নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ইসরায়েলে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকার গঠন পুরোপুরি অসম্ভব বলা চলে না। তবে শেষ পর্যন্ত একটি ভঙ্গুর জোট সরকার গঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বড়জোর এক বছরের কিছুটা বেশি সময় স্থায়ী হয়ে ভেঙে পড়তে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা যদি নির্ধারিত ১২ সপ্তাহের মেয়াদের মধ্যে কোনো কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হন, তবে ইসরায়েলের নাগরিকদের পুনরায় ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।
এই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জটিল পরিস্থিতি এড়ানোর উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য বিকল্প পথ নিয়ে এখন আলোচনা চলছে। মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতার অভাবেই এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
তত্ত্বীয়ভাবে বা কাগজে-কলমে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে হঠানোর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে ইহুদি ও আরবদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা গড়ে তোলা।
তবে এই নির্দিষ্ট পথটির বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় ও কঠিন বাধার মুখে পড়েছে। মূলত রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে এই উদ্যোগ সফল হওয়া অত্যন্ত দুরূহ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিরোধী জোটের ভেতর থাকা ডানপন্থী ধারার দুই প্রভাবশালী নেতা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লাইবারম্যান।
পার্লামেন্টের দুই আরব রাজনৈতিক দল ‘জয়েন্ট লিস্ট’ ও ‘রা’আম’—এদের ওপর কোনোভাবেই নির্ভর করতে চান না এই দুই ডানপন্থী নেতা। এই দলগুলোর সহায়তায় কোনো ধরনের সরকার গঠন করার ঘোর বিরোধী তারা।
সরকারে সরাসরি অংশ নেওয়া কিংবা বাইরের থেকে কোনো সংখ্যালঘু সরকারকে সমর্থন জোগানো—কোনো ক্ষেত্রেই আরব দলগুলোর এই ধরনের সহযোগিতা নিতে তারা একেবারেই রাজি নন।
বিশেষ করে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামলার ঘটনার পর এই বিষয়ে নাফতালি বেনেত ও আভিগদর লাইবারম্যানের রাজনৈতিক অবস্থান আরও অনেক বেশি কঠোর হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর