াইয়ে সক্ষম।
স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের সমর্থন, ট্রফি জয়ের তীব্র জেদ, সদর্থক চিন্তা এবং একে অপরের পরিপূরক হয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠন করার মাধ্যমে ফুটবলাররা তাদের ভেতরের শক্তি আরও পাঁচ থেকে দশ শতাংশ বাড়িয়ে নিতে পারেন।
সাফল্যের মুখ দেখতে হলে ঠিক এমন একটি মানসম্মত ও সংহত দলই প্রয়োজন বলে মনে করেন কোচ টমাস ডুলি।
দলের অধিনায়ক তপু বর্মণও বর্তমান সময়টিকে বাংলাদেশের জন্য চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চমৎকার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। নিজের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি জানান, বিশেষ করে রক্ষণভাগ সামলে গোলরক্ষকসহ পুরো দলকে সহায়তা করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
অধিনায়কের মতে, এর চেয়ে সুসময় আর দ্বিতীয়টি আসবে না, কারণ দেশের মাটিতে সাফ ফুটবলের আসর বসা তাদের জন্য এক বিশাল সুযোগ।
২০০৫ সালের স্কোয়াডের সঙ্গে বর্তমান দলের মানের তুলনা টেনে তপু বর্মণ জানান, দুই দলের মধ্যে বেশ বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে এবং সেই বাস্তবতার নিরিখে এবারের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাও অনেক বেশি।
তবে শেষ পর্যন্ত সবাইকে দলবদ্ধ হয়ে চমৎকার নৈপুণ্য প্রদর্শন করতে হবে এবং দারুণ বোঝাপড়ার মাধ্যমে খেলতে হবে, তবেই ইতিবাচক কিছু অর্জন করা সম্ভব হবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর