ঢাকা | বঙ্গাব্দ

শেকৃবির মাঠ রক্ষায় আন্দোলন: সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 3, 2026 ইং
শেকৃবির মাঠ রক্ষায় আন্দোলন: সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরোনো গবেষণার মাঠ ক্যাম্পাসের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাঁদের মূল দাবি হলো, এটি সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভূখণ্ড এবং কৃষিবিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার অপরিহার্য স্বার্থে মাঠটি যেকোনো মূল্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিকট ফেরত দিতে হবে। সম্প্রতি এই নির্দিষ্ট মাঠটিতে সচিবালয় নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসেন। এরই মধ্যে তাঁরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, অবস্থান ধর্মঘট এবং সড়ক অবরোধের মতো নানা কঠোর কর্মসূচি পালন করেছেন।

শিক্ষার্থীদের দৃঢ় অভিমত, প্রস্তাবিত সচিবালয়টি যদি তাঁদের গবেষণার মাঠে নির্মাণ করা হয়, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ গবেষণা কার্যক্রম মারাত্মভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি, শিক্ষাঙ্গনের এত কাছাকাছি সচিবালয় স্থাপিত হলে আগামী দিনে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়াসহ নানাবিধ জটিল সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

অন্য একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায়, গত বুধবার পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নির্মাণাধীন দুটি মেলার অবকাঠামো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই ভাঙচুরের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মেলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মেলা সংক্রান্ত এই আইনি জটিলতা বা অন্যান্য বাধার মুখেও শিক্ষার্থীরা পিছু হটছেন না। গবেষণার এই মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকারে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন অব্যাহত রাখার অবিচল ঘোষণা দিয়েছেন এবং এবার সব পর্যায়ের ক্লাস-পরীক্ষাও বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

চলমান এই সার্বিক পরিস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর তাজুল ইসলাম চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে তাঁর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে জানান যে, শিক্ষার্থীরা তাঁদের ন্যায়সংগত দাবিগুলো ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন। প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি বিবেচনা করে দাপ্তরিক ও প্রশাসনিকভাবে তা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা মূলত জানতে চাচ্ছেন কেন এই প্রক্রিয়ার অগ্রগতি দ্রুত হচ্ছে না। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে, প্রশাসনিক নিয়মে কাজের যথাযথ গতিতেই অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের এই ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের অনমনীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর তাজুল ইসলাম চৌধুরী আরও বলেন যে, শিক্ষার্থীরা এই ঘোষণাটি মূলত অনানুষ্ঠানিকভাবেই দিয়েছেন। শিক্ষক হিসেবে তাঁরা কখনোই এটা কামনা করতে পারেন না যে শিক্ষার্থীরা তাঁদের নিয়মিত পাঠদান কক্ষ বা ক্লাসে ফিরে না আসুক।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
১৯৭১ সালে বিমান ছিনতাই করে উধাও ড্যান কুপার

১৯৭১ সালে বিমান ছিনতাই করে উধাও ড্যান কুপার