নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
দীর্ঘ প্রায় চার দশক শিক্ষকতা পেশার পাট চুকিয়ে সহকর্মী এবং শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে অনন্য ও ব্যতিক্রমী উপায়ে নিজ কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন এক প্রধান শিক্ষক। বিদায়বেলাকে স্মরণীয় করে রাখতে তাঁকে সাজানো একটি ঘোড়ার পিঠে চড়িয়ে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে আনন্দ শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের আঙিনা থেকে বরেণ্যভাবে এগিয়ে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ ভাগে উপস্থিত শুভানুধ্যায়ী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীদের অন্তহীন আবেগ ও শ্রদ্ধায় সিক্ত হন বিদায়ী ব্যক্তিত্ব। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে এবং ঢাকঢোলের আওয়াজে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে, যা এক আবেগঘন ও বর্ণিল দৃশ্যের জন্ম দেয়। এই আনন্দঘন মুহূর্তের পাশাপাশি অনেকেই চোখের জল সংবরণ করতে পারেননি, যা পুরো পরিবেশকে ভারী করে তোলে।
বিদায়লগ্নে বক্তব্য প্রদানকালে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মো. মুনায়েম খান। তিনি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে জানান যে, জীবনের একটি বিশাল সময়, সুখ-দুঃখের নানা মুহূর্ত এবং ব্যক্তিগত সম্পদ এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির উন্নতির পেছনে ব্যয় করেছেন। তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল স্থানীয় জনপদের কল্যাণে কিছু একটা করে যাওয়া, যা তিনি সততার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করেছেন।
তিনি আরও যোগ করেন যে, তাঁর অনেক শিক্ষার্থী আজ সমাজে অত্যন্ত সম্মানজনক ও উচ্চ পদে আসীন রয়েছেন। উপস্থিত সকলের কাছে তিনি নিজের জীবনের বাকি দিনগুলোর জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন। তাঁর মতে, মানুষের জীবনে প্রস্থান বা বিদায়ের মুহূর্তটি মৃত্যুর সমতুল্য এবং দুটি বিষয় একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এই শিক্ষালয়ে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র পাঁচজন শিক্ষক। তাঁদের মধ্যে চারজন নারী এবং একজন পুরুষ শিক্ষক রয়েছেন। প্রধান শিক্ষক মো. মুনায়েম খানের অবসর গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর বিদ্যালয়টির পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন পারভেজ খান।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর