নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থকে নাট্যমঞ্চে রূপায়নের কাজ সম্পন্ন করেছে নাট্যদল নবরস। এই বিশেষ নাট্যরূপের পরিকল্পনা এবং নির্দেশনার দায়িত্ব পালন করেছেন সৈয়দা শামছি আরা সায়েকা। আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই কাব্যগাথাকে নতুন আঙ্গিকে দর্শকের সামনে হাজির করার সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
নির্দেশক সৈয়দা শামছি আরা সায়েকা এই প্রসঙ্গে নিজের দীর্ঘ যুক্ততার কথা স্মরণ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতে বহু নাট্যদল এই সাহিত্যকর্মটি সফলভাবে মঞ্চস্থ করেছে। এর মধ্যে সর্বপ্রথম পদাতিক নাট্য সংসদ এই কাব্যকে নাটকে রূপ দিয়েছিল। তিনি সেসময় ওই দলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করার সুবাদে এই প্রবীণ নাটকের সঙ্গে শুরু থেকেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।
দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় নবরসের ব্যানারে এটি মঞ্চে নিয়ে আসার পেছনে বিশেষ কিছু কারণ রয়েছে বলে তিনি জানান। বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় মানুষের মাঝে ধর্মীয় বিভেদ, নানা জটিলতা এবং ক্ষতিকারক কুসংস্কার অত্যন্ত প্রকট আকার ধারণ করেছে। অথচ এসব বাহ্যিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে মানুষের প্রকৃত পরিচয় কেবল তার কাজের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
নির্মাতার মাথার ভেতরে এই ভাবনাগুলো দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিল। সেই তাড়না থেকেই এই সৃষ্টি বর্তমান সময়ের সাপেক্ষে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলে তার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। মূল কাব্যে ভালোবাসার নিবিড় অনুভূতির মধ্য দিয়েই ধর্মের গূঢ় বিষয়গুলো অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এই বিশেষ বার্তাটি বর্তমান সমাজের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই কালজয়ী এই কাব্যগ্রন্থটি পুনরায় মঞ্চে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কবিতা থেকে সফলভাবে নাটকে রূপান্তরের এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় মূল বিষয়বস্তুর মূল সুর সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিবেশনার উপযোগী করে এতে কিছু প্রয়োজনীয় পরিমার্জন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নির্দেশক।
নাটকের মূল কাহিনীর সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্য রেখে এতে নতুন করে তিনটি চমৎকার গান যুক্ত করা হয়েছে। নাট্যদলের পরিবেশনাকে আরও সমৃদ্ধ করতে এই গীতগুলো তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ এই গান তিনটি সম্পূর্ণভাবে নিজের কলমে ফুটিয়ে তুলেছেন নির্দেশক সৈয়দা শামছি আরা সায়েকা নিজেই।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর