নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির মুহূর্তের একটি পরিচিত ভিডিও রেকর্ড করে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় বেশ পরিচিতি পেয়েছিলেন তরুণ তাহসিফ সাউরী। সাম্প্রতিক সময়ে এই তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পেছনের রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই।
তদন্তের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের বন্ধু দীপকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পিবিআইয়ের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা। সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাকে সঙ্গে নিয়ে পুরো রাতজুড়ে একাধিক এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই ঘটনার রাতে তাঁরা একটি নির্দিষ্ট স্থানে আলাপচারিতায় ব্যস্ত ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে অজ্ঞাত কিছু ব্যক্তি তাঁদের ধাওয়া করলে প্রাণভয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন তাহসিফ এবং দীপ নিজে কোনোমতে সেখান থেকে পালিয়ে যান।
এদিকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান গণমাধ্যমকে জানান, জিজ্ঞাসাবাদের মুখে বন্ধু দীপের দেওয়া প্রতিটি কথা গভীর সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, পুলিশ পোশাকধারী কোনো ব্যক্তি তাঁদের তাড়া করেছিল বলে দাবি করেছেন দীপ, আর এই ঘটনার সঙ্গে প্রকৃত অর্থে কারা জড়িত ছিল তা গুরুত্বের সঙ্গে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
সংস্থাটির এই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও যোগ করেন যে, ঘটনার শিকার তরুণরা মাদকদ্রব্য সেবন করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে আসার পরই কেবল শতভাগ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল নিশ্চিত করেছেন যে, বন্ধু দীপকে আটকের পর বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য তাদের হাতে এসেছে। তবে তদন্ত কার্যক্রমের গোপনীয়তা বজায় রাখার স্বার্থে এই মুহূর্তে সব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা সমীচীন হবে না বলে জানান তিনি।
دوسری جانب، মৃতদেহ উদ্ধার হওয়া এলাকার কাছাকাছি টঙ্গী পশ্চিম থানার অন্তর্গত মাজার বস্তি অঞ্চল থেকে একটি নম্বরপ্লেটহীন মোটরসাইকেল জব্দ করেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ গণমাধ্যমকে জানান, জলাশয় থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরত্বের একটি স্থান থেকে উদ্ধার করা এই মোটরযানটির আসল মালিককে শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তাহসিফ যে মোটরযানটি ব্যবহার করেছিলেন, ক্লোজ সার্কিট বা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে সেটিও ছিল নম্বরপ্লেটবিহীন।
নিহত তরুণের বাবা এনায়েতুল করিম গণমাধ্যমকে জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে বন্ধু দীপের একটি ফোনকল পেয়েই মূলত ঘর ছেড়ে বাইরে গিয়েছিলেন তাঁর ছেলে। এরপর রাত ১টা বেজে ৩৫ মিনিটের দিকে তাহসিফের নিজস্ব মুঠোফোন থেকে তাঁর মায়ের নম্বরে একটি খুদে বার্তা বা এসএমএস আসে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল যে তিনি দ্রুত বাড়ি ফিরে আসছেন।
তবে শোকাহত বাবার জোরালো ধারণা, ওই বিশেষ বার্তাটি পাঠানোর সময় তাঁর সন্তান মারাত্মক কোনো মানসিক চাপ কিংবা চরম ব্যস্ততার মধ্যে অবস্থান করছিলেন। উক্ত বার্তাটি পাওয়ার পর থেকেই তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়া যায় এবং এরপর তাঁর আর কোনো খোঁজ মেলেনি।
এই পুরো ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের জন্য বর্তমানে পিবিআইয়ের বেশ কয়েকটি বিশেষ টিম মাঠে নেমে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর