নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে মেডিসিন, আইসিইউ এবং অ্যানেসথেসিয়া বিভাগ দ্রুত যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করে। রোগীর শারীরিক অবনতি দেখে অনেক ইন্টার্ন চিকিৎসক তাকে পরিবারের সদস্যের মতো আগলে রাখেন এবং পাহাড়সম আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠেন।
এই সংকটময় মুহূর্তে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন ক্রিটিক্যাল কেয়ার স্পেশালিস্ট ডা. অনুপম কুমার দাস। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ওই রোগীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইসিইউতে নিয়ে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যবস্থা হিসেবে বাইপ্যাপ ভেন্টিলেশন শুরু করা হয়।
চিকিৎসার ওই পুরো ২৪ ঘণ্টা জুড়ে কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক কোনো ক্লান্তি ছাড়াই রোগীর শিয়রে পাহারাদারের মতো জেগে থাকেন। তখনো পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি, তবে চিকিৎসকরা নিশ্চিত হয়েছিলেন যে তার হৃৎপিণ্ড, বৃক্ক এবং ফুসফুস একযোগে কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে।
এতসব জটিলতার মাঝেও কেবল তার মস্তিষ্ক সচল ছিল এবং ছিল বেঁচে থাকার এক তীব্র ও অদম্য ইচ্ছা। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর রোগীর অবস্থা যখন কিছুটা উন্নতির দিকে যায় এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলো চিকিৎসায় সাড়া দিতে শুরু করে, তখন গর্ভস্থ সন্তানকে পৃথিবীতে এনে মা ও শিশু উভয়কে সুরক্ষার সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ইনচার্জসহ নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক ও সেবিকা বা নার্সদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জাইতুনকে অস্ত্রোপচার কক্ষে অর্থাৎ ওটিতে স্থানান্তরিত করা হয়।
গত ২৭ অক্টোবর গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. জাহিরুন নেছা রেনু এবং অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের প্রধান ডা. সোহেলের উপস্থিতি ও দিকনির্দেশনায় এই জটিল অপারেশন শুরু হয়।
এই মেডিকেল টিমে আরও দায়িত্ব পালন করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহানাজ বেগম, সহকারী অধ্যাপক ডা. আয়েশা সিদ্দিকা এবং ডা. শাহানা জামান পলি। অত্যন্ত অল্প সময়ের এই সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে মাত্র ১.৮ কেজি ওজনের একটি অপরিপক্ব বা প্রিম্যাচিউর নবজাতক আলোর মুখ দেখে।
নবজাতক পৃথিবীতে আসার পর তাকে শিশু বিভাগে এবং প্রসূতি মাকে পুনরায় আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়, যা সম্পন্ন হওয়ার পর চিকিৎসকদের মনে স্বস্তি ফিরে আসে এবং তাদের বুক থেকে যেন এক বিশাল পাথর নেমে যায়।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর