প্রথম শ্রেণি থেকেই পাঠ্যক্রমে এআই ও স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত) শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। গতকাল বৃহস্পতিবার গ্রামীণফোনের ‘এআই অ্যান্ড আই ডে’ উপলক্ষে জিপিহাউসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ওয়ানএআই সেবার উদ্বোধন ঘোষণার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।
উপদেষ্টা বলেন, জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়াতে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকেই শিশুরা রোবোটিক্স ও এআই শিখতে শুরু করে। আমাদের দেশের শিশুরা কেন তা পারবে না? আমরা যদি একদম শৈশব থেকেই এআই শিক্ষাকে সহজলভ্য করতে পারি, তবে আমাদের এই নতুন প্রজন্মই ভবিষ্যৎ বদলে দেবে।
প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যার উৎপাদন এশিয়াতেই থাকবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া এবং বিশেষভাবে বাংলাদেশের দিকে নজর দিচ্ছে। এটি আমাদের জন্য জীবনের বড় একটি সুযোগ। আমরা যদি সঠিক প্রযুক্তি, এআই চালিত উদ্ভাবন ও প্রয়োজনীয় টুলের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীদের এবং পরবর্তী প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে পারি, তবে অনেক দূর এগোনো সম্ভব।রেহান আসিফ বলেন, সরকার এখানে ভূমিকা রেখে নীতিমালা তৈরি করতে পারে, যাতে ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথ, অবকাঠামো বা বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকে। আমরা যদি এটি নিশ্চিত করতে পারি, তবে বাংলাদেশ বিশ্বের এই আইসিটি শিল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।
আসিফ আসাদ বলেন,” আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার যে লক্ষ্য আমাদের রয়েছে, তা অর্জনে এআই-এর ভূমিকা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি, শিল্প খাত ও সমাজব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। তাই এআই'র এই সম্ভাবনাকে গ্রহণ ও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সক্ষমতা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ানএআই-এর মতো বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে এআই-কে সহজলভ্য করে তুলতে গ্রামীণফোনের এমন অগ্রণী ভূমিকা দেখে আমি অত্যন্ত আশাবাদী। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য এটি সাশ্রয়ী উপায়ে এআই টুল ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে, যা তাদের পড়াশোনা, গবেষণা এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশে এআই-এর প্রসার ত্বরান্বিত করবে এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের গতিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে, তা দেখার প্রত্যাশায় রয়েছি।
অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বড় পরিসরে গ্রামীনফোনের ‘এআই অ্যান্ড আই’ যাত্রার পরবর্তী ধাপের সূচনা হল। এখন আমাদের জন্য এআই আর কোনো পরীক্ষামূলক বিষয় নয়। স্বয়ংক্রিয় নেটওয়ার্ক এবং হাইপার-পারসোনালাইজড সেবা থেকে শুরু করে এআই-ভিত্তিক গ্রাহকসেবা পর্যন্ত, আমাদের কর্মী, সার্বিক কার্যক্রম ও গ্রাহক অভিজ্ঞতার সর্বস্তরে এআইর প্রয়োগ প্রতিনিয়ত আরও বিস্তৃত ও সুদৃঢ় হচ্ছে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর