নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২২ সালে তাঁর বর্তমান মেয়াদে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সামরিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত নানা ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যের চিত্র বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার কথা জানিয়ে এসব অর্জনের ধারাবাহিকতা ও ধারা বজায় রাখার ওপর কঠোর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
বর্তমান ভূরাজনীতিতে নিজেদের অর্জিত সাফল্যের কথা উল্লেখ করে নেতানিয়াহু মন্তব্য করেছেন যে তাঁরা এমন কিছু অভূতপূর্ব ও অসাধারণ সাফল্য লাভ করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক চেহারা চিরতরে বদলে দিয়েছে।
নিজের ভাষণে শীর্ষ শত্রু ও প্রতিপক্ষদের নির্মূলের কথা জানিয়ে তিনি বলেন যে তাঁরা মোহাম্মদ দেইফ, ইসমাইল হানিয়া,াহিয়া সিনওয়ার, হাসান নাসরুল্লাহ এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সফলভাবে নির্মূল করেছেন।
সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবে গাজা, লেবানন এবং সিরিয়ার ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে গভীরে নিরাপত্তা অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও তিনি সগর্বে উল্লেখ করেন।
ইসরায়েলের অস্তিত্বের ওপর আসা তাৎক্ষণিক এবং বড় ধরনের বিপদ সম্পর্কে তিনি বলেন যে তাঁদের মাথার ওপর ঝুলে থাকা অবিলম্বে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সেই আশঙ্কার হুমকি তাঁরা সম্পূর্ণ দূর করতে সক্ষম হয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী রাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে নেতানিয়াহু জানান যে তাঁরা দেশটির শাসকগোষ্ঠীর ওপর কঠোর আঘাত হেনেছেন এবং তাদের একেবারে অতল গহ্বরের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছেন।
বর্তমান শক্তির ভারসাম্য ব্যাখ্যা করে তিনি দাবি করেন যে ইরান বর্তমানে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং এর বিপরীতে ইসরায়েল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।
পরিশেষে, তাঁর এই পুরো বক্তব্যে গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরি এবং ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তিকে দুর্বল করার বিষয়গুলোকে ইসরায়েলের সামগ্রিক নিরাপত্তা কৌশলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে ইরানের পক্ষ থেকে আসা অস্তিত্বের প্রতি যেকোনো হুমকি চিরতরে দূর করার সম্ভাবনার কথাও তিনি তাঁর বক্তব্যে জোরালোভাবে ব্যক্ত করেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর