ঢাকা | বঙ্গাব্দ

অভাব জয় করে পরিবারের দায়িত্ব নিলেন ইয়াছিন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 23, 2026 ইং
অভাব জয় করে পরিবারের দায়িত্ব নিলেন ইয়াছিন ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

দারিদ্র্যের কঠোর আঘাত, নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের কঠিন পরিস্থিতি কিংবা ভবিষ্যতের ঘোর অনিশ্চয়তা—কোনো বাধাই থামাতে পারেনি মো. ইয়াছিনকে। প্রবল ইচ্ছাশক্তি, নিরলস পরিশ্রম ও সাহসিকতার বলে লক্ষ্মীপুরের চরের এই সাহসী তরুণ অর্জনের এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

লক্ষ্মীপুর জেলার চর রমণী মোহন অঞ্চলের পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘মেঘনাপাড় ধীবর আলোর পাঠশালার’ পুরনো এই ছাত্র প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, স্বপ্নের ডানায় ভর করে সততার সঙ্গে লড়াই চালালে প্রতিবন্ধকতার বিশাল পাহাড়ও পেরিয়ে যাওয়া যায়।

পাঁচ ভাই ও তিন বোনের সুবিশাল সংসারে জন্ম নেওয়া ইয়াছিনের বাবা মো. জব্বার রাঁড়ী জীবিকা নির্বাহ করতেন সাধারণ কৃষিকাজ করে। অতীতে চটপটে থেকে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে শারীরিক পরিশ্রম করে সংসারের খাবার জোগাড় করলেও, বর্তমানে বার্ধক্য ও নানা শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি বিছানায়ী।

মা কামু বেগম অজস্র অভাবের মাঝেও অপার স্নেহ-মমতায় সন্তানদের আগলে রেখেছেন সবসময়। তবে উপার্জনক্ষম বাবার অক্ষমতায় পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ যখন ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছিল, ঠিক সেই ক্রান্তিলগ্নে বড় ভাইদের অন্যতম হিসেবে ইয়াছিন নিজের কাঁধে সংসারের বোঝা টেনে নেন।

জ্ঞানার্জনের দীর্ঘ পথচলা ইয়াছিনের জন্য কখনই সহজ বা বাধাহীন ছিল না। চরাঞ্চলের পিছিয়ে থাকা শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে প্রতিষ্ঠিত ‘মেঘনাপাড় ধীবর আলোর পাঠশালা’ থেকেই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার অধ্যায় শুরু হয়।

ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আন্তরিক ও নিবিড় তদারকিতে তার শিক্ষার শক্ত ভিত তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে সব বাধা পেরিয়ে তিনি রায়পুর সরকারি কলেজে ভর্তি হন এবং দরিদ্রতার সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে সফলভাবে ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর পরিবারের চরম আর্থিক অনটন তাকে মূলত থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করে। অলস বসে থেকে সময় অপচয় করার বিলাসিতা ইয়াছিনের ভাগ্যে ছিল না। বৃদ্ধ অসুস্থ পিতা এবং বিশাল পরিবারের জীবিকা নির্বাহের তাগিদে তিনি গাজীপুরে চলে আসেন।

বর্তমানে তিনি গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করছেন। দীর্ঘ সময় কায়িক শ্রম দিয়ে অর্জিত সব অর্থ তিনি নিয়মিত পাঠিয়ে দিচ্ছেন চরের গ্রামের বাড়িতে।

গার্মেন্টস কারখানার এই চাকরিটাই এখন তার গোটা পরিবারের বেঁচে থাকার একমাত্র মূল ভরসা। ইয়াছিনের এই কষ্টের উপার্জনেই মূলত হাসিমুখ ফুটছে তার বৃদ্ধ পিতা-মাতা এবং ছোট ভাইবোনের মুখে।

তরুণ ইয়াছিনের এই অদম্য জীবনযুদ্ধ ও তার সাফল্য দেখে বেজায় খুশি ও গর্বিত মেঘনাপাড় ধীবর আলোর পাঠশালার শিক্ষকবৃন্দ এবং স্থানীয় এলাকাবাসী।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির একজন শিক্ষক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ইয়াছিনের এই বিজয় আমাদের দীর্ঘ পথচলাকে সফল করেছে। সে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে যে, সততা, প্রতিভা ও প্রবল জেদ থাকলে যেকোনো চরম প্রতিকূল পরিবেশকেও পরাস্ত করা সম্ভব।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বান্দরবান জেলা পরিষদের ক্রীড়া বিভাগের দায়িত্ব পেলেন কাজী নির

বান্দরবান জেলা পরিষদের ক্রীড়া বিভাগের দায়িত্ব পেলেন কাজী নির