নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার পূর্ব লইয়ারকুল গ্রামে আজ থেকে কয়েক বছর আগে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৬ সালের সপ্তম মাসের সপ্তম দিনে সংঘটিত এই লোমহর্ষক ঘটনায় আদালত আজ রায় ঘোষণা করেছেন।
বাড়ির আঙিনা দিয়ে জমে থাকা ময়লা পানি নিষ্কাশন করাকে কেন্দ্র করে সেদিন বিরোধের সূত্রপাত ঘটেছিল। এই সামান্য বিষয় নিয়ে সৎভাইয়ের সঙ্গে তর্কের একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
মামলার নথিপত্র ঘেঁটে জানা যায়, উত্তপ্ত সেই পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষরা মারাত্মক সব ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত আক্রমণ চালায়। তাদের এলোপাথাড়ি কোপে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সাবানা বেগম নামের এক অসহায় নারী।
এই নৃশংস ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোট চৌদ্দজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছিল দীর্ঘ তদন্ত শেষে।
সব সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এই মামলার চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। রায়ে চার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এই চার অপরাধী হলেন পূর্ব লইয়ারকুল গ্রামের বাসিন্দা মো. নাসির মিয়া, গিয়াস মিয়া, বিল্লাল মিয়া ও দুলাল মিয়া। এদের মধ্যে প্রথম দুজনের পিতার নাম ফারুক মিয়া এবং পরের দুজনের মৃত পিতার নাম মতন মিয়া।
বিচারক দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামির জন্য আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থাও রেখেছেন। রায়ের নির্দেশ অনুযায়ী, ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত প্রত্যেকে অপরাধীকে আলাদাভাবে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে নগদ জরিমানা দিতে হবে।
আইন অনুযায়ী ফাঁসির রায় সরাসরি কার্যকর করা সম্ভব নয় বলে বিচারক একটি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। উচ্চ আদালতের বেঞ্চ থেকে অনুমোদন পাওয়ার পরই কেবল এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর