ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ভুটান ম্যাচে নেই হামজা-ফারহান, জানাল কোচ ডুলি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
ভুটান ম্যাচে নেই হামজা-ফারহান, জানাল কোচ ডুলি ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রতিযোগিতায় মাঠে নামার আগেই বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে দলের দুই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ছাড়াই ময়দানে নামতে হচ্ছে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের। হামজা চৌধুরীর অনুপস্থিতির বিষয়টি আগেই নিশ্চিত হয়ে থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে সেই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন আরেক প্রবাসী ফুটবলার ফারহান আলী। আগামী ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে নির্ধারিত প্রথম ম্যাচে এই দুই তারকাকেই খেলাতে পারছে না টিম ম্যানেজমেন্ট।

সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাফের প্রস্তুতি ক্যাম্প। আর এর ঠিক পরের দিন থেকেই অর্থাৎ আগামীকাল থেকে জাতীয় স্টেডিয়ামে নিবিড় মাঠের অনুশীলন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই সূচির আগে সোমবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন জাতীয় দলের কোচ টমাস ডুলি। সেখানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে হামজা ও ফারহানের উদ্বোধনী ম্যাচে না থাকার দুঃসংবাদটি নিশ্চিত করেন। তবে একই সঙ্গে ভক্ত-সমর্থকদের জন্য আশার বাণীও শুনিয়েছেন এই বিদেশি কোচ।

কোচ টমাস ডুলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৯ নভেম্বর জাতীয় দলের সঙ্গে মিলিত হতে পারেন প্রবাসী ফুটবলার হামজা ও ফারহান। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবং তারা দলের সঙ্গে যোগ দিলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের মাঠে নামানোর জোরালো সম্ভাবনা দেখছেন কোচ। আগামী ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের নিজেদের শেষ ম্যাচে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকে পাওয়ার বিষয়ে প্রবল আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ডুলি।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, কেন টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই এই তারকা ফুটবলারদের সার্ভিস পাচ্ছে না দল? মূলত এর নেপথ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোর কাছ থেকে খেলোয়াড়দের ছাড়পত্র পাওয়ার জটিলতা। এই প্রসঙ্গে কোচ ব্যাখ্যা করে বলেন, কোনো দল যখন কোনো খেলোয়াড়কে নিজেদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে, তখন তারা তাকে সহজে ছাড়তে চায় না। এমনকি আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ক্লাবগুলো খেলোয়াড় ছাড়তে বাধ্যও নয়। ক্লাবগুলো পরিষ্কার জানিয়ে দিতে পারে যে খেলোয়াড় তাদের সঙ্গেই থাকবে এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনেই কেবল নির্দিষ্ট সময়ে ছাড়া হবে।

শুধু হামজা বা ফারহান একাই নন, এই দুই তারকার বাইরে আরও বেশ কজন প্রবাসী ফুটবলারদের আসার অপেক্ষায় দিন গুণতে হচ্ছে বাংলাদেশ কোচকে। সাফের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে ঘোষিত ৩০ সদস্যের শক্তিশালী স্কোয়াডের মাত্র ২১ জন ফুটবলার সোমবার ক্যাম্পে রিপোর্ট করেছেন। দল সূত্রে জানা গেছে, বাকি প্রবাসী ফুটবলারদের বেশিরভাগেরই আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যে ঢাকায় এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, ৫ নভেম্বর থেকে যখন মূল টুর্নামেন্ট শুরু হবে, তার আগে পুরো দলটিকে নিয়ে একত্রে অনুশীলনের ন্যূনতম সুযোগও পাবেন না কোচ ডুলি। আসন্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ঠিক আগে পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে কাজ করতে না পারাটা কোচের জন্য এক বিশাল উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই সংকটের পাশাপাশি আরও একটি বড় সমস্যা হিসেবে সামনে এসেছে ফুটবলারদের শারীরিক ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তা। সাফ কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী গত ১৮ অক্টোবর টুর্নামেন্টের জন্য ২৮ সদস্যের একটি চূড়ান্ত তালিকা জমা দিয়েছেন কোচ টুলি। এই তালিকা জমা দেওয়ার পর যদি দলের কোনো ফুটবলার ইনজুরিতে পড়েন, তবে তাকে পরিবর্তন করার সুযোগও বেশ সীমিত। অন্যদিকে, বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলে সরাসরি ক্যাম্পে যোগ দেওয়া খেলোয়াড়দের বর্তমান শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করা এবং তাদের ম্যাচের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য পর্যাপ্ত সময়েরও ঘাটতি রয়েছে।

দলের খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও রিকভারি নিয়ে নিজের অসহায়ত্ব ও চ্যালেঞ্জের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন কোচ টমাস ডুলি। সংবাদমাধ্যমে তিনি মন্তব্য করেন যে, কোনো খেলোয়াড় যদি ঠিক আগের দিন কোনো ম্যাচ খেলে সরাসরি ক্যাম্পে যোগ দেয় এবং তার যদি হাঁটুতে কিংবা অন্য কোথাও কোনো সমস্যা থাকে, তবে কোচিং স্টাফ হিসেবে তাদের করণীয় খুব বেশি থাকে না। এমন পরিস্থিতিতেও তাদের বাধ্য হয়েই সেই খেলোয়াড়কে ম্যাচের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করে তুলতে হয়, যা মূলত এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করায় দলকে।

উল্লেখ্য যে, এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রতিটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে রাজধানী ঢাকার ঐতিহাসিক জাতীয় স্টেডিয়ামে। আগামী ৫ নভেম্বর পর্দা উঠবে এই মহাদেশীয় ফুটবল যুদ্ধের এবং ছয়টি দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের সমাপ্তি ঘটবে আগামী ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে।

এবারের টুর্নামেন্টে ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে লড়বে ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপে অংশ নিচ্ছে ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপের মতো দলগুলো। দুই গ্রুপের লড়াই শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুটি করে দল জায়গা করে নেবে প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে। টুর্নামেন্টের ফাইনালের টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ে শেষ চারের দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৪ নভেম্বর এবং ১৭ নভেম্বর নির্ধারিত ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে সাফের এই আসরের।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সাজেক খোলার দাবিতে খাগড়াছড়িতে চলছে আধাবেলা অবরোধ

সাজেক খোলার দাবিতে খাগড়াছড়িতে চলছে আধাবেলা অবরোধ