নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
লাল বলের ক্রিকেটে দেশের হয়ে ম্যারাথন ইনিংস খেলার রেকর্ড সবসময়ই ব্যাটারদের বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করে। বিশ্বমঞ্চে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবিস্মরণীয় রেকর্ডের মালিক ব্রায়ান লারা, যিনি ২০০৪ সালে অ্যান্টিগা দ্বীপে ইংল্যান্ডের বোলারদের মোকাবিলা করে অপরাজিত ৪০০ রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন, যা আজ পর্যন্ত এই ফরম্যাটের সর্বকালের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ হিসেবে অক্ষত রয়েছে।
ক্যারিবীয় তারকার ঠিক আগে এই মর্যাদাপূর্ণ মুকুটটি পরেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মারকুটে ওপেনার ম্যাথু হেইডেন। ২০০৩ সালে পার্থের মাঠে জিম্বাবুয়েকে পাত্তাই না দিয়ে ৩৮০ রানের ঝলমলে এক ইনিংস খেলেছিলেন তিনি, যা সেই নির্দিষ্ট সময়ে লাল বলের লড়াইয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল।
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং ইতিহাসে লঙ্কানদের হয়ে সেরা ইনিংসটি খেলেছেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। কলম্বোর পিচে দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তিশালী বোলিং লাইনআপের বিপক্ষে ২০০৬ সালে তিনি ৩৭৪ রানের নান্দনিক এক ইনিংস খেলে দলের রেকর্ড বইয়ের শীর্ষে নিজের নাম খোদাই করে নেন।
অন্যদিকে প্রোটিয়াদের রেকর্ড তালিকায় সম্প্রতি নাম লিখিয়েছেন উইয়ান মুল্ডার। জিম্বাবুয়ের মাটিতে ২০২৫ সালের টেস্ট ম্যাচে ৩৬৭ রান করে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন এই দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার, যা তাদের দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে যেকোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস হিসেবে গণ্য করা হয়।
ঐতিহাসিক অ্যাশেজ লড়াইয়ে ইংলিশ ব্যাটার লেন হটন ১৯৩৮ সালে ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৬৪ রানের একটি ধৈর্যশীল ও ঐতিহাসিক ইনিংস খেলেছিলেন। এই ধরনের দ্বৈরথে ব্রিটিশদের হয়ে এই রেকর্ডটি দীর্ঘ সময় ধরে এক অনন্য উচ্চতায় অবস্থান করছে।
প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ভেন্যু ব্রিজটাউন রেখে পাকিস্তানের তারকা হানিফ মোহাম্মদ খেলেছিলেন ৩৩৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। দীর্ঘ সময় ক্রিজে কাটিয়ে দলের জন্য মহামূল্যবান এই রান সংগ্রহ করে তিনি পাকিস্তানি ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের মালিক হয়েছেন।
ভারত দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান সংগ্রহের কৃতিত্ব বীরেন্দর শেবাগের দখলে। চেন্নাইয়ের মাটিতে ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের ওই ম্যাচটিতে তিনি ৩১৯ রানের একটি অতি আক্রমণাত্মক ও চোখ জুড়ানো ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন।
কিউইদের হয়ে টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেছেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। ২০১৪ সালে ওয়েলিংটনে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট লড়াইয়ে তিনি ৩০২ রানের ঐতিহাসিক ও লড়াকু এক ইনিংস খেলে নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহের রেকর্ড গড়েন।
আফ্রিকান দেশ জিম্বাবুয়ের রেকর্ড বইয়ে নাম রয়েছে ডেভ হিউটনের। ১৯৯৪ সালে বুলাওয়ে শহরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লড়ে তিনি ২৬৬ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেলেছিলেন, যা জিম্বাবুইয়ান ব্যাটারদের মধ্যে টেস্টে সর্বোচ্চ রান হিসেবে টিকে আছে।
বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে তরুণ তাওহিদ হৃদয় ২০২৬ সালে সিলেটের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে ২৪২ রানের এক চমৎকার ও দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই কীর্তি গড়েন।
আফগানিস্তানের হয়ে লাল বলের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ এসেছে হাশমতউল্লাহ শহীদির ব্যাট থেকে। ২০২৪ সালে বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রতিপক্ষ বোলারদের শাসন করে তিনি ২৪৬ রানের অনবদ্য একটি ইনিংস উপহার দেন।
ইউরোপের দেশ আয়ারল্যান্ডের টেস্ট অভিষেকের ঐতিহাসিক বছর ২০১৮ সালে ম্যালাহাইডে পাকিস্তানের বিপক্ষে কেভিন ও’ব্রায়েন ১১৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছিলেন। আইরিশদের টেস্ট ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর সামগ্রিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, আয়ারল্যান্ড দলের বর্তমান খেলোয়াড়দের কারও নামের পাশে এখনো কোনো ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি যুক্ত হয়নি।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর