ঢাকা | বঙ্গাব্দ

রোনালদোর অবসরে কোনো অপরাধবোধ নেই কোচের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 7, 2026 ইং
রোনালদোর অবসরে কোনো অপরাধবোধ নেই কোচের ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই কিংবদন্তির অবসরের ঘটনায় তাঁর মনে বিন্দুমাত্র কোনো অপরাধবোধ কাজ করছে না। তিনি দাবি করেছেন, দলের সামগ্রিক কল্যাণের কথা মাথায় রেখেই তিনি সব ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান একচল্লিশ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড রোনালদো। ফুটবলবিশ্বের একটি বড় অংশের ধারণা, জর্জ জেসুসের সঙ্গে চলা দ্বন্দ্বের কারণেই পর্তুগালের জার্সি গায়ে জড়ানোর এই ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

অবসরের সংবাদ প্রকাশ্যে আসার পর পরই তাত্ক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় কোচ জেসুস মন্তব্য করেছিলেন যে, এটি সম্পূর্ণভাবেই রোনালদোর নিজস্ব সিদ্ধান্ত। যদিও তিনি তারকা এই ফরোয়ার্ডকে দলে থেকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন, তবুও তাঁর এই সিদ্ধান্ত তাকে শেষ পর্যন্ত মেনে নিতে হচ্ছে।

এর পরদিন গত শুক্রবার উয়েফা নেশনস লিগে ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচগুলো সামনে রেখে নতুন স্কোয়াড ঘোষণা করেন জেসুস। সেই সংবাদ সম্মেলনেও ঘুরেফিরে আসে রোনালদোর অবসরের প্রসঙ্গটি।

জাতীয় দলের অধিনায়কের বিদায়ের ঘটনায় অনুশোচনায় ভোগার তো প্রশ্নই ওঠে না, বরং জেসুস সংবাদমাধ্যমকে জানান যে তিনি এমন আকস্মিক কোনো সিদ্ধান্ত আশা করেননি। এবারের নেশনস লিগের দলেও তিনি রোনালদোকে অন্তর্ভুক্ত করতেন বলে পরিষ্কার জানিয়েছেন।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জেসুস আরও বলেন, হয়তো তাঁর দিক থেকে কিছু তাড়াহুড়ো হয়ে থাকতে পারে, তবে তার মানে এই নয় যে তাঁর কারণে রোনালদো অবসর নিয়েছেন। দলে সুযোগ পাওয়া কিংবা না পাওয়ার বিষয়টি যে রোনালদোর মাথায় আগে থেকেই ঘুরপাক খাচ্ছিল, তা তাদের পারস্পরিক কথাবার্তাতেই স্পষ্ট হয়েছিল।

পর্তুগাল কোচের ভাষ্যমতে, রোনালদোর চলে যাওয়ার ঘটনায় তাঁর মনে কোনো প্রকার অনুতাপ নেই। তিনি শতভাগ সম্মান জানান এই ফরোয়ার্ডের নেওয়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রতি।

রোনালদো যে ভবিষ্যতে আবারও জাতীয় দলে ফিরবেন, সেই আশার কথা ব্যক্ত করে জেসুস জানান যে তিনি ভেবেছিলেন এই তারকা খেলোয়াড় ফিরবেন এবং তাঁকে দলে ডাকার জন্য তিনি কথা বলবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। রোনালদো নিজেই উপলব্ধি করেছেন যে জাতীয় দল ছেড়ে যাওয়ার জন্য বর্তমান সময়টিই উপযুক্ত।

উল্লেখ্য, কোচ জেসুসের সঙ্গে তীব্র বিরোধের জেরে গত সেপ্টেম্বর মাসের আন্তর্জাতিক বিরতির সময় পর্তুগালের অনুশীলন ক্যাম্প আকস্মিকভাবে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন রোনালদো। নরওয়ের বিপক্ষে নেশনস লিগের ওই ম্যাচে তিনি কেবল একাদশে ছিলেন না, এমনকি বদলি খেলোয়াড় হিসেবেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি।

পরবর্তী ম্যাচটি ডেনমার্কের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, সেই ম্যাচেও একাদশে জায়গা মিলবে না জানতে পেরে কোপেনহেগেনে দলের ক্যাম্প ত্যাগ করেন রোনালদো। তৎকালীন সময়ে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবলার কোচ জেসুসের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ করার গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন।

সে সময় গণমাধ্যমে ঝড় তোলা সেই ঘটনার পর একটি বিষয় একদম স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, জেসুসের চোখে জাতীয় দলে রোনালদো আর আগের মতো স্বয়ংক্রিয় বা অপরিহার্য কোনো পছন্দ নন। পরবর্তী সময়ে রোনালদো নিজের ভুল স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং নিজের শাস্তির দাবি জানান।

এর পরিপ্রেক্ষিতে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন বা এফপিএফ তাঁকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে। সেই শাস্তির মেয়াদ সফলভাবে শেষ করার পর থেকেই নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে নেশনস লিগের ম্যাচে রোনালদোকে পুনরায় পর্তুগিজ স্কোয়াডে দেখার অপেক্ষায় ছিলেন তাঁর অগণিত ভক্ত।

কিন্তু তার আগেই আচমকা অবসরের পথ বেছে নেন রোনালদো। এই পুরো বিতর্কিত ঘটনার প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে আত্মপক্ষ সমর্থনে জেসুস বলেন, দলের স্বার্থ এবং ভবিষ্যৎ ভাবনাই ছিল তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে।

পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে ইতিপূর্বে ইউরো ও নেশনস লিগের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা জয় করেছেন রোনালদো। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সর্বাধিক ম্যাচ খেলা এবং সর্বোচ্চ গোলের বিশ্বরেকর্ডও নিজের নামের পাশে লিখেছেন তিনি।

জাতীয় দলের জন্য রোনালদোর অসামান্য অবদান এবং গৌরবোজ্জ্বল অর্জনগুলোকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন কোচ জেসুস। তিনি উল্লেখ করেন যে, পর্তুগালের ফুটবলের জন্য রোনালদো যা করেছেন, দেশের প্রতি তাঁর নিবেদন এবং উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড়দের কাছে তিনি যে রোল মডেল—এই সত্যগুলো কোনোভাবেই উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।

এদিকে নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট আগেই নিশ্চিত করা পর্তুগাল দল আগামী ১৪ নভেম্বর শনিবার রাতে ব্রাগার মাঠে আতিথ্য দেবে ডেনমার্ককে। এরপর ১৭ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে কার্ডিফ শহরে স্বাগতিক ওয়েলসের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা।

উভয় ম্যাচই মূলত গ্রুপ পর্বের লড়াই। আর এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই রোনালদোবিহীন পর্তুগাল দল প্রথমবারের মতো কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মাঠে নামতে যাচ্ছে।

দলের এই নতুন যাত্রায় কোচ জেসুস প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডেকে পাঠিয়েছেন ইতালিয়ান সিরি ‘আ’ লিগের বর্তমান সময়ের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং মনজা ক্লাবের স্ট্রাইকার গুস্তাভো ভ্যারেলা এবং পোর্তো ক্লাবের রাইটব্যাক আলবার্তো কস্তাকে।

অন্যদিকে ইনজুরির মারাত্মক সমস্যার কারণে এবারের দলে জায়গা পাননি দলের নিয়মিত মুখ নুনো মেন্দেজ ও ফ্রান্সিসকো কনসেইকাও। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দলে কামব্যাক করেছেন এখনও কোনো ম্যাচ না খেলা তরুণ উদীয়মান প্রতিভা রদ্রিগো মোরা।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
আজিমপুর কলোনিতে আকস্মিক উচ্ছেদ, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

আজিমপুর কলোনিতে আকস্মিক উচ্ছেদ, বিপাকে শিক্ষার্থীরা