নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পাবনা জেলা সদরে একটি আবাসিক মহিলা মাদ্রাসার ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এই গুরুতর ঘটনার জেরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা মাদ্রাসা ভবনটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার ভোরের দিকে পাবনা জেলা সদরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি সংঘটিত হয়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশে সোপর্দ করা অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম আবু ইউসুফ (৫৫), যিনি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত আবু ইউসুফ একটি একতলা বাড়ি ভাড়া নিয়ে এই আবাসিক মহিলা মাদ্রাসাটি পরিচালনা করে আসছিলেন। ওই মাদ্রাসার একটি কক্ষে ছাত্রীরা বসবাস করতেন এবং তাঁদের দেখাশোনার দায়িত্বে একজন নারী শিক্ষকও ছিলেন। অন্যদিকে, ছাত্রীদের কক্ষের ঠিক পাশের আরেকটি আলাদা কক্ষে শিক্ষক আবু ইউসুফ নিজে অবস্থান করতেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাঁর সহপাঠীদের বিবরণ থেকে জানা যায়, ভোরের দিকে ওই ছাত্রী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য নিজের কক্ষ থেকে বাইরে বের হন। ঠিক সেই মুহূর্তেই শিক্ষক আবু ইউসুফ তাঁকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে নিজের ব্যক্তিগত কক্ষে নিয়ে যান এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালান।
সৌভাগ্যবশত অপর এক ছাত্রী এই ঘটনার পুরো বিষয়টি দেখতে পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে বাইরে এসে চিৎকার করে স্থানীয় লোকজনকে ডাকতে শুরু করেন। এরপর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় খবর পাঠান। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই শিক্ষককে আটক করে নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সকালের দিকে এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাধারণ মানুষ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। উত্তপ্ত জনতা একপর্যায়ে ওই মাদ্রাসাটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালান এবং ভবনে অগ্নিসংযোগ করেন। তবে অগ্নিসংযোগের সময় মাদ্রাসায় উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষার্থীদের পুলিশ দ্রুত নিরাপде সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়।
ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় যুবক জানান, খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত সেখানে ছুটে গিয়ে ওই শিক্ষককে অত্যন্ত অস্বাভাবিক অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তাঁরা তাঁকে বেঁধে ফেলেন এবং থানায় খবর দেন।
দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভাড়াবাড়িটিতে তখনো আগুন জ্বলছে এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এর পাশাপাশি, শত শত উৎসুক জনতা পুরো বাড়িটি ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন এবং বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য তাদের শান্ত করার চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ জানান, ভোরের দিকে ঘটনা ঘটার পরপরই মেয়েটি তাঁদের কাছে ছুটে এসে বিষয়টি জানায়। তিনি আরও বলেন, তাঁরা দ্রুত সেখানে গিয়ে আটক ওই শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তিনি অপরাধ স্বীকার করার পর তাঁকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে।
খবর পাওয়ার পর পাবনার জেলা পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ভুক্তভোগী মেয়েটির যথাযথ ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং মাদ্রাসার অন্য ছাত্রীদের নিরাপদে তাঁদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও যোগ করেন যে, ক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে এবং আটক শিক্ষক বর্তমানে থানায় আছেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মেয়েটির চাচা একটি মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হবে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর