নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অপরাধে মসজিদের ইমাম ও মক্তব শিক্ষক মুছা মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আলোচিত এই রায়ের বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। আদালতের রায়ে আসামির বিরুদ্ধে এই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষক মুছা মিয়ার বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তার বাড়ি গাইবান্ধা জেলার ফুলছরি থানার হরিচন্ডি গ্রামে এবং তার পিতার নাম মো. মনিরুল ইসলাম। তিনি অপরাধ সংঘটনের সময় জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী মণ্ডলপাড়া এলাকার একটি জামে মসজিদে ইমামতি করার পাশাপাশি মক্তবে শিশুদের পড়াতেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর সকালের দিকে এলাকার শিশুরা মসজিদে আরবি শিক্ষা অর্জনের উদ্দেশ্যে উপস্থিত হয়েছিল। মক্তবের পাঠদান শেষে অভিযুক্ত শিক্ষক মুছা মিয়া অন্যান্য কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দ্রুত ছুটি দিয়ে ছেড়ে দেন। কিন্তু তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীকে কৌশলে মসজিদে আটকে রাখেন এবং বিভিন্ন কাজের কথা বলে তাকে দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করাতেন।
আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, একা পেয়ে যাওয়ার এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শিক্ষক মুছা মিয়া ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখান। এই প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে তিনি নিরিহ শিশুটির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালান এবং তাকে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিষয়টি তার পরিবারকে খুলে বললে স্বজনরা বিস্তারিত জানতে পারেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার পর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঘটনার কিছুদিন পর, অর্থাৎ ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর ভুক্তভোগীর পরিবারের লোকজন বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর