ঢাকা | বঙ্গাব্দ

স্বাধীনতার তিন বছর পর ঢাকায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিসিঞ্জার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 30, 2026 ইং
স্বাধীনতার তিন বছর পর ঢাকায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিসিঞ্জার ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

১৯৭১ সালের স্বাধীনতাকামী বাঙালির সশস্ত্র সংগ্রামের সময় হোয়াইট হাউসের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন প্রশাসন সরাসরি ইসলামাবাদকে কূটনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা প্রদান করেছিল। পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকাস্থ মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাড এবং তাঁর কয়েকজন সহকর্মী ওয়াশিংটনে গোপনীয় বার্তা পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু মাঠপর্যায়ের কূটনীতিকদের সেই জোরালো প্রতিবাদ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে নিক্সন প্রশাসন পাকিস্তানের পক্ষেই নিজেদের অবস্থান অটুট রাখে এবং একপর্যায়ে বঙ্গোপসাগরের জলরাশিতে সপ্তম নৌবহর প্রেরণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। মার্কিন সরকারের এমন অশুভ ভূমিকার কারণে তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশের জনগণের কাছে অত্যন্ত সমালোচিত এক ব্যক্তিতে পরিণত হন।

যুদ্ধোত্তর স্বাধীন বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশের মাত্র তিন বছর বাদে সেই সমালোচিত হেনরি কিসিঞ্জারই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মর্যাদায় ঢাকা সফর করেন। ১৯৭৪ সালের ৩০ অক্টোবর তিনি রাজধানীর মাটিতে পা রাখেন এবং এটি ছিল স্বাধীন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শীর্ষস্থানীয় উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধির প্রথমবারের মতো আগমন। প্রায় বিশ ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সফরে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। ওই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যকার অমীমাংসিত নানা জটিল ইস্যু, পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা এবং মার্কিন আর্থিক সহায়তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।

কিসিঞ্জারের যুদ্ধকালীন নেতিবাচক ভূমিকা ছাড়াও তাঁর নামের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বা ‘বাস্কেট কেস’ হিসেবে আখ্যায়িত করার তুমুল বিতর্কিত অভিযোগ। ফলে সদ্য স্বাধীন দেশটিতে তাঁর এই পদার্পণ রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির পরিমণ্ডলে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছিল।

১৯৭১ সালের পঁচিশে মার্চ দিবাগত রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের গণহত্যা শুরু করে এবং ঢাকাসহ পুরো অঞ্চলে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে। এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে ঢাকাস্থ মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাড ও তাঁর সহকর্মীরা ওয়াশিংটনে তারবার্তা পাঠিয়ে নীতিনির্ধারকদের বিরোধিতায় নামেন। সাধারণ মার্কিন নাগরিক, পেশাদার কূটনীতিক ও শিল্পীদের একটি বড় অংশও পাক বাহিনীর এই গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন। তা সত্ত্বেও নিক্সন প্রশাসন তাদের পূর্বের নীতিতে অটল থেকে পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন বজায় রাখে।

এই একতরফা সমর্থনের পেছনে মূল চালিকাশক্তি ছিল গভীর কৌশলগত ভূরাজনীতি। চীনের সঙ্গে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের বরফ গলাতে এবং সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর বড় ভূমিকা পালন করছিল পাকিস্তান। এর বাইরে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কিছু কৌশলগত ও সামরিক স্বার্থও জড়িত ছিল। এই বহুমুখী কারণে হোয়াইট হাউস তৎকালীন পূর্ব বাংলার মানুষের ন্যায়সংগত অধিকারের বিরুদ্ধে গিয়ে পাকিস্তানকে সরাসরি সমর্থন জুগিয়েছিল।

বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলার কুখ্যাত বিষয়টিও হেনরি কিসিঞ্জারের নামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ১৯৭১ সালের ছয় ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য ওয়াশিংটন স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চলার একপর্যায়ে মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট ফর পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স ইউরাল এলেক্সিস জনসন মন্তব্য করেন যে, তারা বা বাংলাদেশ হবে একটি আন্তর্জাতিক বাস্কেট কেস। এর জবাবে কিসিঞ্জার বলেছিলেন যে, হ্যাঁ, তবে তা কেবল আমাদের বাস্কেট কেস নয়।

ওই গোপন বৈঠকের সংরক্ষিত কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বা ‘বাস্কেট কেস’ শব্দজোড়া সরাসরি কিসিঞ্জারের মুখ থেকে উচ্চারিত হয়নি, বরং এই মন্তব্যটি করেছিলেন এলেক্সিস জনসন স্বয়ং। তবে সেই বক্তব্যের প্রতি কিসিঞ্জারের পূর্ণ নৈতিক সম্মতি ও সমর্থন ছিল। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশকে অবমূল্যায়ন করতে ‘বাস্কেট কেস’ পরিভাষাটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা শুরু হয়। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক পরিসরে এই বার্তাটি দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হতো যে, নবগঠিত এই রাষ্ট্রটিকে যতই সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান করা হোক না কেন, তার কোনো সুফল মিলবে না।

কিসিঞ্জারের এই বহুল আলোচিত ঢাকা সফরের ঠিক চার দিন আগে, অর্থাৎ ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ তাঁর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। দেশের স্বাধীনতার ঠিক পরপরই তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি কখনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো ধরনের সাহায্য গ্রহণ করবে না। এমন একজন দৃঢ়চেতা ও আপসহীন অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগের মাত্র কদিনের ব্যবধানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর তৎকালীন রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অভাবনীয় ও উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।

১৯৭৪ সালের ৩০ অক্টোবর দুপুর দেড়টার সময় নিজ পত্নী ন্যান্সি কিসিঞ্জারসহ ৭৭ সদস্যের একটি বিশাল প্রতিনিধিদল নিয়ে ঢাকায় অবতরণ করেন হেনরি কিসিঞ্জার। সে সময় তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডের মন্ত্রিসভার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং এর আগে তিনি দীর্ঘদিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা তৎকালীন কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে তাঁকে এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন ও তাঁর সহধর্মিণী।

যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় অত্যন্ত কঠোর ও নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। তাঁর যাতায়াত ও চলাচলের সুবিধার্থে ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে বিশেষভাবে একটি কালো রঙের বুলেটপ্রুফ লিমুজিন গাড়ি উড়িয়ে আনা হয়েছিল। এদিকে তাঁর স্ত্রী ন্যান্সি কিসিঞ্জারকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করেছিল বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মহিলা ফেডারেশন নামের একটি নারী সংগঠন। সেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেশের বরেণ্য সংগীতশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ মনোমুগ্ধকর গান পরিবেশন করেন এবং বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী অঞ্জনা রহমান চমৎকার নৃত্য পরিবেশন করে সকলকে মুগ্ধ করেন।

ঢাকায় অবস্থানকালীন সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। ৩০ অক্টোবর দুপুর তিনটার সময় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ওই দিনই বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা পৌনে সাতটা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে গণভবনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যকার সেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকটি প্রায় পঁচাত্তর মিনিট ধরে স্থায়ী হয়েছিল। এছাড়া সফরকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদউল্লাহর সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিশিষ্ট মার্কিন এই কূটনীতিবিদ। সফরের প্রথম দিন রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাঁর সম্মানে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক ভোজসভায় স্বাচ্ছন্দ্যে অংশ নেন কিসিঞ্জার।

মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক শেষ করার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিসিঞ্জার গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসস-এর ২০২২ সালের ৫ আগস্ট প্রকাশিত একটি সংরক্ষিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকদের সঙ্গে কিসিঞ্জারের সেই বহুল আলোচিত সংবাদ সম্মেলনটি স্থায়ী হয়েছিল মোটে প্রায় তিন মিনিট। সেই সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, একাত্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময় মার্কিন রণতরি ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ কেন বঙ্গোপসাগরের বুকে প্রেরণ করা হয়েছিল। কিন্তু সাংবাদিকের সেই সুনির্দিষ্ট ও স্পর্শকাতর প্রশ্নটির কোনো ধরনের উত্তর দিতে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকৃতি জানান কিসিঞ্জার।

উভয় দেশের শীর্ষপর্যায়ের এসব বৈঠকে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের স্বাধীন অর্থনীতিকে পুনর্গঠনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উদার আর্থিক সহায়তার জোরালো আশ্বাস প্রদান করেন হেনরি কিসিঞ্জার। বিশেষ করে দেশের অভ্যন্তরে চলমান তীব্র খাদ্যসংকট মোকাবিলা করার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত আরও এক লাখ টন খাদ্যশস্য বিনামূল্যে বাংলাদেশকে প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। দুই দেশের মধ্যকার এই সফল দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সম্পন্ন হওয়ার পর পক্ষদ্বয়ের সম্মতিতে একটি যৌথ ইশতেহার বা ঘোষণা প্রকাশ করা হয়। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া খাদ্যসহায়তার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতির খবরটিই পরদিন ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত দেশের প্রায় সবকটি জাতীয় দৈনিকের প্রধান শিরোনামে স্থান পেয়েছিল।

উল্লেখ্য যে, স্বাধীন বাংলাদেশে পা রাখার পূর্বে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিসিঞ্জার অত্যন্ত গোপনীয়তা ও কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন ও প্রতিবেশী দেশ ভারত সফর সম্পন্ন করেছিলেন। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ত্যাগের পর তিনি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী রাষ্ট্র ইরান সফরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কর্তৃক সম্প্রতি অবমুক্ত করা পুরোনো গোপন নথিপত্র বিশ্লেষণ করলে ১৯৭৪ সালের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও হেনরি কিসিঞ্জারের বৈঠকের অনেক অজানা ও বিস্তারিত বিবরণ পরিষ্কার হয়ে ওঠে। বৈঠকের শুরুতেই উভয় নেতার মধ্যে প্রচলিত কুশল বিনিময় সম্পন্ন হওয়ার পরপরই পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদের ন্যায্য ও প্রাপ্য হিস্যা এবং সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে আটকা পড়ে থাকা বহুসংখ্যক বিহারির প্রত্যাবাসনের অত্যন্ত জটিল বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উত্থাপন করেন জাতির পিতা শেখ মুজিব।

দেশজুড়ে বিরাজমান শোচনীয় দুর্ভিক্ষ ও চরম খাদ্যাভাবের চিত্র অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী কিসিঞ্জারের উদ্দেশ্যে বলেন যে, তিনি ইতিমধ্যেই সারা দেশে পাঁচ হাজার তিন তিনটি লঙ্গরখানা চালু করেছেন এবং প্রতিদিন অন্তত এক লাখ মানুষকে নিজ দায়িত্বে খাবার সরবরাহ করছেন। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোকে অত্যন্ত কঠিন বলে অভিহিত করে তিনি আরও জানান যে, এ বছরের প্রলয়ংকরী বন্যা পরিস্থিতি সার্বিক অবস্থাকে আরও অনেক বেশি অবনতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আইইডিসিআর পরিচালককে লাঞ্ছনার ভিডিও ভাইরাল, জাহিদের সদস্যপদ স

আইইডিসিআর পরিচালককে লাঞ্ছনার ভিডিও ভাইরাল, জাহিদের সদস্যপদ স