নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ফরাসি রাজধানীর বুক চিরে বয়ে চলা সেন নদীর পাড়ে নটর-ডেম ক্যাথেড্রালের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে ঐতিহাসিক নান্না নামক এক ব্যতিক্রমী ভাসমান বইয়ের দোকান। ক্যাথেড্রালের মিনার ছুঁয়ে আসা পড়ন্ত বিকেলের কোমল রোদের আলো এসে সরাসরি আছড়ে পড়ছে এই নদীর সচল ঢেউয়ের ওপর।
সেখানে ঘাটে স্থায়ীভাবে নোঙর করা বিশেষ বোট নান্নার উন্মুক্ত ডেকে বসে হালকা বাতাস গায়ে মেখে গরম কফির পেয়ালায় চুমুক দেওয়ার চমৎকার দৃশ্যটি যে কাউকেই বিমোহিত করবে। এই পরিবেশটি ভাবলেই যেকোনো মানুষের মনের ভেতর শান্ত ও মৃদু এক নদীর স্রোত বয়ে যায় অনায়াসে।
অবশ্য এটি কেবল কোনো কাল্পনিক দৃশ্য নয়, বরং শত শত বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাস বুকে ধারণ করে স্বগৌরবে দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক নটর-ডেমের বাস্তব রূপ। এর চারপাশের চারুকলার ল্যাটিন কোয়ার্টারের প্রাচীন গলিগুলো থেকে ভেসে আসে ট্রামের মৃদু গুঞ্জন আর চারপাশ মাতানো সুরের মূর্ছনা।
নান্নার জলীয় ডেকে বসে নিজের হাতে ধরা বইটির পাতার ওপর দৃষ্টি নিবন্ধ করার ঠিক আগের মুহূর্তে পানির ছলাৎ ছলাৎ আওয়াজ শোনা যায়। একই সঙ্গে নদীর বুক চিরে যাতায়াত করা বিভিন্ন পর্যটকবাহী বোটের চলাচল দেখতে দেখতে দর্শকের মনে হতে পারে যে সময় বুঝি এখানে এসে থমকে গেছে।
সাহিত্যের বিশাল জগতের সঙ্গে প্যারিসের স্পন্দনশীল ও জীবন্ত ইতিহাস এখানে এসে একেবারে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। এ রকম এক মায়াবী এবং অনন্য দৃশ্যপটই এখন অপেক্ষা করছে সেন নদীর বুকে মাথা তুলে দাঁড়ানো এই একেবারে নতুন সাহিত্যিক ঠিকানাটিতে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর