নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
আমাদের রাষ্ট্রে ভোটাধিকার এবং গণতন্ত্রের প্রকৃত চর্চা অনুপস্থিত উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানান যে, নব্বইয়ের দশকের পরবর্তী সময় থেকে বিভিন্ন বুর্জোয়া রাজনৈতিক দল এবং মাফিয়া চক্র মিলে সমস্ত ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন ও সংগঠন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছে। এর ফলেই মূলত দেশে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের কোনো গণতান্ত্রিক পরিবেশ টিকে নেই। কলকারখানায় শ্রমিকদের পক্ষে ইউনিয়ন করতে গেলে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয় এবং দীর্ঘ লড়াইয়ের মাধ্যমেই কেবল ইউনিয়ন ও তার রেজিস্ট্রেশন অর্জন করতে হয়।
এর বিপরীতে মালিকপক্ষের অনুগত পকেট ইউনিয়নগুলো অত্যন্ত সহজে এবং কোনো বাধা ছাড়াই খুব দ্রুত সরকারি রেজিস্ট্রেশন পেয়ে থাকে। মালিকপক্ষ যত বেশি ফন্দিফিকির করবে এবং শ্রমিকদের ওপর দমন-পীড়ন চালাবে, তাদের আন্দোলন ততই স্বতঃস্ফূর্ত রূপ নিয়ে বিক্ষিপ্তভাবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করা হয়।
দেশের অর্থনীতি মূলত যে খাতটির ওপর দাঁড়িয়ে আছে এবং যে খাত থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ রপ্তানি আয় আসে, সেই খাতের শ্রমিকদের রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তাঁদের জীবনের কোনো ধরনের নিশ্চয়তা নেই। কারখানার ভেতরে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করার জন্য যে ন্যূনতম পুষ্টির প্রয়োজন, তা কেনার মতো সামর্থ্যও তাঁদের থাকে না।
শ্রমিকেরা তাঁদের সন্তানকে সাধারণ বিদ্যালয়ে পড়াতে না পেরে বাধ্য হয়ে মাদ্রাসায় পাঠান, যেখানে অনেক সময় শিশুরা ভয়াবহ ধরনের যৌন নিপীড়নসহ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়। শ্রমিকের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, সন্তানের শিক্ষা এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো নিয়ে সরকার ও মালিকপক্ষ কখনোই আন্তরিকভাবে চিন্তা করে না।
শ্রমিকদের মুনাফা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখা ছাড়া তাঁদের ব্যক্তিগত স্বার্থ বা জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মাথাতেই কোনো চিন্তা আসে না, আর এই কারণেই বর্তমান শ্রমিক আন্দোলনগুলোর রূপ ক্রমান্বয়ে স্বতঃস্ফূর্ত ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সবার আগে শ্রমিকদের সামনে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারি দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শক্তি প্রদর্শন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে যাদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের দ্রুত মুক্তি দিতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মিথ্যা মামলা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করতে হবে।
তৈরি পোশাক খাতসহ দেশের সব ন্যাশনাল ফেডারেশনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে অবিলম্বে বসে আলোচনার ব্যবস্থা করতে হবে। কেবল কেন্দ্রীয় নেতাই নন, বরং বিভিন্ন এলাকা ও নির্দিষ্ট কারখানাভিত্তিক শ্রমিকনেতাদের সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়।
সরকারের বিশাল প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান এবং অসংখ্য ট্রেড ইউনিয়ন রয়েছে, যা কাজে লাগিয়ে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সংকট সমাধান করা সম্পূর্ণ সম্ভব। অবিলম্বে মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
শ্রমিকেরা যে অত্যন্ত দ্রুত বর্ধিত মজুরি হাতে পেতে চান, নীতিনির্ধারকদের তা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে এই স্পষ্ট বার্তাটি গণমাধ্যম, বিভিন্ন সংগঠন এবং নিজ নিজ বাহিনীর মাধ্যমে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর