ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পদ্মায় নিষেধাজ্ঞা কাটতেই জেলেদের জালে বড় পাঙাশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 31, 2026 ইং
পদ্মায় নিষেধাজ্ঞা কাটতেই জেলেদের জালে বড় পাঙাশ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

মা ইলিশ রক্ষায় নির্ধারিত ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে শেষ হওয়ার পর শরীয়তপুরের প্রমত্তা পদ্মা নদীতে মৎস্যজীবীদের জালে দলবেঁধে ধরা পড়ছে বিশাল আকারের পাঙাশ।

গত কয়েক দিন ধরে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পদ্মা নদীতে বড় আকৃতির এসব পাঙাশ মাছ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা।

নদীতে জালে আটকা পড়া এসব পাঙাশের প্রতিটির ওজন সাধারণত পাঁচ থেকে বারো কেজির মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে।

অল্প সময়ের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বড় পাঙাশ মাছ হাতে পেয়ে দারুণ আনন্দিত ও সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন জেলেরা।

চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু করে শনিবার সকাল পর্যন্ত দুই জেলার বিভিন্ন স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি পাঙাশ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দরে লেনদেন হয়েছে।

মাছ ধরার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানাচ্ছেন, এর আগের বছরও মা ইলিশের অভিযান সমাপ্ত হওয়ার ঠিক পরপরই পদ্মা নদীতে প্রচুর পরিমাণে পাঙাশ মাছের দেখা মিলেছিল।

সে সময় প্রায় টানা সাত দিন ধরে নদীর নানা প্রান্তে মৎস্যজীবীদের জালে এই পাঙাশ মাছগুলো ধারাবাহিকভাবে ধরা পড়ার রেকর্ড ছিল।

গত শুক্রবার সকালে নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর মৎস্যবাজারে সরেজমিন দেখা যায়, অন্তত অর্ধশতাধিক জেলের নৌকা পাঙাশ বোঝাই করে ঘাটে ভিড়েছে।

ওই বাজারের মোট ৪০টি পাইকারি আড়তে সে সময় সাতিশয় ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে এসব সুস্বাদু মাছ কেনাবেচা চলছিল।

বাজার থেকে মাছগুলো কিনে ট্রাক বা অন্য যানবাহনে করে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ এবং মাদারীপুরের পাইকাররা গন্তব্যে নিয়ে যান।

গতকাল সকালে ছয়টি বড় পাঙাশ মাছ নিয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলার শীবসেন এলাকার বাসিন্দা ও জেলে লোকমান হোসেন হাজির হন সুরেশ্বর বাজারে।

তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার পুরো সারা রাত ধরে পদ্মা নদীর বুকে জাল চালিয়ে তিনি মাছগুলো সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

তার আনা মাছগুলোর সম্মিলিত ওজন ছিল প্রায় ৩৫ কেজি এবং প্রতি কেজি ১ হাজার ১৫০ টাকা দরে তিনি মোট ৪০ হাজার ২৫০ টাকায় তা বিক্রি করেন।

স্থানীয় জেলেদের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা নদীর কাছাকাছি অবস্থিত নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা, নওপাড়া এবং ঘড়িসার অঞ্চলে পাঙাশের উপস্থিতি বেশি।

এ ছাড়া ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাচিকাটা, তারাবুনিয়া এবং চরভাগা এলাকায় জেলের জালে প্রচুর পাঙাশ মাছ ধরা পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

সারা রাত এবং দিনের বিভিন্ন সময়ে নদীতে মাছ শিকার শেষে জেলেরা সন্ধ্যায় সুরেশ্বর, চণ্ডীপুর, নড়িয়া, চরভাগা ও নরসিংহপুর বাজারে মাছ নিয়ে আসেন।

নড়িয়ার সুরেশ্বর মাছবাজারের ব্যবসায়ী ও জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন বকাউল জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ৮০০টি পাঙাশ বিক্রি হয়েছে।

ওই নির্দিষ্ট সময়ে বিক্রি হওয়া এসব পাঙাশ মাছের মোট বাজারমূল্য প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার কাছাকাছি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গত বছরও ঠিক একই রকমভাবে সপ্তাহব্যাপী মৎস্যজীবীদের জালে প্রচুর পরিমাণে পাঙাশ মাছ ধরা পড়ার ঘটনা ঘটেছিল বলে জানান তিনি।

শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই জেলায় সবমিলিয়ে প্রায় ৩৩ হাজার নিবন্ধিত জেলে জীবিকা নির্বাহ করেন।

প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সুরক্ষার স্বার্থে গত ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জেলেরা নৌকা নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে নেমে পড়েন।

অবশ্য নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই কোনো কোনো এলাকার জেলেরা গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই নদীতে জাল ফেলতে শুরু করেছিলেন।

শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান, এত বিশাল পরিমাণে পাঙাশ মাছ ধরা পড়ার বিষয়টি কিছুটা ব্যতিক্রমী ঘটনা।

মূলত ইলিশের সঙ্গে সমুদ্র উপকূল থেকে পাঙাশ মাছগুলো নদীর মিঠাপানিতে প্রবেশ করায় জেলেরা জাল ফেললেই সহজেই পাঙাশ পেয়ে যাচ্ছেন।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সাজেকে যাতায়াতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে খাগড়াছড়িতে ব

সাজেকে যাতায়াতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে খাগড়াছড়িতে ব