ঢাকা | বঙ্গাব্দ

এইচএসসিতে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান বেড়ে ২৩৯টি, পাসের হার কমেছে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 31, 2026 ইং
এইচএসসিতে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান বেড়ে ২৩৯টি, পাসের হার কমেছে ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে যে, দেশের মোট ২৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণকারী কোনো শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় সফল হতে পারেননি। অর্থাৎ এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শতভাগ শিক্ষার্থীই ফেল করেছেন। অন্যদিকে, এ বছর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্রে দেখা গেছে যে, শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছেন এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ঠিক ১৩৯টিতে।

তুলনামূলক বিশ্লেષণে পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে যে, গত বছর কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল এর চেয়ে কম, অর্থাৎ ২০২টি। আবার তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় শূন্য পাসের রেকর্ডধারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিমাণ ছিল মাত্র ৬৫টি। ফলে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার খারাপ করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে ২০২৬ সালের এই উচ্চমাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার সামগ্রিক মূল্যায়নে দেশের মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অর্জিত গড় পাসের হার হিসাব করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমানের এই একই পরীক্ষায় সার্বিক পাসের হার কিছুটা উঁচুতে থেকে ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশে অবস্থান করেছিল।

অর্থাৎ বিগত বছরের তুলনায় এবারের পরীক্ষায় পাসের হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে, যার হার হলো ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ কম। নির্ধারিত দিন অনুযায়ী আজ শনিবার বেলা ১১টা বাজ On the dot এ সচিবালয়ের অভ্যন্তরে অবস্থিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত একটি বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে এই পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণ থেকে এবং অনলাইনের মাধ্যমে একযোগে এই ফল জানতে পেরেছেন। এর আগে নির্ধারিত পূর্বঘোষণা অনুযায়ী প্রথমে ২৯ অক্টোবর তারিখেই উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের এই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করার কথা ঠিক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই নির্ধারিত তারিখটি পরিবর্তন করে আজকের শনিবারের দিনটি চূড়ান্ত করা হয়।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে ফলাফল প্রকাশের আগে থেকেই নির্দেশনা দিয়ে জানানো হয়েছিল যে, বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত এই ফলাফল সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অনলাইনের মাধ্যমে ফলাফল ডাউনলোড করে তা প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের রেজাল্ট কর্নারে প্রবেশ করে ক্লিক করতে হবে।

এরপর নিজ নিজ বোর্ডের নাম এবং প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ইআইআইএনের (প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি নম্বর) তথ্য ব্যবহার করে ফলাফল ডাউনলোড করার কাজ সম্পন্ন করতে হবে। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডগুলোর নির্ধারিত কমন ওয়েবসাইট ছাড়াও সংশ্লিষ্ট নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইটের ঠিকানায় প্রবেশ করে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন।

তাছাড়া শিক্ষার্থীরা চাইলে তাদের নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও সশরীরে এই ফলাফল সংগ্রহ করার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি আরেকটি বিকল্প মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা যেকোনো মোবাইল অপারেটরের মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করে ১৬১৪০ নম্বরে একটি খুদে বার্তা বা এসএমএস পাঠিয়ে ফলাফল জানতে পারবেন।

এই এসএমএস পাঠানোর নির্দিষ্ট নিয়ম হলো, উদাহরণস্বরূপ HSC Dha 123456 2026 লিখে তা ১৬১৪০ নম্বরে প্রেরণ করতে হবে। তবে স্মরণ রাখতে হবে যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, কোনো শিক্ষা বোর্ড বা সংবাদপত্রের কার্যালয় থেকে কোনো ধরনের ফলাফল সরাসরি সরবরাহ করা হবে না।

উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ বা খাতা পুনরায় মূল্যায়নের জন্য আগ্রহীদের অনলাইনের মাধ্যমে আগামী ১ থেকে ৭ নভেম্বর তারিখের মধ্যে আবেদন করতে হবে। এই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিস্তারিত নিয়মাবলি এবং প্রয়োজনীয় সব নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের এই বৃহৎ পরীক্ষাটি শুরু হয়েছিল গত ২ জুলাই। এ বছর নিয়মিত এবং অনিয়মিত সব ধারা মিলিয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর মোট সংখ্যা ছিল ১২ লাখের বেশি। তবে এই বিশাল আয়োজনের পরীক্ষায় বেশ কিছুসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইন্টারনেটের অদৃশ্য চালিকাশক্তি বট: কাজ, প্রভাব ও যত ঝুঁকি

ইন্টারনেটের অদৃশ্য চালিকাশক্তি বট: কাজ, প্রভাব ও যত ঝুঁকি