নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মালয়েশিয়াপ্রবাসী রিপন আহমেদের একান্ত প্রচেষ্টায় এবং প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সরাসরি হস্তক্ষেপে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরে এসেছেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও চরম উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে তাঁদের এই স্বদেশের মাটিতে ফিরে আসা পরিবারে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে প্রায় দুই মাস আগে, যখন মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত সবুজ আলীর বড় ভাই রিপন আহমেদ যোগাযোগ করেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে। সে সময় তিনি টাঙ্গাইলের এই দুই যুবকের মুক্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজপত্র ও শক্ত সব তথ্যপ্রমাণ প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠিয়ে দেন।
পরিবারের পাঠানো নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং নিখোঁজ দুই যুবকের সঠিক অবস্থান খুঁজে বের করার জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করেন। দীর্ঘ তল্লাশির একপর্যায়ে জানা যায় যে, ওই যুবকেরা লিবিয়ার একটি বন্দিশালা অর্থাৎ তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
মালয়েশিয়া থেকে মুঠোফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিপন আহমেদ জানান যে, গত আগস্ট মাসের শেষ দিকে তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে পরিবারের সব ধরনের যোগাযোগ হঠাৎ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সম্পূর্ণ দিশেহারা ও নিরুপায় হয়েই তিনি তখন হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বাধ্য হন।
রিপন আহমেদ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আরও বলেন যে, প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁর সমস্ত কথা শুনেছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, প্রতিমন্ত্রীর এই সময়োপযোগী সহায়তা না পেলে তাঁর ভাই বর্তমানে ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন, সেটিও হয়তো তাঁদের পক্ষে কখনো জানা সম্ভব হতো না।
অন্যদিকে লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি দায়িত্বশীল সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে যে, প্রতিমন্ত্রী টুকুর ব্যক্তিগত উদ্যোগের কারণেই প্রায় দুই মাস আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব সরাসরি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন।
পরবর্তীতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয় এবং লিবিয়ায় আটকে থাকা ওই দুই যুবকের আসল পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরপরই তাঁদের দ্রুত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার যাবতীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল।
সর্বোপরি, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা তথা আইওএম-এর যৌথ ও সমন্বিত সহযোগিতায় মানবিক প্রত্যাবাসন কর্মসূচির আওতায় তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর