ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ: তদন্তের নির্দেশ ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 29, 2026 ইং
নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ: তদন্তের নির্দেশ ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি ভোটারদের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে উগ্র ডানপন্থী ও কট্টর ইহুদিবাদী মহলের নানা সমালোচনার মুখে এবার ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর সমর্থনে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া সাধারণ নির্বাচনে যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তিনি দেশের সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটি এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেটের প্রধানদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেছেন এবং বিষয়টি গভীর ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্তের জোর তাগিদ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর রাজনৈতিক সহযোগীরা ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ তোলার প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট হারজগ নিজের এই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান জাতির সামনে স্পষ্ট করলেন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে রাষ্ট্রপ্রধান জানিয়েছেন যে, এই পুরো সময় জুড়ে সন্দেহভাজন বিষয়গুলোর তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি তিনি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট হারজগ আরও জোরালো ভাষায় বলেছেন যে, রাজনৈতিক উত্তেজনার এমন একটি নাজুক মুহূর্তেও পুরো একটি সম্প্রদায়কে কখনোই কলঙ্কিত করা উচিত নয়, বিশেষ করে যখন সেই জনপদের মানুষ নিজেদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে চেয়েছিল।

আসন্ন নতুন জোট সরকার গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ঠিক আগমুহূর্তে দেশের সর্বোচ্চ এই সাংবিধানিক পথপ্রদর্শক সব রাজনৈতিক শক্তির প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তাঁরা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের বৃহত্তর কল্যাণে নিজেদের জাতীয় দায়িত্ববোধ থেকে নিজ নিজ অবস্থান পুনর্বিবেচনা করেন।

গত মঙ্গলবার সম্পন্ন হওয়া নির্বাচনে মূল বিরোধী জোটের ভেতরে একমাত্র আরব ইসরায়েলি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোই সবার প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে বেশ ভালো ও সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করে। আর এই অপ্রত্যাশিত সাফল্যের পরপরই প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং তাঁর জোটভুক্ত অন্য সদস্যরা আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিতে শুরু করেন এবং এই দলগুলোর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত করার দাবি জানিয়ে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেটের দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেন।

ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এই দাবির মূল ভিত্তি ছিল যে, ভোট কেনাবেচা করার উদ্দেশ্যে এবং ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি নাগরিকদের ভোটদানে আরও বেশি উৎসাহিত করার জন্য কাতারের অর্থ অবৈধ পন্থায় ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও সরকারি মহলের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হলেও এখন পর্যন্ত এই অভিযোগের সপক্ষে বিন্দুমাত্র কোনো প্রমাণ বা শক্ত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

দেশের অন্যতম প্রভাবশালী পত্রিকা ‘হারেৎস’ জানিয়েছে, পুলিশ বাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাਤ দিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এবারের সংসদ নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপির ন্যূনতম লক্ষণও দৃশ্যমান ছিল না; বরং গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হওয়া এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত ও সন্তোষজনক ছিল।

নির্বাচনের দিন নাজারেথ শহরে ভোটারদের উপস্থিতি স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে অনেক বেশি লক্ষ্য করা গিয়েছিল, যার পেছনে কাজ করেছিল গভীর উদ্বেগ ও এক ধরনের ভীতি। ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের ভোটারদের মধ্যে এই আশঙ্কা জোরালো ছিল যে, নেতানিয়াহুর সরকারের উগ্রপন্থীরা যদি পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসে, তবে তা এই জনপদের ওপর কী ধরনের ক্ষতিকর হামলা বা কঠোর পদক্ষেপ ডেকে আনতে পারে।

নির্বাচন ঘিরে অনিয়মের যেসব বিচ্ছিন্ন বা সামান্য খবর সংবাদমাধ্যমে পাওয়া গেছে, সেগুলোর মূল উৎস অনুসন্ধান করলে দেখা যায় যে, সেই অনিয়মগুলোর সঙ্গে মূলত ক্ষমতাসীন জোটেরই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যায় যে, অনেক ভোটকেন্দ্রে যে ব্যালট পেপারগুলো পাঠানো হয়েছিল, সেগুলোর সবই কেবল হিব্রু ভাষায় মুদ্রিত ছিল এবং উগ্র-ডানপন্থী দলীয় পর্যবেক্ষকেরা ভোট গ্রহণের স্বাভাবিক গতি ধীর করে দেওয়ার অসদুদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের কারসাজি ও কৌশল প্রয়োগ করেছিলেন।

এ ছাড়া ইসরায়েলি রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্থাপিত এই সমস্ত অভিযোগের পেছনের প্রেক্ষাপটে একটি অদ্ভুত বৈপরীত্য বা বিদ্রূপাত্মক পরিস্থিতিও লক্ষণীয়। এর কারণ হলো, খোদ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেই একটি বড় দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে রয়েছেন, যেখানে উপসাগরীয় অঞ্চলের রাজতন্ত্র কাতারকে নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং অভিযোগ উঠেছে যে কাতারের ভাবমূর্তি উন্নত করার বিনিময়ে নেতানিয়াহুর নিজস্ব উপদেষ্টারা কাতারি অর্থ গ্রহণ করেছিলেন।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সিরাজদিখানে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল বসতঘর ও রান্নাঘর

সিরাজদিখানে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল বসতঘর ও রান্নাঘর