ঢাকা | বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালালে তেল ও এআই অবকাঠামো ধ্বংসের হুংকার ইরানের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 23, 2026 ইং
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালালে তেল ও এআই অবকাঠামো ধ্বংসের হুংকার ইরানের ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি পুনরায় কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন পরিচালনার দুঃসাহস দেখায়, তবে তার বিরুদ্ধে পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় সর্বাত্মক ও কঠোর প্রতিশোধমূলক আঘাত হানার জোরালো चेतावनी উচ্চারণ করেছে ইরান। মার্কিন প্রশাসন ও তেল আবিব যদি যৌথভাবে আবারও আক্রমণ চালায়, তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় সাতটি ভিন্ন দেশের জ্বালানি উৎপাদন স্থাপনা, সমুদ্রতলের ইন্টারনেট ডেটা ক্যাবল নেটওয়ার্ক, প্রধান ডেটা সেন্টার এবং সর্বাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআই পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান। সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সম্মানিত সচিব মহসেন রেজাই এই আক্রমণাত্মক ও কড়া বার্তাটি প্রকাশ করেছেন।

মহসেন রেজাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান সংঘাত যদি আরও ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ে, সেক্ষেত্রে তেহরান অতীতের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং ধ্বংসাত্মক সামরিক কৌশল গ্রহণ করবে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, একপক্ষে যদি ইরানের অর্থনৈতিক জীবনীশক্তিতে সরাসরি আঘাত হানা হয়, আর অন্যদিকে আক্রমণকারী দেশের আঞ্চলিক সহযোগীদের বাণিজ্যিক অবকাঠামোগুলো সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে—এমন বৈষম্যমূলক কোনো হিসাব-নিকাশ বা সমীকরণ মেনে নেবে না তেহরান।

ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকারের বিশিষ্ট উপদেষ্টা মেহেদি মোহাম্মাদি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নতুন করে তেহরানে হামলার ব্যাপারে নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। তবে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সতর্ক করে বলেছেন যে, আসন্ন দিনে যদি তাদের ওপর নতুন আক্রমণ আসে, তবে সেটিকে ইরান তাদের দেশের অস্তিত্ব রক্ষার চূড়ান্ত লড়াই হিসেবে গণ্য করবে। তেহরানের নতুন ও পরিবর্তিত সামরিক রণকৌশলে কোনো ধরনের সীমারেখা বা নির্দিষ্ট 'রেডলাইন' অবশিষ্ট থাকবে না। ফলস্বরূপ, এই সম্ভাব্য যুদ্ধ শত্রু পক্ষের প্রাথমিক হিসাব-নিকাশকে ছাড়িয়ে বহুগুণ দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং ভৌগোলিকভাবে এক বিশাল অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।

আসন্ন এই সামরিক অভিযানের সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ভূখণ্ডে ইতোমধ্যে তিনটি বিশাল বিমানবাহী রণতরী, হাজার হাজার প্রশিক্ষিত মেরিন সেনা এবং সর্বাধুনিক ও বিধ্বংসী যুদ্ধবিমান মোতায়েন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রভাবশালী গণমাধ্যমে সম্প্রতি প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পরপরই ইরানে যৌথ সামরিক আগ্রাসন চালানোর জন্য পেন্টাগন সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করে ফেলেছে।

ইরানে হামলার সামগ্রিক প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করার অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে তিনটি বিমানবাহী রণতরী, হাজার হাজার মেরিন সেনা এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পাঠানোর কাজ জোরদার করেছে ওয়াশিংটন। এই সামরিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি ইসরায়েল সফর করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং সেখানে তিনি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।

ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রবল আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের বাজারে ইতোমধ্যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে এবং এর প্রভাবে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ১১৩ দশমিক ৪ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।

ইরানের শক্তিশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী তথা আইআরজিসির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বার্তা সংস্থা ফারস জানিয়েছে, আসন্ন নতুন এই যুদ্ধে যদি ইরানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে কোনো ধরনের হামলা চালানো হয় অথবা সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করা হয়, তবে তেহরান কেবল সামরিক স্থাপনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং শত্রু দেশের রাজনৈতিক কেন্দ্রগুলোকেও তাদের প্রধান নিশানা বানাতে বাধ্য হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মোঃ সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ ও নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগে আইনি নোটিশ

মোঃ সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ ও নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগে আইনি নোটিশ