নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নিয়মকানুনের আওতায় ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে দেশে প্রথমবারের মতো সরকারি ও বেসরকারি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির সুনির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারিত হয়েছিল। এরপর ওই বছরের অক্টোবর মাসে এসে দাম নির্ধারণের পুরো প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়। সেই সময় থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবের খ্যাতনামা জ্বালানি কোম্পানি আরামকোর প্রতি মাসের নির্ধারিত চুক্তিমূল্যের ওপর ভিত্তি করে বেসরকারি খাতের এলপিজির দাম সমন্বয় করে আসছে সংশ্লিষ্ট কমিশন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের বেসরকারি এলপিজি কোম্পানিগুলো তাদের পরিচালন ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। ব্যাংকঋণের ক্ষেত্রে বর্ধিত সুদহার, পণ্য পরিবহন খরচ, কারখানা পরিচালনা এবং সামগ্রিক নিরাপত্তার পেছনে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার বিভিন্ন যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে বাজারজাতকরণের বিভিন্ন স্তরে অতিরিক্ত ব্যয়ের সমন্বয় দাবি করেছে তারা।
সাম্প্রতিক এই নতুন প্রস্তাবে বেসরকারি অপারেটররা প্রতি কেজি এলপিজির মজুত ও বোতলজাতকরণের খরচের পাশাপাশি পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য নির্ধারিত কমিশন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা ব্যবসায়িক বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফার হারও বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছে কমিশনের কাছে।
বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানির পক্ষ থেকে বিইআরসিতে জমা দেওয়া এই নতুন প্রস্তাবের হিসাবগুলোতে বেশ বড় ধরনের তারতম্য বা পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে। কোম্পানিগুলোর পেশ করা নথিপত্র অনুযায়ী, প্রতি কেজি এলপিজি মজুত ও বোতলজাতকরণের খরচ খাতে একেক প্রতিষ্ঠান একেক রকম প্রস্তাব পেশ করেছে।
এর মধ্যে ওমেরা এলপিজি কোম্পানি প্রতি কেজির জন্য ১২ টাকা ২৫ পয়সা খরচ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে ফ্রেশ এলপিজির প্রস্তাবে এই খরচ ধরা হয়েছে ২৫ টাকা। পাশাপাশি ডেল্টা এলপিজি এই খাতে ৩০ টাকা এবং পেট্রোম্যাক্স এলপিজি সাড়ে ১৯ টাকা করার প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর