নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে মতামত প্রকাশ করেছে, তা অবমূল্যায়ন করা হলে কঠোর ও ধারাবাহিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা শফিকুর রহমান। সম্প্রতি খুলনার একটি জনবহুল এলাকায় ১১ দলের উদ্যোগে আয়োজিত লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, জনগণের গভীর ভালোবাসা ও আস্থাকে পুঁজি করে বর্তমানে যারা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছে, তারা অতীতের প্রতিশ্রুতি ভুলে গিয়ে গণভোটের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। জনগণের এই রায় সম্পূর্ণ কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিবাদী কর্মসূচি কোনোভাবেই থামবে না, বরং সময়ের আবর্তে তা আরও বেশি শক্তিশালী ও বেগবান করা হবে।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তিনি বলেন, অতীতে ভোটের আগে যারা গণভোটের পক্ষে ইতিবাচক রায় বাস্তবায়নের জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারাই কূটকৌশল ও কারচুপির মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর এখন সম্পূর্ণ ইউটার্ন নিয়েছে। মোট ভোটারের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় দিয়েছিল, কিন্তু গদি পাকাপোক্ত হওয়ার পর ক্ষমতাসীনদের মুখ থেকে এখন সেই প্রসঙ্গ সম্পূর্ণ গায়েব হয়ে গেছে।
বর্তমান প্রশাসনের নানা উদ্যোগ ও কার্ড বিতরণের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির আরও যোগ করেন যে, সাধারণ মানুষকে সামান্য কিছু আর্থিক সহায়তা কার্ডের মাধ্যমে ধরিয়ে দিয়ে অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অতিরিক্ত বিলের নামে হাজার হাজার টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহে চরম ব্যর্থতা সত্ত্বেও সাধারণ গ্রাহকদের ঘাড়েই নিয়মিত ভুতুড়ে বিলের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা মূলত জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের প্রকাশ্য লুণ্ঠন ছাড়া আর কিছুই নয়।
সার সংকটের তীব্রতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের অন্নদাতারা সার পাচ্ছেন না কারণ ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে লাখ লাখ থেকে শুরু করে কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের ঘুষ লেনদেন চলছে। এই দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে ভেতরে ভেতরে কোন্দল চললেও দুর্ভাগা কৃষক তার প্রয়োজনীয় সারটুকু সময়মতো পাচ্ছে না, আর ঠিক এই অধিকার আদায়ের জন্যই তাদের রাজপথে নামতে হয়েছে।
দেশব্যাপী চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান জানান, সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তোলা এই চাঁদাবাজ চক্রের কবল থেকে জাতিকে চিরতরে রক্ষা করতে এবং বিদেশে অর্থ পাচার রোধ করতে তারা কঠোর অবস্থানে গেছেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি একটার পর একটা ধাপে আরও বেশি মহাশক্তিশালী রূপ ধারণ করবে।
প্রয়োজন সাপেক্ষে চূড়ান্ত আন্দোলনের ডাক দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি দেশের প্রতিটি জনপদ ও গ্রামের ঘর থেকে আপামর জনসাধারণকে রাজধানীর উদ্দেশে যাত্রা করার সার্বিক প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান। যতদিন পর্যন্ত একটি বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত, সাম্যবাদী ও মানবিক রাষ্ট্র গঠিত না হয়, তাদের এই সংগ্রাম অপ্রতিরোধ্য গতিতে চলতে থাকবে।
উক্ত লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক এবং খুলনা মহানগর শাখার শীর্ষ নেতার সভাপতিত্বে এবং অন্য এক নেতার সাবলীল সঞ্চালনায় এই জনসমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য পেশ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলসহ খেলাফত মজলিসের শীর্ষ আমির।
এছাড়া উক্ত আয়োজনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন এবং ১১ দলীয় জোটের একাধিক কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতা এবং গণপ্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়ে মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন এবং বর্তমান পরিস্থিতির নানা দিক তুলে ধরেন।
খুলনায় পৌঁছানোর পূর্বলগ্নে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মহাসড়কের কাটাখালি নামক স্থানে লংমার্চের একটি পথসভায় প্রধান অতিথি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, জনতার মৌলিক সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষে তারা প্রকাশ্য রাজপথে নেমেছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে বিশাল জনতা যে ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় দিয়েছে, তা যেকোনো মূল্যে বর্তমান সরকারকে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জনগণের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা মেনে নেওয়া হবে না।
গণভোটের রায় মেনে নিলে অন্যান্য সংকটগুলোর তীব্রতা এমনিতেই হ্রাস পেত বলে মন্তব্য করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দেন যে, স্বেচ্ছায় এই রায় মেনে নেওয়া না হলে জনগণ নিজেই জানে কীভাবে তাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করে নিতে হয়।
উক্ত পথসভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ছাড়াও জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বিভিন্ন এলাকার একাধিক সংসদ সদস্য, স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ এবং ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর