ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বিলুপ্ত হলো নারীশক্তির কমিটি, নতুন আহ্বায়ক মাহমুদা মিতু

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
বিলুপ্ত হলো নারীশক্তির কমিটি, নতুন আহ্বায়ক মাহমুদা মিতু ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

গঠনের মাত্র সাড়ে সাত মাসের মাথায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরপরই একটি নতুন আংশিক কমিটি জাতির সামনে প্রকাশ করা হয়েছে।

এই সাংগঠনিক রদবদলের ফলে সংগঠনের শীর্ষ পর্যায় থেকে বাদ পড়েছেন মনিরা শারমিন। তিনি এতদিন আহ্বায়কের দায়িত্বে থাকলেও নতুন ঘোষণায় তাকে সরিয়ে সেই আসনে বসানো হয়েছে সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম মিতুকে।

এর আগে মাহমুদা আলম মিতু বিলুপ্ত কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অপরদিকে, নতুন কমিটিতে সদস্যসচিবের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়েছে নুসরাত তাবাসসুমের ওপর।

এর আগের কমিটিতে নুসরাত তাবাসসুম তৃতীয় শীর্ষ পদ তথা মুখ্য সংগঠকের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। সাম্প্রতিক এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নারী নেতৃত্বে একটি নতুন বিন্যাস ঘটল।

আজ রোববার দুপুর সোয়া ১২টার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এনসিপির দাপ্তরিক ও ভেরিফায়েড পেজ থেকে নারীশক্তির এই তিন সদস্যের আংশিক কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশিত এই কমিটিতে সংরক্ষিত নারী আসনের দুই সংসদ সদস্য মাহমুদা ও নুসরাতের পাশাপাশি নতুন মুখ্য সংগঠক হিসেবে মনজিলা ঝুমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিন জাতীয় নারীশক্তি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল। সেই সূচনালগ্নে আহ্বায়কের দায়িত্বে মনিরা শারমিন, সদস্যসচিব হিসেবে মাহমুদা এবং মুখ্য সংগঠক পদে নুসরাতের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে ওই বছরের গত ১৮ এপ্রিল সংগঠনটির ৫৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি জনসাধারণের সামনে আনা হয়। আজ সেই কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেওয়া হলো।

নতুন কমিটি গঠনের এই বিষয়ে জানানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এনসিপির মূল আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশক্রমে নারীশক্তির পুরনো কমিটি বাতিল করা হয়েছে।

পাশাপাশি নতুন এই আহ্বায়ক আংশিক কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে তা প্রকাশের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের বিপরীতে প্রথমে মনিরা ও মাহমুদার নাম দলীয়ভাবে চূড়ান্ত করেছিল এনসিপি।

তবে নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক বাছাই প্রক্রিয়ার সময় মনিরা শারমিনের দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রটি বাতিল বলে গণ্য করা হয়।

অন্যদিকে নুসরাত তাবাসসুমও সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পরে পৌঁছানোর কারণে তার কাগজ প্রথমে গ্রহণ করেনি ইসি।

পরবর্তীতে আদালতের সুনির্দিষ্ট আদেশের বলে নির্বাচন কমিশন নুসরাতের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে বাধ্য হয় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

নারীশক্তির শীর্ষ পদ থেকে মনিরা বাদ পড়লেও তিনি দলীয়ভাবে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক পদে বহাল রয়েছেন।

একইভাবে মাহমুদা আলম মিতু ও নুসরাত তাবাসসুমও এনসিপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

এদিকে নতুন মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব পাওয়া মনজিলা ঝুমা একইসঙ্গে এনসিপির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

দলীয় বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, নারীশক্তির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে মনিরা নিজেই সম্প্রতি দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলাপচারিতা করেছিলেন।

উক্ত সূত্রের দাবি অনুযায়ী, মনিরা শারমিনের সঙ্গে অপর দুই নেত্রী মাহমুদা ও নুসরাতের পারস্পরিক কার্যক্রমে সঠিক সমন্বয় হচ্ছিল না।

সমন্বয়হীনতার এই জটিলতার কারণে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে একধরনের স্থবিরতা ও গতিহীনতা দেখা দিয়েছিল।

এই সমস্ত বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে মনিরা গণমাধ্যমকে জানান, এটি সম্পূর্ণভাবে দলের একটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত।

তিনি আরও বলেন, দলীয় কর্তৃপক্ষ হয়তো তাকে অন্য কোনো বড় দায়িত্ব দেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন।

সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে আসা দুই নারী সংসদ সদস্যের প্রতি নিজের আন্তরিক শুভকামনা ব্যক্ত করেছেন মনিরা শারমিন।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
শিক্ষার্থীরা যেন পড়ালেখা শেষে কর্মক্ষম হয়ে উঠতে পারে : মাহদ

শিক্ষার্থীরা যেন পড়ালেখা শেষে কর্মক্ষম হয়ে উঠতে পারে : মাহদ