নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রামকৃষ্ণ মিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আজ ভোর সাড়ে ৫টায় মহাষ্টমীর পূজা নির্ধারিত সময়ে শুরু হবে। এর পরপরই সকাল ৯টায় ভক্তদের জন্য পুষ্পাঞ্জলি এবং সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বিশেষ ধর্মীয় আচার হিসেবে কুমারীপূজার আয়োজন করা হয়েছে। সবশেষে দুপুর ১২টায় উপস্থিত ভক্তদের মাঝে মধ্যাহ্ন প্রসাদ বিতরণ করা হবে।
বিভিন্ন ধর্মীয় শাস্ত্রমতে, ১৬টি ভিন্ন উপকরণের মাধ্যমে কুমারীপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। এরপর অগ্নি, জল, বস্ত্র, পুষ্প এবং বাতাস—প্রকৃতির এই পাঁচ উপাদানের সাহায্যে কুমারীকে সাক্ষাৎ দেবীরূপে আরাধনা করা হয়।
শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, মানববন্দনা করা, সমাজের নারীর যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা এবং পরম ঈশ্বরের আরাধনা করাই হলো কুমারীপূজার প্রধান শিক্ষা।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সুদৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে যে, যে ত্রিশক্তির প্রভাবে এই বিশাল বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়ের চক্রে প্রতিনিয়ত আবর্তিত হচ্ছে, সেই মহাশক্তি কুমারীর শরীরের মধ্যে বীজরূপেই বিরাজ করে থাকে।
মূলত এই ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই প্রতিবছর মহাষ্টমীর পবিত্র তিথিতে কুমারীকে স্বয়ং দেবী দুর্গার প্রতিরূপ হিসেবে ভক্তিভরে আরাধনা করা হয়ে থাকে।
উল্লেখ্য যে, ১৯০১ সালে বিশিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব স্বামী বিবেকানন্দ ভারতের কলকাতার ঐতিহাসিক বেলুড় মঠে প্রথম কুমারীপূজার প্রচলন করেছিলেন। সেই থেকে শুরু করে অদ্যাবধি প্রতিবছর দুর্গাপূজার মহাষ্টমী তিথিতে এই অনন্য পূজা নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর